একটি হাসপাতাল ও পরিবর্তনের গল্প

Print Friendly, PDF & Email

হাসপাতালশব্দটা বলেই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে রুগীদের গিজগিজে ভিড়, ডাক্তারের অপ্রতুলতা, দালালদের দৌরাত্ম্য কিংবা সরকারী ঔষধ ফার্মেসিতে চালানের দৃশ্য। এ দৃশ্য যেন, বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স কিংবা সদর হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। কিছুদিন পূর্বেও এমনি একটা দৃশ্য দেখা যেত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেকহা)। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা, দুর্গন্ধ, দালালদের দৌরাত্ম্য, ডাক্তারের অপ্রতুলতা, পর্যাপ্ত ঔষধ সরবারহ না থাকা কিংবা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত টাকা দেওয়া বা বাহিরের কোনো ক্লিনিকে করা যেন ছিল রুগীদের এক যুদ্ধ ক্ষেত্র। এই এক হাজার শয্যার হাসপাতালে হয়তো কোনো এক অসহায় রুগী সে যুদ্ধে ঠিকতে পারতো না হয় পরাজয় বরণ করে নিতো। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সেই চেনা পরিবেশ বদলে গেল। নেই কোনো দালালের দৌরাত্ম্য, আছে পর্যাপ্ত ডাক্তার এবং বিনামূল্যে ঔষধ সরবারহ, সকল পরীক্ষার জন্য হাসপাতাল ল্যাব এবং নির্ধারিত ফি, অভিযোগ বাক্স, মনোরম বাগান এবং সুন্দর পরিবেশ। গত এক বছরেই বদলে গেল সব। আর এই সুন্দর কাজটি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ময়মনসিংহ এর সাথে আলোচনা এবং সুপারিশে তিনি নিয়েছিলেন এই পরিবর্তনের রূপরেখা। আজ রোগী কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই পাচ্ছে সঠিক ও নিরাপদ চিকিৎসা। গরীব অসহায়রা আজ ভরসা পাচ্ছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এভাবেই একটি নীরব দুর্নীতির ক্ষেত্র বদলে হয়ে গেল সাধারন মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। শুধু আমাদের একটু ইতিবাচক পরিবর্তনই বয়ে আনতে পারে সুন্দর ও সুস্থ একটি সমাজ ব্যাবস্থা। আমরা আশা রাখি একদিন আমাদের এই সোনার বাংলাদেশে থাকবে না কোনো অনিয়ম, অন্যায় ও দুর্নীতি। আমাদের হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, ভূমি অফিস, প্রশাসনিক অফিস থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে একদিন মুছে যাবে দুর্নীতি নামক শব্দটি। আমরা বিশ্বাস করি প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানেই থাকবে মমেকহা এর পরিচালকের মত একজন পরিচালক। যিনি সিসিটিভি তে সব দেখবেন এবং মাইকে বলবেন – “যদি সঠিক ভাবে জনসাধারণেরর সেবা করতে না পারেন, তা হলে আমি তার বিরুদ্ধে একশন নিবো। আমি জনগণের সেবা করতে এসেছি, জনগণের টাকায়। সরকার আমাকে বেতন দেয় জনগণের সেবার জন্য, আপনাদের অনিয়মের জন্য না।তাহলেই আমরা পাবো আমাদের কাঙ্কিত সোনার বাংলাদেশ।