বেড়ীবাঁধে ধস, লক্ষ্মীপুরে আতঙ্কে ১০ হাজার পরিবার

Print Friendly, PDF & Email
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডস্থ ওয়াপদা বেড়ীবাঁধ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রায় ৫০ বছর আগে নির্মাণ করা ওয়াপদা বেড়ীবাঁধে ধস নেমেছে। গত ৩ বছর যাবত এর ভাঙ্গন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের এই বেড়ীবাঁধটির আশেপাশে বসবাসরত অন্তত ১০ হাজার পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। অতিশিগগির বেড়ীবাঁধটি পুনঃনির্মাণ না করলে মান্দারী ও দিঘলী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম ডুবে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বেড়ীবাঁধের বেশ কয়েকটি স্থানে ধস নেমেছে। ফলে বাঁধটির কিছু কিছু অংশ সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এখন যান চলাচল প্রায় বন্ধ। মাঝেমধ্যে দুই একটি সাইকেল এবং মোটর সাইকেল চলতে দেখা গেছে। তিন চাকার কোনো যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই।

বেড়ীবাঁধের ভাঙ্গন রোধে কাজ করছে স্থানীয়রা

এদিকে বেড়ীবাঁধটি কোনো রকম টিকিয়ে রাখার জন্য অন্য জায়গা থেকে গাছপালা কেটে এনে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টায় কাজ করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওয়াপদা বেড়ীবাঁধের আশেপাশে বসবাসরত প্রায় ১০ হাজার পরিবার এ পথে চলাচল করে। এছাড়াও ওয়াপদা বাজার থেকে দিঘলী হয়ে এ পথেই মাইজদী পর্যন্ত রাস্তা থাকায় দূর-দূরান্তের মানুষজন ও ব্যবসায়ীরা একসময় বেড়ীবাঁধটির উপর দিয়েই চলাচল করতো। গত তিন বছর যাবত এতে ধস নামায় দূর-দূরান্তের মানুষজনের চলাচল কমে যায়। স্থানীয়রা পড়েছে চরম ভোগান্তির মুখে। রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াটাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষাকালে চলাচলে ভোগান্তির মাত্রা আরো বেড়ে যায়।

এছাড়াও গ্রামবাসীদের কয়েকজন জানান, ওয়াপদা বেড়ীবাঁধটি ভেঙ্গে গেলে মান্দারী ও দিঘলী ইউনিয়নের বেশকিছু গ্রাম ডুবে যাবে। চাষাবাদের জমি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান তারা।

মান্দারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহিম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি চেষ্টা করছি ঈদের পরেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে বেড়ীবাঁধটি সংস্কার করার ব্যবস্থা করতে।