যে কারণে পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা সৈকত

Print Friendly, PDF & Email

লাল কাঁকড়ার নৃত্য, সাগরের ঢেউ গর্জন করে তীরে আছড়ে পড়ার দৃশ্য দেখতে বছরের বেশির ভাগ সময়েই পর্যটকে ভরা থাকে কুয়াকাট সমুদ্র সৈকত। তবে এখন চিত্রটা একটু পাল্টেছে। প্রচণ্ড তাপদাহ আর পবিত্র রমজান উপলক্ষে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এখন পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকত জুড়ে রয়েছে শুনসান নিরবতা। পুরো সৈকত এখন ধু-ধু বালুচর। কোথাও নেই পর্যটকদের কোলাহল। এদিকে পর্যটকশূন্য হওয়ায় চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এখানে অনেক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটত। সকাল, দুপুর, বিকাল, কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত চলতো পর্যটকের আনাগোনা। কিন্তু রমজান মাস আর মৃদু তাপপ্রবাহের কারণে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পর্যটক শূন্য হয়ে গেছে। এছাড়া পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ উপকূল জুড়ে প্রচণ্ড তাপদাহে জনজীবন বিপরযস্থ্য হয়ে পড়েছে। বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসেও স্বস্তি মিলছে না। অনেকেই একটু স্বস্তির জন্য দিনের বেলায় গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। ফলে ঈদের মার্কেট হওয়া সত্বেও বিক্রি অনেক কম হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

সৈকত লাগোয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে গরম ও পবিত্র রমজানের কারণে পর্যটকদের আগমন কমে গেছে। আমাদের দোকানগুলো খোলা হয়নি।

ফটোগ্রাফার আলী হোসেন জানান, এখন কোন পর্যটক আসছে না। তাই এই মাস বসে থাকতে হচ্ছে।

হোটেল গ্রান্ড সাফা ইন্’র ম্যানেজানর মো. সাইদুর রহমান জানান, রোজার শুরু থেকে একটি রুমও বুকিং হয়নি। বর্তমানে হোটেলের বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা দুঃষ্কর হয়ে পড়েছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, প্রতি বছরই রমজান মাসে পর্যটকদের সংখ্যা কম থাকে। এ কারণে বর্তমানে হোটেল-মোটেলের সিট ফাঁকা রয়েছে। আশা করি রোজার পর ঈদে ব্যাপক পর্যটকরে চাপ থাকবে।