‘সিইসির উচিত আরও বেশি সংযত হয়ে কথা বলা’

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) আরও বেশি সংযত হয়ে কথা বলা উচিত। আমাদের দেশের বাস্তবতায় সিইসি হয়তো মনে করেছেন, এটাই সত্য। কিন্তু তিনি একটি বড় দায়িত্বে আছেন, তার সংযত হয়ে কথা বলা উচিত।

আজ বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা্ বলেন।

গতকাল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে কোথাও কোনো অনিয়ম হবে না-এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ তার নেই। তবে অনিয়ম হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, শুধু সিইসির বক্তব্য নয়, বিএনপি সব ব্যাপারে উদ্বেগ আছে। বিএনপি এখন নগর ছাড়া নৌকার যাত্রী এই নৌকা কোথায় যাবে কেউ বলতে পারে না।

আগামীতে শিক্ষার্থীদের আর রাস্তায় নামতে হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেসব বিষয়গুলো আন্দোলনের জন্য বাধ্য করেছে, বিশ্বাস করি এসব কারণ দূর করতে পারলে ভবিষ্যতে আর আন্দোলন হবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন একটা সচেতনতা সৃষ্টি করেছে। এটাও বিআরটিএর জন্য ভয়-ভীতির কারণ। মাঝেমাধ্যে এ ধরনের চাপ না এলে সচেতনতা বাড়ে না, এ চাপটার বড় প্রয়োজন ছিল।’

সড়কে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আগের চেয়ে মালিক-চালক সচেতন মন্তব্য করে তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অনেকাংশে দায়ী রাস্তায় দুই বাসের রেষারেষি এবং প্রতিযোগিতা। মালিক-শ্রমিকরা আজ রাস্তায় নেমেছে ক্যাম্পেইনের জন্য। আমি আশাবাদী একটা সচেতন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘চালকদের চুক্তিতে গাড়ি চালানো এ জন্য অনেকাংশে দায়ী বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে আমি মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। এর একটা সমাধানে আসতে পারবো বলে মনে করছি। তবে আজকের এই সচেতনতা যেন শুধু মুখের কথা না হয়, বাস্তব যেন এর প্রতিফলন দেখা যায়।’

বিআরটিএতে দালালের দৌরাত্ম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দালালের দৌরাত্ম্য এখনো আছে। কর্মকর্তাদের সাথে তাদের যোগসাজশ এখনো আছে। আমি বলতে পারি না এটি সম্পূর্ণভাবে শেষ করা গেছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি, এ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

বর্তমান প্রেক্ষাপট তাকে আশাবাদী করছে জানিয়ে কাদের বলেন, এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। রাস্তায় নামলে এখন গাড়ির লাইসেন্স পাওয়া যায়। মানুষের ভেতর সচেতনতা এসেছে। বিআরটিএ-তে লাইসেন্স করার জন্য হিড়িক পড়েছে। আমি আমি মনে করি কাজটি আমরা সম্পন্ন করতে পারব।

ভোগান্তি রোধে কিছু পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের দুর্ভোগের কথাটি আমাদের চিন্তায় আছে। আমরা এখানে মোবাইল ব্যাংকিং যোগ করার চেষ্টা করছি। যদি সেটা সম্ভব হয়, মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে। এ বিষয়ে আমি বিআরটিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গেও কথা বলেছি।