ড্রাকুলা হইতে মন চায়!

Print Friendly, PDF & Email

কনিষ্ঠ পুত্র নিনিত হুমায়ূন এর জন্মের সময় প্রথম রক্ত নিতে হয় আমার। ৩ ধাপে ৫ ব্যাগ রক্ত নিয়েছিলাম সেবার। রক্তের গ্রুপ খুব ফালতু টাইপের সাধারণ হওয়াতে ডোনার পেতে কোনো সমস্যাই হয়নি আমার। প্রথম দুই ব্যাগ রক্ত দিলেন আমার বাবার অফিসের একজন কর্মী- শ্রী রাজন চন্দ্র সাহা।

পরের বার রক্ত দিলেন- দীলিপ বড়ুয়া। তিনিও বাবার অফিসের। শেষবার কার কাছ থেকে যে রক্ত নেয়া হলো জানি না… কিন্তু হুমায়ূন বলে বেড়াতে লাগলেন শেষবারের ২ ব্যাগ রক্ত নাকি একজন খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী আর একজন মুসলিম ধর্মাবলম্বীর কাছ থেকে পাওয়া গেছে! আমি যদিও তার কথার ফাঁকফোকর বুঝি, তারপরও কথা সাহিত্যিক মহাশয় রঙচঙ মাখিয়ে যে গল্প সবাইকে বলতে লাগলেন- আমারই বিশ্বাস হতে লাগল!

‘বাহ… আমার পুত্রের জন্য তো সব ধর্মের মানুষের রক্ত নেয়া হলো! আমার পুত্র বড় হবে ধর্মনিরপক্ষ মানুষ হয়ে।’ বললেন তিনি।

পুত্রের জন্য একখান নামও ঠিক করে ফেললেন! ‘বাবু আড়িয়াল চন্দ্র গোমেজ বড়ুয়া খাঁ’। পুত্রের জন্মের পর বহুদিন এ নামে ডাকাও হয়েছে তাকে!

গত বেশ কিছুদিন ধরে রক্ত স্বল্পতার সমস্যায় ভুগছি আবার। হাসপাতাল-বাসা-হাসপাতাল ছুটা-ছুটিতে ক্লান্ত। ওষুধ পথ্যে কচ্ছপের গতিতেও কাজ হচ্ছে না! ড্রাকুলার মতো তাজা রক্ত খেতে পারলে ভালো হতো! কিংবা লোহালক্কর চিবিয়ে খেলেও হয়তো আয়রন ওম্যান হয়ে যেতে পারতাম!

এসব ভুজং ভাজং দিয়ে তো আর হেমাটোলজিস্ট এর কাছে পার পাওয়া যায় না! তাই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রক্ত গ্রহণে বাধ্য হইলাম।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)