বোম্বাই মরিচ চাষ করে শতশত পরিবার স্বাবলম্বী

Print Friendly, PDF & Email

পিরোজপুরে এবার মরিচের উৎপাদন অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। বোম্বাই জাতের মরিচের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে শতশত পরিবার।

পিরোজপুর জেলার ৭টি উপজেলার ৩টি পৌর ও ৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার ৭শ’ ১৬ হেক্টরে স্থানীয় জাত মনসা গর্জন এবং উচ্চ ফলনশীল যমুনা, শাকাটা ও মেজর জাতের মরিচের চাষ করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পিরোজপুরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় রবিশস্য মৌসুমে মরিচ চাষের এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করে ৬শ’ ৯৪ হেক্টরে ১ হাজার ৪১ মেট্রিক টন শুকনো মরিচ।

আবাদ শেষে দেখা গেছে চাষিরা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ২২ হেক্টর বেশি জমিতে মরিচের চাষ করেছে। এদিকে ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহ করে রোদে শুকানোর পর হিসেব করে পাওয়া গেছে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৩৩ মে.টন মরিচ বেশি উৎপাদিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মরিচের চাষ হয়েছে মঠবাড়িয়া, স্বরূপকাঠী এবং নাজিরপুর উপজেলায়।

এ ৩টি উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নে ৫শ’ ৩১ হেক্টরে মরিচের চাষ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে এবার রবিশস্য মৌসুমে জেলার বিভিন্ন স্থানে মরিচের ৩০টি প্রদর্শনী ক্ষেত তৈরী করা হয়। ৩৩ শতকের প্রতিটি ক্ষেতে সরকারী খরচে উন্নত জাতের মরিচের বীজ, সারসহ চাষাবাদের অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তারা বীজ বপন থেকে শুরু করে মরিচ শুকানো পর্যন্ত সার্বক্ষণিক মরিচ চাষিদের পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে স্বরূপকাঠী উপজেলার ২৪টি গ্রামের বোম্বাই জাতের মরিচ চাষ করে আর্থিক অস্বচ্ছলতা কাটিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন ৫ শতাধিক পরিবার। এদের মধ্যে কয়েকজন হয়েছেন লাখপতি। উপজেলার মাদ্রা, আতা, আদাবাড়ি, মাহমুদকাঠী, ব্রাম্মনকাঠী, জিন্দাকাঠী, আরামকাঠী, সুলতানপুর, নান্দুহার, গগন, জিলবাড়ি, জলাবাড়ি, বলদিয়া, সুটিয়াকাঠী, হরিহরকাঠী সহ ২৪ গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে বোম্বাই মরিচের চাষ হচ্ছে।

এ জাতের মরিচের চাষ যথেষ্ট লাভবান হওয়ায় প্রতি বছর অধিক সংখ্যক চাষি বোম্বাই মরিচের চাষে আকৃষ্ট হচ্ছে। বছর সাতেক আগে আদাবাড়ি গ্রামের কৃষি শ্রমিক রিপন হাওলাদার বোম্বাই মরিচের বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন। রিপন গত কয়েক বছরে প্রতি বছর মরিচ চাষের এলাকা বৃদ্ধি করে এ বছর ১০ বিঘা জমিতে মরিচের ক্ষেত করেছেন। রিপন এখন লাখপতি। রিপনের চাচা অসিম হাওলাদার ভাতিজার সাফল্য দেখে মরিচ চাষে আকৃষ্ট হয়েছেন এবং তিনিও শতাধিক শতক জমিতে বোম্বাই মরিচের চাষ করেছেন।

অসিম জানান, জমিতে মাটি কেটে আইল বেধে ক্ষেত তৈরী করা হয়। কার্তিক মাসের শেষ দিকে শুরু করা হয় বীজ বপন। অগ্রহায়নের মাঝামাঝি চারা তুলে সারিবদ্ধভাবে ক্ষেতে লাগানো হয়। পৌষের শেষ থেকে মরিচ গাছে ফুল এসে ফল ধরে এবং মাঘের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় মরিচ সংগ্রহ যা চলে জ্যৈষ্ঠের শেষ পর্যন্ত।

স্বরূপকাঠী উপজেলার কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রথিন ঘরামী জানান, প্রতি শতক জমিতে কম করে হলেও দেড় হাজার মরিচ উৎপন্ন হয়ে থাকে। প্রতি হাজার মরিচ স্থানীয় আড়তে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকায় বিক্রি হয়। এসব মরিচ আড়তদাররা ট্রাকভরে ঢাকার কারওয়ান বাজারে পাইকারী আড়তে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে ঢাকার বিভিন্ন কাচা বাজারে এবং দেশের অন্যান্য স্থানে খুচরা বিক্রির জন্য মরিচ পাঠিয়ে দেয়া হয়।

আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের আড়তদার সফিজ উদ্দিন জানান, প্রতিদিন গড়ে ৫টি মিনি ট্রাক ভর্তি মরিচ এসব অঞ্চল থেকে কারওয়ান বাজারে পাঠানো হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িয়ানার অর্থকরী ফসল বাংলার আপেল খ্যাত পেয়ারা বাগানে সাথী ফসল হিসেবে এখন মরিচের চাষ শুরু হয়েছে। পেয়ারা পাশাপাশি মরিচ, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, সিমসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে চাষিরা অধিক উপার্জন করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বোম্বাই মরিচ চাষিদের তারা অধিক উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।