লক্ষ্মীপুর-৩: সম্পদে এগিয়ে পিংকু, মামলায় এ্যানি, জনপ্রিয়তায় শাহজাহান

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে মামলায় এগিয়ে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সম্পদে এগিয়ে মোহাম্মদ গোলাম ফারুক পিংকু এবং জনপ্রিয়তায় এ কে এম শাহজাহান কামাল।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক। তিনি ছাড়া এ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবুও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা সভাপতি মোহাম্মদ গোলাম ফারুক পিংকু ও বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল।

দুই দলের চারজন প্রার্থী থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে দুইজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন দলীয় সিদ্ধান্তে।

দীর্ঘদিন ক্ষমতার  বাইরে থাকায় বিএনপির দূর্গ হিসেবে খ্যাত এই আসনটি  এখন আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে রুপান্তরিত হয়েছে। অন্যদিকে হামলা-মামলায় জর্জরিত এখানের বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলকে সুসংগঠিত করা সম্ভব হয়নি জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপিংয়ের কারণে। তাইতো বহু কর্মীই বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

আসনটিতে মনোনয়ন দাখিল করা বড় দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে মামলায় এগিয়ে আছেন বিএনপির  শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় দেখা যায় তার বিরুদ্ধে নাশকতাসহ ৪৬ টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও ২০ টি  মামলা থেকে অব্যহতি পেয়েছেন। অন্যদিকে এ্যানির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৪০ লাখ ২১ হাজার ৭৬০ টাকা। তার স্ত্রীর ৩ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার ৩৯৯ টাকা। এ্যানির ঋণ রয়েছে ৫৯ লাখ ২ হাজার টাকা।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া মোহাম্মদ গোলাম ফারুক পিংকু পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি আল-ফারুক ইন্টারন্যাশনালের স্বত্তাধিকারী। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামা অনুযায়ী বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে একক সম্পদে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫ কোটি ৬০ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ টাকা। পিংকুর ঋণ রয়েছে ২ কোটি ৫৯ হাজার টাকা। নেই তার বিরুদ্ধে কোন  মামলা।

অন্যদিকে বিমান ও পর্যটন  মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান একজন ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার। বঙ্গবন্ধু শেখ  মুজিবুর রহমানের সময় তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে করেছেন সহযোগীতা। বিশেষ করে গরিব-অসহায় মানুষদের পাশে ছিলেন সবসময়। এছাড়াও তিনি সংসদীয় আসনটির রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে করেছেন ব্যাপক উন্নয়ন। যার ফলে দলীয় সমর্থনের বাইরেও যথেষ্ট ভোট ব্যাংক  রয়েছে তার। জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সারির  কয়েকজন নেতা।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা যায়, তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৩৩ হাজার ৭১৬ টাকা ও যৌথ মালিকানায় ২ কোটি ৪১ হাজার ৭১৬ টাকা। তার বিরুদ্ধে নেই কোন মামলা।