অস্তিত্ব সংকটে রামগঞ্জ শিশু পার্ক

Print Friendly, PDF & Email
দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় অস্তিত্ব সংকটে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ শিশু পার্ক। ছবি: ফরহাদ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ শিশু পার্ক এখন ময়লা আবর্জনার বাগাড় ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিনত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় উপজেলার শিশু-কিশোরদের বিনোদনের মাধ্যম এই পার্কটি অস্তিত্ব হারাচ্ছে। ফলে বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয়রা।

শিশু পার্কটিতে গরু-ছাগলের চরণ ভূমি, গাড়ির গ্যারেজ, বাড়ি ও রাস্তা নির্মাণ সামগ্রীর স্তুপ রাখা হয়েছে। এছাড়াও পার্কটির সকল প্রকার রাইড, খেলনা, সীমানা প্রাচীরের রড ও বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবাপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে। সব কিছু হারিয়ে শূন্য মাঠে পরিণত হয়েছে পার্কটি। যার ফলে রাজনৈতিক সভা-সেমিনার ও বিভিন্ন সময় মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে শিশুদের এই বিনোদন স্পর্টে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় নষ্ট হচ্ছে পার্কটির অবকাঠামো ও বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার এমনটি দাবি স্থানীয়দের।

রামগঞ্জ শিশু পার্কটির বিষয়ে কোন তথ্য দেননি জেলা পরিষদ। বরং উল্টো পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু দাউদ মো. মোস্তফা দাবি করেন দীর্ঘদিন তিনিও খুঁজছেন ফাইলটি কিন্তু পাচ্ছেন না। সংস্কারের জন্য কিভাবে নতুন বরাদ্ধ দিয়েছেন ফাইল ছাড়া? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, পার্কটির নাম অনুযায়ী বরাদ্ধ দিয়েছি। তবে পার্কটি সম্পর্কিত বিস্তারিত লিপিবদ্ধ ফাইলটি কয়েকবার খুঁজেও পায়নি। তাই পার্ক সংশ্লিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারছি না।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, এখানানকার মানুষের চিত্রবিনোদনের জন্য ২০০৫ সালের ১৪ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে রামগঞ্জ শিশু পার্ক। তৎকালীন জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মরহুম জিয়াউল হক জিয়া পার্কটির উদ্বোধন করেন। পার্কটির ভিতরে নির্মাণ করা হয়ে পাকা বেঞ্চ, দোলনা, লেক-ব্রীজসহ শিশুদের খেলার সমাগ্রী। সেই সাথে পার্কটিতে বিভিন্ন জাতের ফুল-ফল ও কাঠের গাঠ লাগানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিশুপার্কটি যথাযথভাবে চালু করার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

রামগঞ্জ সরকারি কলেজ শিক্ষার্থী সাজ্জাদ ও পার্ক সংলগ্ন স্কুলের রাফি, নাসির বলেন, পার্কটিতে এক সময় ছিলো অনেকগুলো রাইডস ও বিনোদনের সুব্যবস্থা। তথন পার্কটি প্রতিদিনই শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখরিত থাকতো। বর্তমানে সেই পার্কটির চিত্র সম্পূর্ন উল্টো। এছাড়াও পার্কটির মূল্যবান জিনিস ও আসবাবপত্রগুলো চুরি হয়ে গেছে।
মনির নামে পৌর শহরের এক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কার না হওয়ায় পার্কটির চিত্র একটি খোলা মাঠের মতই। অন্যদিকে পার্কটির একমাত্র লেক দেখে মনে হচ্ছে বুড়িগঙ্গা নদী। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় জন্যই রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সবাই যে যার মত করে ব্যবহার করছে পার্কটিকে। এক কথায় শিশু পার্কটি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।

স্কুল শিক্ষিকা আয়েশা আক্তার রুমি বলেন, এখানে বিনোদনের সুব্যবস্থা না থাকায় সন্তানদের নিয়ে যেতে হয় জেলা শহরের অথবা তার বাইরের পার্কগুলোতে। এতে অর্থ ও সময় দুইটাই নষ্ট হচ্ছে। এজন্য পার্কটি সংস্কার ও প্রয়োজনীয় রাইডস সংগ্রহ করে আধুনিক পার্কে রুপান্তরিত করার দাবি করেন তিনি। এতে করে শিশুদের যেমন বিনোদনের ব্যবস্থা হবে তেমনি সরকারের আয় হবে প্রচুর রাজস্ব।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে পার্কটি। বর্তমানে পার্কের কিছু অংশ সংস্কারের জন্য দশ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বরাদ্ধের মাধ্যমে পুর্নাঙ্গ সংস্কার করা হবে। অন্যদিকে পার্কে রাখা রাস্তা ও বাড়ি নির্মান সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অন্য সমস্যাগুলো সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।