লক্ষ্মীপুরে কলা গাছের শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

স্যার বলেছে মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হয়। কিন্তু আমাদের স্কুলে’তো শহীদ মিনার নেই, কিভাবে শ্রদ্ধা জানাবো। তাই কলাগাছ দিয়ে স্যারদের সহযোগিতায় স্কুল মাঠে শহীদ মিনার তৈরি করেছি। সেখানেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে জানালেন বিনম্র শ্রদ্ধা।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পূর্ব ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ফাতেমা জার্জিনা মিথিলা ২১ ফেব্রুয়ারি ভোর বেলায় নিজ স্কুল আঙিনায় প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন।

মিথিলা আরো বলেন, সালাম, জব্বার, রফিকসহ বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের কর্তব্য। তাই মিথিলা আক্ষেপ করে বলেন, ভাষা আন্দোলনের এত বছর পরেও স্কুলটিতে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই, তাইতো যথাযথভাবে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

শুধু মিথিলা নয়, লক্ষ্মীপুরের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এমন আক্ষেপ। নিজ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায়, বাঁশ ও কলাগাছ দিয়ে নির্মিত প্রতীকি শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। কেউবা আবার দোয়া ও আলোচনা সভা, রচনা, কবিতা, বক্তব্য প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালন করেন।

কুশাখালি এ্যানি চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, নিজেদের স্কুলে না থাকায় পার্শ্ববর্তি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শহীদদের। এছাড়াও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শিক্ষার্থীদের জানানোর জন্য আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি রচনা, কবিতা ও বক্তব্য প্রতিযোগিতা ও করা হয়।

সাবেক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল এবং বর্তমান লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এর নিজ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাইশমারা মডেল একাডেমীতেও নেই শহীদ মিনার। স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলেন মন্ত্রীর ছোট ভাই ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। তবে বারবার মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েও একটি শহীদ মিনার পায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। তাইতো পার্শ্ববর্তি লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউড এর শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলে জানালেন স্কুলটির প্রধান শিক্ষক আহছান উল্লাহ।

জেলা শিক্ষা অফিসার সুরিৎ কুমার চাকমা বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেগুলোর তালিকা করা হয়েছে। দ্রুতই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেগুলোর তালিকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নির্মান করা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত বরাদ্ধ না থাকায় সবকয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মান করা সম্ভব হয়নি।

শীর্ষ সংবাদ/এফএইচ