অধিক বিক্রিতে মাইকিং, অতিষ্ট লক্ষ্মীপুরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

অধিক বিক্রির লক্ষ্যে মাইকিং করছেন লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের অভিজাত চাইনিজ রেস্টুরেন্ট সোনার বাংলা ও ঘরোয়া হোটেল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রেস্তোরাগুলোর মাইকিংয়ের মাত্রাতিরিক্ত শব্দে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পাশাপাশি জনজীবনেও পড়েছে এর প্রভাব। অন্যদিকে এর সাথে প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করছেন না। তবে জেলা প্রশাসক বলছেন অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

জানা যায়, শব্দ দূষণের কারণে একজন মানুষের শ্রবণ শক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, দুশ্চিন্তা, আলসার, হৃদরোগ, মাথাব্যাথাসহ নানা সমস্যার তৈরি হতে পারে। এমনকি অতিরিক্ত শব্দের পরিবেশে থাকলে শিশুর জন্মগত ক্রটির তৈরি হবার আশংকা থাকে। অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত শব্দের কারণে ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাভাবিক কার্যকলাপ ভীষণভাবে প্রভাব পড়ে। বিধি অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, উপাসনালয়ের সামনে এবং আবাসিক এলাকায় মাইকিং করা, হর্ন বাজানো ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে জোরে শব্দ সৃষ্টি করা আইনত দন্ডনীয়।

আরো জানা যায়, শব্দদূষন (নিয়ন্ত্রন) বিধিমালা ২০০৬ অনুসারে নীরব এলাকায় দিনে ৪৫ ডেসিবল এবং রাতে ৩৫ ডেসিবলের মধ্যে শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় এই মাত্রা দিনে ৫০ ও রাতে ৪০ ডেসিবল। এছাড়া বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ও রাতে ৬০ ডেসিবল, শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ডেসিবল ও রাতে ৭০ ডেসিবল এবং মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ও রাতে ৫০ ডেসিবল শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিধিমালা লঙ্গনের দায়ে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে প্রথমবার এক মাস কারাদন্ড বা পাঁট হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডের বিধান আছে। পরবর্তী সময়ে একই অপরাধে ছয় মাস কারাদ- বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান যুক্ত হয়েছে।

কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শহরের পৌর আধুনিক বিপনী বিতানের ৪র্থ তলায় সোনার বাংলা চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এন্ড হোটেল। অধিক বিক্রির প্রত্যাশায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রেস্টুরেন্টির সামনেই মাইকিং করা হচ্ছে। অথচ রেস্টরেন্ট এর কয়েকগজ দুরেই রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়। একই অবস্থা উত্তর তেমুহনী নিউ মার্কেটের নিজ তলায় অবস্থিত ঘরোয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর।

উচ্চমাত্রার এ শব্দের কারনে শব্দ দূষণ হচ্ছে। কিন্তু দূষণরোধে প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। এতে শব্দদূষণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শহরবাসী। তবে রেস্টুরেন্টগুলো প্রভাবশালীদের হওয়ায় ভয়ে স্থানীয় কেউ প্রতিবাদ করছেনা বলেও জানা যায়।

এ বিষয়ে রেস্টুরেন্টের মালিকদের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, নতুন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মাইকিং করা হচ্ছে। তবে তারা মনে করছেন এ মাইকিংয়ের ফলে শব্দ দূষণ হচ্ছে না। যদি শব্দ দূষণ হয় তাহলে মাইকিং বন্ধ করা হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোস্তফা খালেদ আহমেদ বলেন, উচ্চমাত্রার শব্দের কারনে মানবদেহের রক্তচাপ, হৃৎকম্পন বাড়িয়ে মৃত্যুঝুঁকি ও শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মত অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হয়। শিক্ষার্থীরা অমনোযোগী হয়ে পড়ে লেখাপড়ায়।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শীর্ষ সংবাদ/এফএইচ