ত্বক এবং চুলের খেয়াল রাখবে হলুদ

Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক: রান্নায় হলুদ যেমন স্বাদ বাড়ায় তেমনি সৌন্দর্যচর্চায় হলুদের শক্তিশালী ক্ষমতা রয়েছে। ত্বক এবং চুলের যত্নে হলুদের ভূমিকা নিয়ে এ প্রতিবেদন।

* ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে
উজ্জ্বল ত্বকের জন্য হলুদের বিকল্প আসলে কিছু হয়না। শাদহ পান্নাপুজা নামে একজন আয়ুর্বেদিক গবেষক বলেন, ‘হলুদে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং কারকিউমিন নামক একপ্রকার প্রদাহপ্রতিরোধী উপাদান থাকে যার ফলে হলুদ ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। তাছাড়া ত্বকের নানাবিধ দাগ এবং ত্বকের মৃত কোষ দূরীকরণে হলুদের জুড়ি মেলা ভার।’

* চোখের নিচের কালি দূর করে
চোখের নিচের কালো দাগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন না এমন মানুষ হয়তো খুঁজেই পাওয়া যাবেনা। তবে আপনি যত প্রসাধনীই ব্যবহার করুন না কেন, চোখের নিচের কালি দূর করতে হলুদের চেয়ে কার্যকরী কোনো প্রসাধনী নেই। তাছাড়া প্রাকৃতিক ভেষজ হওয়ায় হলুদের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। ত্বক বিশেষজ্ঞ কোর্টনি শিওসানোর মতে, ‘যেহেতু হলুদে প্রদাহপ্রতিরোধী এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির প্রাকৃতিক ক্ষমতা রয়েছে সেহেতু ত্বকের এই ধরনের সমস্যায় হলুদের কোনো বিকল্প নেই। তাছাড়া হলুদ ব্যবহারে ত্বকে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় ফলে চোখের নিচের অংশ ফুলে যাওয়া বা কালো দাগ পরে যাওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।’

* দাঁতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে
হলুদের প্রাকৃতিকভাবে দাঁত সাদা করার ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ মেডিনা সিবেম্বা এ বিষয়ে বলেন, ‘আপনি প্রাকৃতিক টুথপেস্ট হিসেবে দাঁত মাজার কাজে হলুদ ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে মুখের ব্যাকটেরিয়া এবং প্রদাহ থেকে আপনি সুরক্ষিত থাকবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘দাঁত মাজার জন্য কার্যকরী একটি মিশ্রণ আপনি বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন। এর জন্য ৪ টেবিল চামচ হলুদের গুঁড়া নিন, তারপর তাতে ২ টেবিল চামচ বেকিং পাউডার এবং আধা চামচ নারকেল তেল মিশান। উপকরণগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে অন্তত ৩ মিনিট এই মিশ্রণ দিয়ে দাঁত মাজুন। দাঁত মাজার পর অবশ্যই ভালো করে কুলি করে নেবেন।’

* ব্রণ প্রতিরোধে সহায়ক
হলুদ হচ্ছে, প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক। হলুদ ব্যবহার করার ফলে আপনার মুখের ত্বক, ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবাণু থেকে সুরক্ষিত থাকে। তাছাড়া নিয়মিত হলুদ ব্যবহারের ফলে ব্রণের বিস্তার ঘটেনা এবং মুখমন্ডলে কোনো অবাঞ্চিত দাগ জন্মেনা। বিশেষজ্ঞ শিওসানো বলেন, ‘মুখমন্ডলের ত্বক সুন্দর রাখতে আপেড সিডার ভিনেগারের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে তা নিয়মিত ত্বকে লাগান। মুখে কোনো অবাঞ্চিত দাগ থাকলে হলুদ তা দূর করে ফেলবে। আরো ভালো ফলাফল পেতে সমপরিমাণ হলুদ গুঁড়া এবং মধু একত্রে মিশিয়ে তা নিয়মিত ব্যবহার করুন।’

