মা ইলিশ রক্ষণ অভিযানে লক্ষ্মীপুরসহ ৮ জেলায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সরঞ্জাম উদ্ধার

Print Friendly, PDF & Email

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে গত ২২ দিনে লক্ষ্মীপুরসহ ৮ জেলায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা মূল্যের মাছ ধরার অবৈধ সরঞ্জামাদি ও ইলিশ জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড বাহিনী দক্ষিণ জোন। এসময় নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী ৪৭১ জন জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সমাপনান্তে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২২দিনের ৬৮২টি অভিযানের একটি প্রতিবেদ তুলে ধরেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন। সোমবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ভোলা জেলা কোস্টগার্ডের কার্যালয়ে আট জেলার সাংবাদিকদের নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে জানানো হয়, ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৭-২৮ অক্টোবর পর্যন্ত  ২২দিন নদীতে মাছ ধরা নিষেধ ছিলো। এসময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনী দক্ষিণ জোনের অধিনস্থ সকল বেইজ, জাহাজ, স্টেশান ও আইটপোস্টসমূহে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সাথে সমন্বয়ে নদীতে ৬৮০টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে দক্ষিণ জোন ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫০মিটার কারেন্ট জাল, ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫শ’ মিটার সুতার জাল, ২ পিস বেহুন্দী জাল, ৪৫ হাজার ৮শ মিটার চরঘেরা জাল, ৮০ টি ইঞ্জিন চালিত কাঠের বোট উদ্ধার করা হয়। এছাাড়াও ৪ হাজার ৮৫ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। এসব সরঞ্জামাধির আনুমানিক মূল ৫ কোটি ৫০ লক্ষ ৯৬ হাজার ৫শ’ টাকা। উদ্ধারকৃত জাল আগুণে পুরে বিনষ্ট করা হয় এবং ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়। অভিযানে দক্ষিণ জোনে দায়িত্বাধীণ এলাকা সমূহে ৪৭২জন জেলেকে  আটক করা হয়। এসব জেলেদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়।
২২দিন ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শেষে সোমবার থেকে জেলেরা আবার নদীতে মাছ শিকার শুরু করে। এতে জেলেদের মাঝে আনন্দ ফিরে এসেছে। তবে অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার রোধে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যহত থাকবে। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এব বছর কোস্টগার্ড মা ইলিশ রক্ষায় প্রসংশনীয় অভিযান পরিচালনা করেন বলে বক্তারা জানায় ।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের (সদর দপ্তর ঢাকা) পরিচালক অপারেশান্স ক্যাপ্টেন এম ইকরাম হোসেন (ট্যাজ), পিসিজিএম, এওডব্লিউসি, পিএসসি,বিএন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম রকিব উদ্দিন ভূঁইয়া, (ট্যাজ), পিএসসি, বিএন, ভোলা বিসিজি বেইস অধিনায়ক কমান্ডার এস এম আনোয়ারুল করিম, (এনডি) বিএন, স্টাফ অফিসার অপারেশান্স (ঢাকা) কমান্ডার এম জুলহাস ফয়সাল (জি) পিসিজিএম, বিএন, ভোলা (বিসিজি বেইজ) নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার এম হামিদুল ইসলাম (ট্যাজ), বিএন ও দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার অপারেশান্স  লে. কমান্ডার এম নুরুজ্জামান শেখ (এক্স) বিএন।