দুর্গা মাকে বরণে ব্যস্ত লক্ষ্মীপুরের ভক্তরা

Print Friendly, PDF & Email
দেবীর আগমনে শেষ তুলির আচঁল দিতে ব্যস্ত কারিগর। ছবি: ফরহাদ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বছর ঘুরতেই আবার দেবী দুর্গা আসছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভক্তদের মাঝে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে অপেক্ষার প্রহর ততই বেড়েছে। কিন্তু তাতে কি, তাঁর আগমনে আনন্দতো আজ প্রত্যকটি হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে। দেবীর আগমনে শেষ তুলির আচঁল দিতে লক্ষ্মীপুরের ৭৮টি পূজা মন্ডপে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। বরণ করে নিতে ব্যস্ত দেবী দুর্গা মায়ের ভক্তরা। ঘর-দুয়ার পরিস্কার আর নতুন সাজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে এখন ব্যস্ত তারা।

দর্শনার্থীদের চোখ জুড়ানোর জন্য সাজসজ্জা ও প্রতিমা তৈরি প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছে মন্দিরগুলোর আয়োজকরা। আগামী ১৪ অক্টোবর মহাপঞ্চমী পূজা থেকে মন্ডপে মন্ডপে বেজে উঠবে ঢাক-ঢোল আর কাসার শব্দ। পাঁচ দিনের উৎসবের পর ১৯ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের পর ঘটবে সমাপ্তি।

জানা যায়, এবার জেলার ৭৮টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৩টি, রায়পুরে ১১টি, রামগঞ্জে ২০টি, রামগতিতে ১১টি ও কমলনগরে ৩টি। বর্তমানে এ সব পূজা মন্ডপে পুরোদমে চলছে প্রতিমা তৈরী ও দৃষ্টিনন্দন সাজ-সজ্জার কাজ। এবছর মর্তেলোকে ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে আসবেন দেবী। দশমীতে জল বিসর্জনায় শিবের সঙ্গে স্বামীর গৃহে ফিরে যাবেন পালকীতে সওয়ার হয়ে। উৎসবে নিরাপত্তার জন্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার শ্যামসুন্দর জিউর আখড়া ও শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালি বাড়ীর মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রতিমা তৈরি, রঙ-তুলি ও সাজ-সজ্জার প্রস্তুতি। শিল্পী ও কারিগরদের নিপুণ হাতের তৈরি প্রতিমায় চলছে রঙসহ অলংকার পরানোর কাজ। দেবী দুর্গাকে বরণ করতে সব জায়গায় চলছে সাজ সাজ রব। এ ছাড়া কাঠ, বাঁশ, ককশিট, কাপড় ও রঙ ব্যবহার করে কারুকার্য খচিত মন্ডপ সাজিয়ে তোলার কাজ করা হচ্ছে। এবার লক্ষ্মীপুরে প্রতিমা কারিগরদের শৈল্পিক কাজে আধুনিকতা ও নতুনত্বের ছোঁয়া লাগায় দর্শকদের মন কাড়বে। আকর্ষণীয় প্রতিমা ও পূজা মন্ডপগুলো দেখতে পূর্বের চেয়ে কয়েকগুন বেশী ভীড় জমবে দর্শকদের এমনটি ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

প্রতিমা তৈরির কারিগররা জানান, পূজা আসলেই তাদের কাজ বেড়ে যায় কয়েকগুন। এখন চলছে শেষ মূহুর্তের কাজ। তাইতো ভোর থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করছেন। তবে এবার প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম পূর্বের চেয়ে কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ায় লাভ তেমন হবেনা। তারপরেও সংসারের যাবতীয় খরচ এর উপরই নির্ভর করে।

দেবী দুর্গার আগমনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে বইছে আনন্দের জোয়ার এমনটি শীর্ষ সংবাদকে জানিয়েছেন কয়েকজন ভক্ত। তারা আরো জানান, দুর্গা মা পৃথিবীতে বিরাজমান অন্যায়-অনাচার দূর করে সুখ-শান্তিতে পরশ বুলিয়ে দেবেন বলে প্রত্যাশা তাদের। তাইতো মাকে বরণ করতে ঘর-দুয়ার পরিস্কার আর নতুন সাজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে এখন ব্যস্ত তারা। কেউবা আবার ব্যস্ত রয়েছেন পূজা মন্ডপ সাজাতে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু শঙ্কর মজুমদার জানান, জেলার সবকয়টি পূজা মন্ডপে উৎসবের যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে। মন্ডপগুলোতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারো স্থানীয় সে¦চ্ছাসেবকদের পাশাপাশি পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। তবে তিনি আশা করছেন প্রশাসনের যথাযথ সহযোগীতা পাওয়া গেলে অন্যান্য বছরের মতো এবারও নির্বিঘেœ পূজা উদযাপন করতে পারবে।

পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন এই প্রতিবেদককে জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো, সবার সার্বিক সহযোগিতায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় উৎসব দূর্গা পূজা আনন্দঘন পরিবেশে শুরু ও শেষ হবে। এ উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার বাহিনী সদস্যরা কাজ করবেন।

শীর্ষ সংবাদ/এফএইচ