লক্ষ্মীপুরে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে কুপিয়েছে যুবলীগ কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মো: শাকিলকে কুপিয়েছে যুবলীগ কর্মী ইব্রাহীম। এতে মারাত্বকভাবে আহত হয় শাকিল। গত মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) উপজেলার দক্ষিণ দাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় লামচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী শরীফ ও সজীব আহত হয়।

এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা শাকিলের স্ত্রী জোৎসা বেগম বাদী হয়ে বুধবার (৯ জানুয়ারি) রামগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। এতে যুবলীগ কর্মী ইব্রাহীম ও তাঁর সহযোগী দোকানদার কামাল এবং নিশানের নাম উল্লেখ করে ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত করে এ মামলা করা হয়।
মারাত্বক আহত মো: শাকিল ৬ নং লামচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক ও একই ইউনিয়নের দক্ষিণ দাসপাড়া এলাকার আট হাজারি বাড়ির নুরুল আমিনের ছেলে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকেই দক্ষিণ দাসপাড়া এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাইবো) এর খালের কিছু অংশে মাছ চাষ করছেন সজীব, শরীফ ও তাদের কয়েকজন সহপাঠী। কিন্তু হঠাৎ করে তাঁর পাশের অংশে ইব্রাহীম ও তাঁর সহযোগীরা বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরছে। বিষ প্রয়োগের কারনে নিজেদের চাষের অংশের মাছ মারা যাওয়ার ভয়ে প্রতিবাদ করে সজীব ও শরীফ। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে ইব্রাহীম ও তাঁর সহযোগীরা। এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে সজীব ও শরীফকে। পরে ঘটনাস্থলে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা শাকিল উপস্থিত হয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করে। কিন্তু ইব্রাহীম সুকৌশলে শাকিলকে কামালের দোকানে ভিতর নিয়ে যায়। সেখানে বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ করে শাকিলকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে। এছাড়াও ইব্রাহীম তাঁর লোকজনকে নিয়ে রট-পাইপ দিয়ে পিটিয়ে মারাত্বকভাবে আহত করে শাকিলকে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, ইব্রাহীম দীর্ঘদিন থেকেই তাঁর সহযোগীদের নিয়ে যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না দলীয় কর্মীরাও। তাই তারা ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা ও জেলা নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

শাকিলের বড় ভাই শাহজাহান বলেন, ছোট ভাইকে মারার ঘটনা শুনে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারি ইব্রাহীম তাঁর লোকজন নিয়ে শাকিলকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়েছে ও মারধর করেছে। শাকিল বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে শাকিলকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইব্রাহীমের বক্তব্য নেওয়া সম্বব হয়নি।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোতা মিয়া জানান, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তিন জনের নাম উল্লেখ করে ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত করে এ মামলা করা হয়। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে দ্রুতই গ্রেফতার করা হবে আসামীদের।

শীর্ষ  সংবাদ/এফএইচ