শিশুদের কথা শেখার ক্ষেত্রে বাধা স্মার্টফোন

Print Friendly, PDF & Email

স্মার্টফোন বিশ্বজুড়েই বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ছোট এই ডিভাইস দিয়ে সবকিছু করা যায় বলে মানুষ অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে এর ওপর। বাসা, রাস্তা-ঘাট, রেস্টুরেন্টে সব জায়গায় মানুষদের স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়।

দিনশেষেও বাসায় এসে স্মার্টফোন হাতে নেয়া অভ্যাসে পরিণত হয়েছে অনেকের। কিন্তু এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। তাদের সাথে কথা কম বলার কারণে শিশুরা কথা শুনছে কম, ফলে শিখছেও কম।

অবশ্য আমাদের অনেকেই এটা বুঝতে পারিনা। এজন্য বাসায় এসেই তাদের হাতে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ দিয়ে নিজেও একটি একটি ডিভাইস নিয়ে বসে যাই। পরবর্তীতে শিশু সময়মতো কথা না শিখলে চিন্তার ভাঁজ পড়ে কপালে।

এক সমীক্ষার বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, বর্তমান সময়ে স্পিচ থেরাপিস্টের কাছে দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ভিড় বেড়ে গেছে। শিশুরা কথা বলতে পারছে না। এর কারণ, বাড়িতে তাদের সাথে কথা বলার কেউ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু কারও সাথে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় কথা শিখছে না। কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে না। সে নিজেকে প্রকাশও করতে পারছে না। প্রাথমিক উপসর্গ দেখে অনেকেই ভেবে নিচ্ছেন, অটিজম। পরে বোঝা যাচ্ছে, আসল সমস্যা অন্য।

তারা আরও বলছেন, জন্মের কয়েক মাস পর থেকেই ‘স্ক্রিন টাইম’ (বেশিরভাগ সময় মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটার বা টিভির দিকে তাকিয়ে থাকা) গ্রাস করেছে তাকে। কলকাতার শিশু চিকিৎসকদের অধিকাংশই জানাচ্ছেন, এই আসক্তি ক্রমশ ‘মহামারী’র চেহারা নিচ্ছে।

স্মার্টফোন শুধু শিশুদের কথা বলার ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি করছে না। তাদের মনোযোগ নষ্ট করাসহ চোখের জ্যোতিও কমিয়ে দিচ্ছে ডিভাইসটি। এজন্য অভিভাবকসহ সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।