শিক্ষিত লোকের অভাব বলেই দিনদিন কলুষিত হচ্ছে রাজনীতি

Print Friendly, PDF & Email
ডক্টর শামছুল কবির

ডক্টর শামছুল কবির। দেশের অন্যতম সুনামধন্য বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি প্রক্টর ও ইসলামিক হিস্ট্রি এন্ড কালচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠনের (নীল দল) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সময়ের মেধাবী ছাত্রনেতা।

সম্প্রতি শীর্ষ সংবাদ ডটকমের সাথে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মো. রাকিব হোসাইন রনিরাকিব হোসেন আপ্র 

শীর্ষ সংবাদ ডটকম কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ড. শামছুল কবির বলেছেন, এক সময় সমাজের খুব শিক্ষিত এবং ভালো মানুষগুলো রাজনীতির সাথে জড়িত হতো। মেধাবী শিক্ষার্থীরাই ছাত্র রাজনীতি করতো। কিন্তু রাজনীতির এ সংস্কৃতিটা আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। দিনদিনই কলুষিত হয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশের রাজনীতি। এখন অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও ব্যবসায়ী শ্রেণির হাতে চলে যাচ্ছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এসব রাজনৈতিক নেতারা নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে আত্মকেন্দ্রিক ভাবে। শুধু নিজের চিন্তা করে। দল ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করে টাকা উপার্জনের চিন্তায় মগ্ন থাকে। এরা মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিয়ে ভাবে না। এমনটি আগে ছিল না। তবে রাজনীতিতে এখনো কিছু আদর্শবান মানুষ আছেন।

শীর্ষ সংবাদ ডটকম : রাজনীতিতে আপনার সক্রিয়তার কারণ সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন…
ড. শামছুল কবির: একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে শিক্ষা এবং শিক্ষিত সমাজের ভূমিকাই মুখ্য বলে আমি মনে করি। কারণ একজন শিক্ষিত মানুষ তার পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনে কাজ করতে পারেন। একজন আদর্শবান শিক্ষিত ব্যক্তির হাত ধরেই সমাজের অনগ্রসর মানুষগুলো নিজেদের পরিবর্তন করতে পারেন। যেহেতু রাজনীতি রাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী অঙ্গ সেহেতু রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট থেকেই দেশ ও জনগণের কল্যাণে অনেক বেশি কাজ করা সম্ভব। আর একজন শিক্ষক যদি রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পান সেটাই হবে উত্তম। আমি মনে করি একজন শিক্ষক একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের উন্নয়নের মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারেন। আর সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই রাজনীতিতে আমার পদচারণা।

শীর্ষ সংবাদ ডটকম : আপনার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও মতাদর্শ সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
ড. শামছুল কবির: আমি জন্মসূত্রে আওয়ামী পরিবারের সন্তান। তবে ছাত্র জীবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনী থেকে রাজনীতির শিক্ষা গ্রহণ করেছিলাম। আর তখন থেকেই স্বাধীনতার মহান স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে লালন করে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছি। পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশা বেছে নিয়েছি। কারণ আমি আমার বাবার থেকে শিখেছি, একজন আদর্শবান শিক্ষক হলো মানুষ গড়ার কারিগর।

শীর্ষ সংবাদ ডটকম : আপনার জন্মস্থান উপকূলীয় অঞ্চল কমলনগর নিয়ে কেমন স্বপ্ন দেখেন?
ড. শামছুল কবির : লক্ষ্মীপুর জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে কমলনগর এমন একটি উপজেলা যা খুবই অবহেলিত ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রতিনিয়ত মেঘনার তীব্র ভাঙ্গণে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে যে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন তার যদি সঠিক ব্যবহার হতো তাহলে হয়তো দেশের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় পিছিয়ে থাকতে হতো না। পার্শ্ববর্তী উপজেলা রামগতিরও তেমন পরিবর্তন ঘটে নি। আমার স্বপ্ন কমলনগর-রামগতি উপজেলা হবে নদী ভাঙ্গনমুক্ত। দেশের অন্যান্য উন্নত উপজেলার মতো। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে উন্নত। এ অঞ্চলের মানুষ বঞ্চিত হবে না সরকারের দেওয়া সকল সুযোগ সুবিধা থেকে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে প্রিয় জন্মভূমি মেঘনা পাড়ের ছেলে-মেয়েরা।

শীর্ষ সংবাদ ডটকম : আমরা শুনেছি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে আপনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ বিষয়ে যদি কিছু বলতেন…
ড. শামছুল কবির : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনিত করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। তবে দলীয় যেকোনো সিদ্ধান্তের সাথে আমি সম্পূর্ণভাবে একমত।

শীর্ষ সংবাদ ডটকম : আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ড. শামছুল কবির : আপনাদেরকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

/আরএইচএ/