স্বপ্ন এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় লক্ষ্মীপুর ক্রিকেট কোচ মনিরের

Print Friendly, PDF & Email


নিজস্ব প্রতিবেদক :

শৈশব থেকেই খুব আগ্রহ ক্রিকেট খেলার প্রতি, ভালোবাসতেন ক্রিকেটারদেও। সে আগ্রহকে পুঁজি করে স্বপ্ন বুনেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলোয়াড় হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার। সে লক্ষ্যেই অনেক দূর এগিয়ে যান মনির। হঠাৎ সে খেলাই তাঁর স্বপ্ন পূরণে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। জেলা পর্যায়ে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগ খেলায় ব্যাটিং করার সময় একটি বল তাঁর ডান চোখে আঘাত করে, এতে সে মারাত্মকভাবে আহত হন, ছিলেন দীর্ঘদিন অসুস্থ, তাতেই হতাশ হয়ে যান তিনি। এ যেন তীরে এসে তরী ডুবার মতো।

অসুস্থতার ফলে নিজের স্বপ্ন ভেঙে যায়, তাই প্রত্যয় গ্রহন করেন অন্যদের দিয়ে বাস্তবায়নের। সেই প্রত্যয়ে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে স্বেচ্ছায় ও বিনা বেতনে দায়িত্ব নেন লক্ষ্মীপুর জেলা জরাজীর্ণ ক্রিকেট একাডেমীর। স্বপ্ন পূরণের জন্য নিরলস কাজ করেছেন অনূর্ধ্ব- ১২, ১৪,১৬,১৮ ও জেলা দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে। ইতিমধ্যে কয়েকজন ক্রিকেটার খেলেছেন জাতীয় অনূর্ধ্ব- ১৫, ১৭ ও ১৯ দলে। কঠোর পরিশ্রমের কারনে মনিরের সে স্বপ্ন আজ বাস্তবায়নের পথে। কারন তারই হাতে গড়া হাসান মাহমুদ বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় ‘এ’ দলে খেলছেন ডান হাতি ফাস্ট বোলার হিসাবে।

 

মনির হোসেন সদর উপজেলার ১৭নং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের বাসিন্দা। সে ভবানীগঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচ এস সি সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন। মনির জেলার বিভিন্ন ক্লাবের ও জেলা ক্রিকেট একাডেমীর হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্রিকেট খেলেছেন। সে বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃক চুক্তিভিত্তিক লক্ষ্মীপুর জেলা ক্রিকেট কোচ হিসাবে দায়িত্বরত রয়েছেন।

জানা যায়, মনির হোসেন ২০০৯ সালে জেলা ক্রিকেট একাডেমীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন খেলোয়াড়ের সংখ্যা ছিলো খুবই কম, হতো না নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ক্রিকেট খেলা, ছিলো না প্রয়োজনীয় ক্রিকেট উপকরণ। আগ্রহ ছিলো না পরিবার ও খেলোয়াড়দের মাঝে, নানা ভাবনায় বিপর্জস্ত ছিলো তাঁরা। প্রতিভাবান ভালো ক্রিকেটার থাকার পরেও নানা সমস্যার কারণে হয়নি জেলা ক্রিকেট একাডেমীর উন্নতি।

সমস্যা সমাধানে মনির প্রথমে খেলোয়াড়দের পরিবার ও স্কুল শিক্ষকদের ক্রিকেট খেলা ও তাতে ক্যারিয়ার গঠনের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন, উৎসাহিত করেছেন খেলোয়াড়দের, ব্যবস্থা করেছেন ক্রিকেটের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। পড়ালেখায় যেন ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল করেই করিয়েছেন নিয়মিত অনুশীলন। জেলার কোথাও প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের সন্ধান পেলে মনির বর্তমান জেলা ক্রিকেট একাডেমীর আহবায়ক আহসানুল কবির রিপনকে নিয়ে চলে যেতেন তাঁর বাড়িতে, পরিবারকে বুঝিয়ে খেলার জন্য নিয়ে আসতেন মাঠে। মনিরের লক্ষ্য ছিলো স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।

ইয়াং টাইগার্স অনুর্ধ্ব- ১৪, ১৬ ও ১৮ লক্ষ্মীপুর দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ৭ বার। রানার্সআপ হয়েছে কয়েকবার। এছাড়াও ৩৮তম ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন শীপে চলতি বছরে প্রথম বারের মত অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লক্ষ্মীপুর দল শরীয়তপুর ভেন্যুতে।

এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনুর্ধ্ব- ১৪, ১৬ ও ১৮ দলে ১০৩ জন লক্ষ্মীপুর দলের খেলোয়াড় বিভিন্ন সময় খেলেছেন। অন্যদিকে জাতীয় অনুর্ধ্ব- ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৯ দলে খেলেছেন ৭ জন খেলোয়াড়। একজন খেলছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলে।


কোচ মনির হোসেন বলেন, বর্তমানে জাতীয় অনুর্ধ্ব দলে কয়েকজন খেলোয়াড় ভালো করায় পূর্বের হতাশা অনেকটাই কেটেছে। তবে এখানকার অধিকাংশ খেলোয়াড় মধ্যবিত্ত ও নিম্মমধ্যবিত্ত পরিবারের হওয়ায় অর্থের অভাবে খেলার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় করা ও ঢাকায় গিয়ে খেলার সুযোগ পায়না। ফলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় ঝরে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, চুক্তিভিত্তিক কোচ হিসাবে নিয়োগ পাওয়ায় বাড়তি কোন সুযোগ সুবিদা নেই, তারপরেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নিজের জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন এই জেলার অন্য খেলোয়াড়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার জন্য। আর সে স্বপ্নের খুব কাছাকাছি পৌছে গিয়েছেন জেলা ক্রিড়া সংস্থার সদস্য ও খেলোয়াড়দের একান্ত প্রচেষ্টায়। এ জেলারই খেলোয়াড় হাসান মাহমুদ খেলছেন বাংলাদেশ জাতীয় ‘এ’ দলের ডান হাতি ফাস্ট বোলার হিসাবে।