১২৫ দেশে লাল সবুজের পতাকা তুলে ধরলেন লক্ষ্মীপুরের নাজমুন নাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক :  

লাল সবুজের পতাকা হাতে বিশ্ব মানচিত্রের ১২৫টি দেশ ভ্রমণ করেছেন (লক্ষ্মীপুরের সন্তান) বাংলাদেশের নারী নাজমুন নাহার। এবারের তিন মাস সফরে টানা সড়ক পথে ভ্রমণ করেন পশ্চিম আফ্রিকার ১৫টি দেশ। আজ সোমবার সকালে সড়ক পথে তিনি পৌঁছান নাইজেরিয়ার লাগোস শহরে।

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত গত তিন মাস তিনি তার ভ্রমণের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তের মোকাবেলা করেন পশ্চিম আফ্রিকার পথে পথে। সাহারা মরুভূমি ও উত্তর আটলান্টিকের পাশ ঘেঁষে যাওয়া সব দেশ গুলো ভ্রমণের জন্য যে ভাবে ম্যাপ করেছেন নাজমুন ঠিক সে ভাবেই তিনি পাড়ি দিয়েছেন।

তিনি মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, গাম্বিয়া, মালি, গিনি বিসাও, গিনি কোনাক্রি, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, আইভরিকোস্ট, বুরকিনা ফাসো, গানা, টগো, বেনিন, নাইজার, নাইজেরিয়া ভ্রমণের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রের সবচেয়ে কঠিন পথ অতিক্রম করেন।

পশ্চিম আফ্রিকা ভ্রমণ অনেক চ্যালেঞ্জিং হলেও এই আফ্রিকার গোল্ড কোস্ট লাইনের দেশগুলো তাকে অনেক দুর্লভ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। তার এই দুর্দান্ত যাত্রা খুব একটা সহজ ছিল না।

কোনো বাঁধাই তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। লাল সবুজের পতাকা হাতে সাহারার তপ্ত মরু থেকে শুরু করে সমুদ্রের তলদেশ, পর্বত শৃঙ্গ, শহর, বন্দর, আফ্রিকার দুর্গম জঙ্গল সব জায়গায় যার পদচিহ্ন পড়ছে একে একে।

সব কঠিনকে অতিক্রম করে বাংলাদেশের এই নারী সম্প্রতি কয়েক হাজার মাইল সড়ক পথে পাড়ি দিয়ে পশ্চিম আফ্রিকার সব কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করে এক অনন্য মাইল ফলক গড়েন। পাশা পাশি তিনি তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকাকে পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়াও পশ্চিম আফ্রিকার পথে পথে তিনি স্কুল, কলেজ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিশ্ব শান্তির বার্তা পৌঁছান।

বাংলাদেশের পতাকা হাতে তার এই দুর্বার দেশ জয় কতটা কঠিন ও বিপদসংকুল অভিযাত্রা ছিলো তা নিয়েই তিনি বলেন- যা কঠিন তা সুন্দর। পশ্চিম আফ্রিকা ভ্রমণের সময়ও আমি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। মৃত্যুকে জয় করে আজ আমার বেঁচে থাকা এই মৃত্যুঞ্জয়ী আমি বাকি সব দেশ ভ্রমণের স্বপ্ন দেখছি এখনও।

দুরহ পথ সাধ্য করেছেন নাজমুন নাহার। বলা চলে হার না মানা বাংলাদেশের এই সাহসী নারী। তিনি বলেন- ` বাংলাদেশের লাল সবুজের এই পতাকা আমার কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি। এই পতাকা আমাকে ছায়া দিয়েছে অনেক।বাংলাদেশের পতাকা হাতে যখনি আমি নতুন কোনো দেশের সীমান্তে পা দিয়েছি তখনই আমার সঙ্গে যেন জেগে উঠেছে ষোলো কোটি প্রাণ।