‘মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক লেনদেন ৯৯৪ কোটি টাকা’

Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, চলতি বছরের জুলাই মাসের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে ৯৯৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে থাকে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সর্বমোট গ্রাহক ৬ কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে তিন কোটি ৬ লাখ গ্রাহক সক্রিয়ভাবে লেনদেন করছে।

বৃহস্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের ২২তম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সামশুল হক চৌধুরীর (চট্টগ্রাম-১২) প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

১৪ হাজার মিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছাড় হয়েছে ৬ হাজার ২৯০ মিলিয়ন ডলার :

এ কে এম রহমতুল্লাহ্ (ঢাকা-১১)-এর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থাগুলো থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের আশ্বাসের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৬১২.১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ২৩১. ৪৫ মিলিয়ন ডলার। তবে এরমধ্যে অর্থ ছাড় হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ২৯০.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ছাড়কৃত অর্থের মধ্যে ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৯১০.১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ ৩৮০.৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য তথ্যানুযায়ী, ঋণ ও অনুদান দেয়া দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিশ্রুত ৭৮০ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে পাওয়া গেছে ৮৯৬ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইডিএ (বিশ্বব্যাংক) প্রতিশ্রুতি ২৯৩০ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ১৪২২ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাশিয়ার প্রতিশ্রুত সব অর্থ পাওয়া গেছে, দেশটি থেকে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৮৩২ দশমিক ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীনের প্রতিশ্রুত ৩৬০৭ দশমিক ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৯৭৮ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ইউএন সংস্থার প্রতিশ্রুতি ১৮৩ দশমিক ০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ১৬৯ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আইডিবির প্রতিশ্রুতি ১১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, জাপানের প্রতিশ্রুত ১৮২৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ১৫৪৪ দশমিক ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতের প্রতিশ্রুত ৪৫০৭ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৪৯ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অর্থমন্ত্রী জানান, দাতাদেশ ও সংস্থা থেকে প্রাপ্ত ঋণ ও অনুদান বৈদেশিক সাহায্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান, পানি সম্পদ, বৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ, শিক্ষা ও ধর্ম, স্বাস্থ্য-পুষ্টি জনসংখ্যা ও পরিবার পরিকল্যাণ, সমাজ কল্যাণ-যুব উন্নয়ন ও মহিলা বিষয়ক, জনপ্রশাস, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, গণ যোগাযোগ, বিজ্ঞান-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেক্টর ও সাব- সেক্টরে সর্বাধিক ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রবৃদ্ধি বাড়লে দারিদ্র হ্রাস পায়, সুফল সবার কাছে পৌঁছায় না :

মো. সোহরাব উদ্দিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সাধারণভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়লে দারিদ্র হ্রাস পায়। তবে, অর্থনীতির কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রবৃদ্ধির সুফল সমানভাবে সকলের কাছে পৌঁছায় না। দারিদ্র ও অসমতার হ্রাসের ক্ষেত্রে আমরা করকাঠামো সংস্কার, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্রঋণ ও দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ, আশ্রয়ণ প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে আয় হস্তান্তর ইত্যাদি কৌশল প্রয়োগ করে আসছি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তাখাতে বরাদ্দ ৬৪ হাজার ১৭৭ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা জিডিপি’র ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ। ২০০৫ সালে ১৩ শতাংশ পরিবার সুবিধা ভোগ করে এবং পরবর্তী বছরে ২০০৬ সালে তা উন্নীত করা হয়, যার হার ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এই উদ্যোগের ফলে দারিদ্রের হার ২০১০ সালের ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ২০১৬ সালে কমে এসে দাড়ায় ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অতি-দরিদ্রের হার ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।

আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুতি চলছে :

মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩০৬টি। এসব কোম্পানির মধ্যে জেডর্ভুক্ত কোম্পানির ৪৪টির মধ্যে ৩৭টি আংশিক বা পুরোপুরি উৎপাদনে রয়েছে। তবে, এ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির মধ্যে যারা উৎপাদন কার্যক্রমে নেই সেসব কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের অব্যাহত আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বিধিমতে তালিকাচ্যুতিকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুলাইয়ে রহিমা ফুড লিমিটেড এবং মর্ডান ডাইং অ্যান্ড স্ত্রিন প্রিন্টিং লিমিটেডকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে।