প্রথম শ্রেনীর হয়েও অনুন্নত যোগযোগ ব্যবস্থা, দুর্ভোগে রামগঞ্জ পৌরবাসী

Print Friendly, PDF & Email
দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় রামগঞ্জ পৌরসভার রাস্তার বেহাল দশা। ছবি: ফরহাদ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার প্রধানসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সবকয়টি রাস্তারই বেহাল দশা। বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে পরিনত হয়েছে মরণ ফাঁদে। অন্যদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই বিভিন্নস্থানে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এছাড়াও কাদা-পানি জমে থাকায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রাস্তাঘাটগুলো। এজন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। প্রথম শ্রেনীর হয়েও উন্নয়ন ও অবকাঠামোর দিকে থেকে পিছিয়ে আছে রামগঞ্জ পৌরসভা। আর এ জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

পৌরসভার প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা যায়, জানা যায়, নাগরিক সুবিদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠা হয় রামগঞ্জ পৌরসভাটি। এখানে প্রায় ৭৩,১০১ জন লোকের বসবাস ১৭.০৫ বর্গ কি: মি: যায়গায়। এই পৌরসভায় ১৬৩.৪৩ কি: মি: কার্পেটিং, সলিং, এইচবিবি, আরসিসি, কাঁচা রাস্তা ও মাত্র ২.৩ কি: মি: ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও ৫৫টি ব্রীজ, ১৩৭টি কালভার্ট, ১টি বাস টার্মিনাল ও ২৩টি রিক্সা/মাইক্রোবাস ষ্ট্যান্ড রয়েছে। সংস্কারের অভাবে সবগুলোরই নাজুক অবস্থা।

সরোজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রামগঞ্জ পৌরসভার সামনে বাইপাস রোড, রামগঞ্জ সোনাপুর সড়ক, মৌলভিবাজার সড়ক, পুরান কলেজ গেইড রোড, রামগঞ্জ সরকারি কলেজ ২য় গেইড রোড, জামতলি বাজার সড়ক, শহর পুলিশ বক্স থেকে সোনাপুর চৌরাস্তা সড়ক, মাছ বাজার রোড, কাঁচাবাজার রোড ও উপজেলা পরিষদ থেকে জগৎপুর সড়কসহ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সবকয়টি রাস্তারই একই অবস্থা। দীর্ঘদিন রাস্তাগুলো সংস্কার বা পুননির্মান না করায় বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় হাটু পানি, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এছাড়াও কাদা পানি জমে থাকায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে রাস্তাগুলো। এ দুরবস্থার মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

পৌরশহরের ব্যবসায়ী জয়নাল জানান, রামগঞ্জ পৌরসভার সামনে বড় বড় গর্তে পানি জমে আছে। এগুলো সংস্কারে পৌরকর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই। এছাড়াও দোকানপাটের সামনে রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে থাকায় ক্রেতারাও তেমন আসে না। ফলে ব্যবসা বানিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে।

জাহিদ নামে পৌরসভার এক বাসিন্দা বলেন, পৌরসভাটি প্রথম শ্রেনীর হওয়ায় পূর্বের চেয়ে, কয়েকগুন বেশি কর দিতে হয়। কিন্তু পৌরসভার উন্নয়ন চিত্র দেখে মনে হচ্ছে না এটি প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা। এখানে যাতায়াত থেকে শুরু করে জরুরি প্রয়োজনে মুমূর্ষ রোগীদের স্থানান্তরে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পৌর মেয়র সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নিলে রামগঞ্জ পৌরসভা একটি মডেল পৌরসভায় রূপ নিতো।

সোহেল হোসেন নামে অন্য এক বাসিন্দা জানান, বর্তমান সরকারের আমলে সারাদেশে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও লাগেনি রামগঞ্জ পৌরসভায়। এতে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত পৌর এলাকা। নাগরিক সুবিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরবাসী।

রিক্সা চালক সুমন হোসেন বলেন, খানাখন্দের কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়তে হয় তাদের। রাস্তায় বেহাল দশার কারণে যাতায়াতে অনেক সময় বেশি লাগে। তাছাড়া ঝুঁকির কারনে যাত্রীরাও উঠতে চায়না গাড়িতে।

কলেজ শিক্ষার্থী সালমা আক্তার, রিপন হোসেন ও আরিফুর রহমান বলেন, রাস্তার দুরবস্থার কারনে পূর্বের চেয়ে দ্বিগুন ভাড়া গুনতে হয় তাদের। অন্যদিকে কলেজ গেইটের সামনে সারাক্ষন পানি জমে থাকে। ড্রেন না থাকায় পানি সরে না। কলেজে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীরা পৌর মেয়রের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

পৌরসভার অনুন্নতের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র মো. আবুল খায়ের পাটোয়ারী জলাবদ্ধতা ও রাস্তাঘাটের দুরবস্থঅর কথা স্বীকার করে বলেন, পর্যাপ্ত অর্থাভাবে এসব সংস্কার ও নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সবগুলো রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী করা হবে। ইতিমধ্যে গুরুত্বপুর্ন কয়েকটি রাস্তার গর্তে ইট দিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।