‘ছাত্রলীগ করে কেউ যেন অনুশোচনায় না ভুগে’

Print Friendly, PDF & Email

ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলনে নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়স ২৭ হবে না ২৯ হবে, আমি জানিনা। তবে, ২৭ বা ২৯ হলে আমার প্রশ্ন, কেন ছাত্রলীগের বয়স ২৭/২৯ হবে? আমার মনে হয় অধিকাংশ ছাত্রলীগের কর্মীদের কাছে এই প্রশ্নের সঠিক কোনো উত্তর নেই।

তাই আমি বলবো, আপনারা যারা এই বয়স সীমা নির্ধারণ করেছেন তাদের কাছে আকুল আবেদন, আপনারা এর যুক্তিযুক্ত কারণ ছাত্রলীগের কর্মীদের কাছে পরিষ্কার করুন।ফেসবুকে অনেকের বক্তব্যের মাধ্যমে একটা বিষয় পরিষ্কার যে, অনেকেই ১০-১২ বছর ছাত্রলীগ করে এখন নিজেকে পরিবার বা সমাজের বোঝা মনে করছে।

আপনাদের ভাবা উচিৎ, কেন এমন মনে হচ্ছে? আর এভাবেই যদি চলতে থাকে তাহলে এমন একটা সময় আসবে যখন আর কেউ ছাত্রলীগ করতে চাইবে না। সময়ের দাবিতে অনেক সিদ্ধান্তই পরিবর্তন হয়ে থাকে। তাই, আমার মনে হয় ছাত্রলীগের বয়সের ব্যাপারটা আরেকবার ভাবা উচিৎ।

উত্তর জনপদের মানুষ আমি কখনই কোনো নেতা বা ভাইয়ের আশীর্বাদপুষ্ট হতে পারিনি। ছাত্রলীগটা করেছি একমাত্র বঙ্গবন্ধু এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে। তাই এই সংগঠনের বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থা দেখে কষ্ট লাগে।

আমার মনে হয়, ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিবার, ত্যাগ, সাংগঠনিক মেধা, পরিশ্রম এবং অভিজ্ঞতা এই বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই অনুরোধ যে, ছাত্রলীগ করে কেউ যেন অনুশোচনায় না ভুগে।

প্রতিবার নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অপ্রকাশিত এক ধরণের সংকট তৈরি হয় আর তা হলো, কে কতটুকু আস্থাভাজন বা অনুগত। তবে সেটা সংগঠনের প্রতি নয় বিশেষ কোনো চক্রের প্রতি।মাঠে প্রচলিত, ছাত্রলীগ এতিমদের সংগঠন। তবে সেটা সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদেকর ক্ষেত্রে নয়। সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বাদে সংগঠনের অন্য সকল নেতা বা কর্মীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যারা ছাত্রলীগের অভিভাবক, তাদের দৃষ্টি শুধুই সভাপতি ও সম্পাদকের উপর। তারা মনে করেন তাদেরকে ঠিক রাখলেই বাকিরা এমনিতেই ঠিক থাকবে।

ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝা যায়, যখন কোন ইউনিট বা জেলার কমিটি গঠন করা হয়। অনেকের প্রতিকূলে কমিটি হলে তার রাজনীতি দুর্বল হয়ে যায় আবার অনুকূলে হলে রাজনীতি চাঙ্গা হয়ে যায়। তাহলে কেন এই ছাত্রলীগ প্রতিক্ষেত্রে অবহেলার স্বীকার হবে?আফসোস, যখন বুঝতে শিখলাম যে, সংগঠন কী এবং কিভাবে সংগঠন করতে হয় এবং সংগঠনকে কিছু দেওয়ার জন্য তৈরি হলাম আর তখনই বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেলো।

 

** শরিফুল হাসান ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।