রায়পুরে উপজেলা চেয়ারম্যান হতে চান আ’লীগের ৬ প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের মনোনয়ন নিয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন সরকার দলীয় নেতারা।

রায়পুর উপজেলা থেকে আ’লীগের ৬ প্রার্থী প্রচারণা শুরু করেছেন।

গত উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীকে হারিয়ে আ’লীগ নেতা মাস্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদার (নৌকা) বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। গত ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়াকে (ধানের শীষ) পরাজিত করে কুয়েতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শহিদ ইসলাম (আপেল) বিপুল ভোটে জয়লাভ করে।

আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের যে কোন সময় তফসিল ঘোষনা করবেন এবং মার্চ মাসে কয়েকধাপে প্রস্তুতি শুরু করেছেন ইলেকশন কমিশন (ইসি)। তাই আ’লীগের পাশাপাশি বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত ইসলামসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ চায়ের আসরে নিজেদেরকে মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে ভোটারদের কাছে দোয়ার পাশাপাশি ভোট চাওয়া শুরু করে দিয়েছেন।

এছাড়াও প্রার্থীদের শুভাকাংঙ্খীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেইজবুক) প্রচারণা করছেন ও দোয়া চাইছেন। যদিও এখনো নির্বাচন কমিশন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি। কিন্তু রায়পুরে সম্ভাব্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা আগেভাগেই চায়ের দোকান থেকে শুর করে উপজেলার গ্রামে গ্রামে দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে দোয়া ও সমর্থন চাইছেন।

তবে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি বা অন্য কোনো দলের কারো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।

এখন পর্যন্ত রায়পুর উপজেলায় আওয়ামীলীগের আট নেতা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদার, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ, সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা আ’লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান, জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আ’লীগের সদস্য এডভোকেট মিজানুর রহমান মুন্সি, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মঞ্জুর হোসেন সুমন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মারুফ বিন জাকারিয়া।

মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তাদের সপক্ষে সমর্থন পাওয়ার জন্য দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেইজবুকে) সম্ভাব্য প্রার্থী ও তার সমর্থকরা দলের নেতাকর্মীদের সমর্থন আদায়ের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন।

দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে সবাই আশাবাদী। চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর থেকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আ’লীগের রাজনীতিতে বিভিন্ন পদে থেকে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। দীর্ঘদিন থেকে আমি পদ বঞ্চিত। একজন ত্যাগি নেতা হিসেবে দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে দলের কর্মী ও মানুষের খেদমত করিব।

উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মঞ্জুর হোসেন সুমন বলেন, গত তিন বছর ধরে যুবলীগের নেতাকর্মীদের দিয়ে সু-সংগটিতভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছি। ইউপি মেম্বারদের প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। নতুন নেতৃত্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুব সমাজকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। আমাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে আমি নির্বাচিত হবো।