‘পাগল’ হয়ে গেছে ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকরা!

Print Friendly, PDF & Email

ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগ্রেব শহরের প্রাণকেন্দ্রে ফ্যান জোনে বড় জায়ান্ট স্ক্রিনে হাজার হাজার সমর্থক খেলা দেখছিলেন। ম্যাচ শেষ হতে তখন কয়েক মিনিট বাকি। লাল-সাদা জার্সি গায়ে বসে থাকা এক তরুণ সমর্থক হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘‌আমরা যদি জিতে যাই, তাহলে পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেব।’‌

শেষ বাঁশি বাজার পর সেই তরুণ সমর্থককে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সত্যিই পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন কিনা জানা যায়নি। তবে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছনোর পর গোটা ক্রোয়োশিয়া জুড়ে অন্যরকম উন্মাদনা। ম্যাচের পরই জাগ্রেব শহর অবরুদ্ধ। আতসবাজির রোশনাই, কারও হাতে মশাল। হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে এসেছিলেন ফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক দিন স্মরণীয় করে রাখার জন্য। আনন্দে কেউ কাঁদছেন, কেউ চিৎকার করছেন, কাউকে দেখলে মনে হবে পাগল হয়ে গেছেন।

রাজনীতিবিদদের ওপর দেশটির সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থাকলেও ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী কোলিন্ডা গ্রাবার কিতারোভিচ দেশ কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পরই ড্রেসিংরুমে ঢুকে গিয়েছিলেন। ভিআইপি গ্যালারিতে হাজির ছিলেন। দেশের জার্সি গায়ে সারাক্ষণ লুকা মদ্রিচদের সমর্থনে গলা ফাটিয়েছিলেন। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেডভেদেভের সঙ্গে বসে খেলা দেখেছিলেন। রাশিয়াকে হারিয়ে দল ফাইনালে ওঠার পরল মেডভেদেভের সামনে নেচেও ছিলেন।

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী অবশ্য কিতারোভিচের এই আচরণে খুব একটা খুশি হননি। দল ফাইনালে ওঠার পর নিজের ফেসবুক পেজে দলকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, ‘‌আমার প্রিয় ফুটবলারা, তোমরা অসাধ্যসাধন করেছ। অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছ। তোমাদের অভিনন্দন।’‌

সেমিফাইনাল দেখতে তিনি মাঠে হাজির ছিলেন। ভিআইপি গ্যালারিতে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে দেখে অনেকেই জায়গা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে স্টেডিয়ামে ঢুকে কিতারোভিচ খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলেন না। কারণ দেশের জার্সি গায়ে তাকে ভিআইপি গ্যালারিতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।