মেসি কেন নিষ্প্রভ ছিলো!!

Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক: গত দুই ম্যাচেই মেসিকে অনেক নিষ্প্রভ মনে হয়েছে। দুই ম্যাচ দেখে এটা সবাই স্বীকার করবে যে মেসি নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেনি। সাধারণ দর্শক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত মতামত, শুধুই আমার ব্যক্তিগত মতামত মেসি মাঠের থেকে মাঠের বাইরের চাপে বেশি ভুগছে।

তার প্রমাণ গতকাল খেলা শুরুর আগেই মেসিকে ভেড়ে পড়তে দেখা গেছে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে মাঠের বাইরের চাপটা কি?

আমার দুইটা বিষয় মনে হচ্ছে।

এক) কোচ এবং দলের সাথে বোঝাপড়া ঠিকমত না হওয়া

দুই) ইসরাইলি চাপ।

আর্জেন্টিনা দলের মধ্যে যে টিম হিসেবে খেলার লক্ষণ নেই তা গত দুই খেলাতেই সবাই বুঝতে পেরেছে। দলটাতে সবাই সবাইকে ছাড়িয়ে যাবার প্রতিযোগিতা চলে।

আর্জেন্টিনা দলে অনেক ভালো প্লেয়ার আছে যারা বড় ক্লাবে খেলে এবং নিজেরাই ক্লাবের মেইন ফোকাস প্লেয়ার আর যখনি তারা এক সাথে হলো তখন এটাই সমস্যা দেখা দিলো। সবাই নিজের দিকে ফোকাস লাইট ফেলে রাখতে চাইলো। যার ফলে মেসির পায়ে বল যায়নি বললেই চলে। একই কাজ মেসিও করেছে। দিবালা এবং পাভোন মূল একাদশে জায়গা না হবার পিছনে মেসির ভূমিকা ছিলো না বলে উড়িয়ে দেয়া যায় না। ফলে যা হবার তাই হলো দলের চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগে অপর পক্ষের তিন গোল হজম করতে হলো।

এবার দ্বিতীয় বিষয়ে আসি। এই বিষয়টি ভূরাজনৈতিক এবং অনুমান নির্ভর। আর্জেন্টিনা দল এবং মেসির সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক সবসময়ই ভালো। বিশেষ করে মেসির সাথে ইসরাইলি দহরম মহরম সবসময়ই চোখে পড়ার মতো। ২০১৪ বিশ্বকাপের পূর্বে মেসি পবিত্র ভ্রমণ হিসেবে ইসরাইল সফর করে। তাছাড়া গত লীগের পূর্বেই বার্সেলোনা পুরো টিম ইসরাইল সফর করে।

এবার অর্জেন্টিনা ফিলিস্তিনী এবং সারা বিশ্বের সমর্থক গোষ্ঠির চাপে ইসরাইলের সাথে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। অনিচ্ছাকৃত হলেও তারা ইসরাইলের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা থেকে বিরত থাকে। তবে ইসরাইল এখনো পিছু ছাড়েনি। বিশ্বকাপের পরপর তারা জেরুজালেমে আর্জেন্টিনার সাথে প্রীতি ম্যাচ খেলতে চায়। এজন্য তারা নানামুখি চাপও দিয়ে যাচ্ছে। প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলায় ইসরাইলের যতনা অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রাজনৈতিক।

প্যালেস্টাইন চাপে আর্জেন্টিনার ইসরাইল না যাওয়াকে ফিলিস্তিনীরা ইসরাইলি গণহত্যার প্রতিবাদে নিজেদের জয় হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ইসরাইলের কাছে তা রাজনৈতিক পরাজয়।

ইসরাইলের কাছে এটা শুধু খেলা ছিলো না বরং ছিলো জেরুজালেমে তাদের স্বীকৃতি। ইসরাইল সম্পর্কে যারা ধারণা রাখে তারা জানে ইসরাইল অর্থনৈতিক ক্ষতি মাফ করলেও ফিলিস্তিনের কাছে রাজনৈতিক হার কখনো মাফ করবে না।

এবং ইতোমধ্যে যে মোসাদ মেসির কে কোনো হুমকি দেইনি তা বলা যায় না। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কে যারা জানে তারা ভালোই জানে মোসাদের পক্ষে অসম্ভব কিছু নেই।

পৃথিবীর সব দেশে তাদের গোয়েন্দা আছে। তারা তাদের শত্রু এবং লক্ষবস্তু পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক তাকে শেষ করবেই। তাই অনুমান নির্ভর হলেও এটা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না যে মেসি মোসাদ থেকে কোনো হুমকি পায়নি। যার প্রমাণ মেসি খেলা শুরু আগে থেকেই অন্যমনষ্ক হয়ে পুরো খেলায় তটস্থ হয়ে থাকা। আর এই হুমকি আজীবন মেসিকে তাড়িয়ে বেড়াবে।