* ব্রণের দাগ দূর করে
ব্রণ সেরে ওঠার পরও তা গভীর চিহ্ন ফেলে যাতে পারে। তাছাড়া নানা কারণে মুখের ত্বকে ছোপ ছোপ দাগ তৈরি হতে পারে। হলুদ ব্যবহারে সেসকল দাগ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। গবেষক পান্নাপুজার মতে, ‘ব্রণ পরবর্তী দাগ হোক বা ত্বকের অন্য কোনো দাগ, একমাত্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা হচ্ছে হুলুদ। তাছাড়া হলুদে থাকা কারকিউমিন ত্বকের মেলানিন উৎপাদনের হার কমিয়ে দেয় যার ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।’

* অ্যাকজিমা এবং সোরাইসিস নিরাময় করে
হলুদের জীবাণু ধ্বংসকারী ক্ষমতার কারণে ত্বকে অ্যাকজিমা এবং সোরাইসিসের মতো রোগের চিকিৎসায় হলুদ ব্যবহৃত হয়। পান্নাপুজা বলেন, ‘হলুদের অভাবনীয় ক্ষমতার গুণে চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। অ্যাকজিমা থেকে শুরু করে অন্যান্য জটিল চর্মরোগগুলো প্রাকৃতিকভাবে চিকিৎসা করার জন্য প্রাচীনকাল থেকে হলুদ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।’ চর্মরোগ থেকে দ্রুত উপশম পাওয়ার জন্য সমপরিমাণ হলুদ এবং মধুর মিশ্রণ খুবই ফলপ্রদ।

* স্ট্রেচ মার্ক দূর করে
নারী কিংবা পুরুষ, কারো জন্যই শরীরের স্ট্রেচ মার্ক বা ফাটা দাগ শোভনীয় কিছু নয়। দেহের সৌন্দর্য নষ্ট করতে স্ট্রেচ মার্কই যথেষ্ট। স্ট্রেচ মার্কের প্রধান কারণ হচ্ছে- একবারে অনেক বেশি ওজন কমানো বা বাড়ানো, কোনো অস্ত্রোপচারের পর এবং প্রেগনেন্সি। তবে স্ট্রেচ মার্ক ঢাকতে হলুদের ব্যবহার সহায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, হলুদে থাকা কিছু জৈব রাসায়নিক উপাদান ত্বকের প্রসারণজনিত দাগগুলো হালকা করে দেয় যার ফলে দাগ থাকলেও দাগের উপস্থিতি চোখে পড়ে না। ত্বকের প্রসারণজনিত এসকল দাগ নিরাময়ের জন্য ১ চামচ হলুদের গুঁড়া এবং ১ চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে তা দিনে দুইবার ভালোমতো লাগান।

* শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে
হলুদ ব্যবহারের ফলে ত্বকের আর্দ্রতা ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শুষ্কভাব কমে যায়। হলুদ আপনার ত্বকের মৃত কোষ অপসারণের মাধ্যমে আপনাকে প্রদান করে উজ্জ্বল এবং মোলায়েম ত্বক। প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও আরো ভালো ফলাফল পেতে খাবারে হলুদের ব্যবহার বাড়িয়ে দিন।

* চুলের খুশকি দূর করে
হলুদের জীবাণুনাশক এবং পরিষ্কারক গুণের ফলে চুলের খুশকি মোকাবিলায় তা খুবই কার্যকরী। খুশকি থেকে মুক্তি পেতে সপ্তাহে একদিন আধা টেবিল চামচ প্রাকৃতিক হলুদের সঙ্গে ৪ টেবিল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে তা মাথার ত্বকে লাগিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট রাখুন; তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পুরোপুরি নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত এভাবে চালিয়ে যান।

* চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সহায়তা করে
মাথার স্কাল্পের নানা সমস্যা দূর করার পাশাপাশি চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে হলুদ। তাছাড়া হলুদের ব্যবহার চুল পড়া হ্রাস করে। হলুদের গুঁড়ার সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে তা নিয়মিত চুলে লাগালে এক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট