মিষ্টি খেলেই কি ডায়াবেটিস হয়?

Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক:

মিষ্টি খেলে প্রেম বাড়ে। ডায়াবেটিস বাড়ে না। অবাক হচ্ছেন! সুগার হতে পারে এই ভয়ে ছোট থেকেই বাড়িতে অভ্যাস করানো হয় চিনি ছাড়া লাল চা। শেখানো হয় রসগোল্লার দিকে তাকানো পাপ। কেক, আইসক্রিম সবই বিষ। চারটি শশা আর টকদই খেয়ে বেঁচে থাকা। তাও ডায়াবেটিসকে ঠেকানো গেল না। জীবনের চাপ আর অফিসের জাঁতাকলে গুটি গুটি পায়ে সে ঢুকেই পড়ল। তাহলে উপায় কি? অতএব, আবার নতুন করে মিষ্টির প্রেমে পড়ুন। মিষ্টি খেলে যেমন কৃমি হয় না, তেমনই সুগারও বাড়ে না।

মিষ্টি কি
যে কোনও সব্জি, ফল বা ডেইরি প্রোডাক্টের মধ্যে প্রাকৃতিক ভাবেই শর্করা থাকে। তাই ফল বা সব্জির মাধ্যমে আমরা প্রয়োজনীয় সুগার পেয়েই যায়। চা বা অন্যান্য পানীয়ে যে মিষ্টি ব্যবহার করা হয় তা অতিরিক্ত সুগার। এছাড়াও কেক, সস বা রেডি টু ইট খাবারের মধ্যেও কিছু পরিমাণ মিষ্টি তো থাকেই। যাকে হিডেন সুগার বলে।

ডায়াবেটিস এবং মিষ্টি
ডায়াবেটিস দু ধরনের হয়। টাইপ ১ এবং টাইপ টু।

টাইপ ১ ডায়াবেটিসের কারণঃ
টাইপ -১ ডায়াবেটিস কি কারণে হয় তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব না, তবে মনে করা হয় যে এটি সাধারণত কোনো ধরনের autoimmune জটিলতার কারণেই হয়ে থাকে। অটোইমিউন জটিলতা হল যখন আমেদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থা, শরীরের ভেতরের কোনো স্বাভাবিক কোষকে ক্ষতিকর মনে করে আক্রমণ করে। টাইপ-১ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ধারণা করা হয় যে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থা কোনো কারণে অগ্ন্যাশয়ের কোষগুলোকে আক্রমণ করে। এতে অগ্ন্যাশয়ের কোষগুলো এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বা ধ্বংস হয় যে ইনসুলিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক কি কারণে এটি হয় তা এখনো অজানা তবে কিছু গবেষক মনে করছেন, যে কোনো প্রকার ভাইরাসজনিত সংক্রমণই এর জন্য দায়ী। যেহেতু টাইপ-১ ডায়াবেটিস সাধারণত একই পরিবারের অনেকেরই হয়, তাই জিনের প্রভাবও থাকতে পারে।

টাইপ ২ ডায়াবেটিসের কারণঃ
ডায়াবেটিস মেলিটাস। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে রোগীর শরীরে পর্যপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না। ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যেতে শুরু করে। আর এমনটা হলে বারংবার প্রস্রাব পাওয়া, ক্ষিদে বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তি, ওজন হ্রাস অথবা বৃদ্ধি, ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া এবং মাথা যন্ত্রণা হওয়ার মতো লক্ষণগুলি দেখা যায়। লাগামছাড়া জীবনযাত্রা বা পিসিওডির সমস্যা যাদের থাকে তারা এই টাইপ টু ডায়াবেটিসে ভোগে।

তাই জাঙ্ক ফুড, কোল্ড ড্রিঙ্ক বেশি খেলে টাইপ টু ডায়াবেটিসের আশঙ্কা থেকেই যায়। তবে শুধু মিষ্টি খেলেই নয়, আরও নানারকম শারীরিক জটিলতা এর পেছনে দায়ী।

মিষ্টি খেলেই কি ডায়াবেটিস হবে?
ডায়াবেটিস থাকলে জীবন থেকে মিষ্টি বাদ এমনটা নয়। হেলদি এবং ব্যালেন্সড ডায়েটই পারে ডায়াবেটিসকে দূর করতে। অনেকেই মনভরে মিষ্টি খেয়ে সঙ্গে সুগারের একটা ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেন। ভাবেন বুঝি সব নিয়ন্ত্রণে থাকল। এতে কিন্তু আখেরে আপনারই ক্ষতি। নিয়ম করে প্রতিদিন হাঁটুন, সুষম খাবার খান। মিষ্টিও খান। কিন্তু পরিমাণ মতো। অতিরিক্ত মিষ্টি, জাঙ্ক ফুড কিন্তু ওবেসিটির অন্যতম কারণ। যা অন্যান্য জটিল রোগের উপসর্গ।

ভয় ভুলে চিনি খান
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যাঁদের BMI ঠিকঠাক ( বাচ্চারা বাদে) তারা কিন্তু প্রতিদিন ৬ চামচ করে চিনি খেতে পারেন। চা আর তরকারিতে কতটা খাবেন সেটা নিজেই ঠিক করে নিন।