লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী সড়ক যেন এক মরণ ফাঁদ

Print Friendly, PDF & Email

ডাঃ মোঃ ফেরদৌসুর রহমান,এমবিবিএস পাশ করে এনেস্থেশিয়া সহ চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর আরো কয়েকটি বিষয়ে কোর্স করে ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে যোগদান করেছেন সরকারি চাকুরীতে। কর্মস্থল লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে দুই বছর কর্মকাল শেষ করে এম এস সার্জারী কোর্সে যোগদান করেছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে। পরিবার পরিজন এখনো রয়েছে লক্ষ্মীপুরের বাসায়। পয়লা বৈশাখের ছুটিতে এসেছেন লক্ষ্মীপুর শহরের বাসায়। ইচ্ছা ছিল স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে নববর্ষটা লক্ষ্মীপুরেই কাটাবেন। নব বর্ষের ঠিক আগের দিন সন্ধায় জরুরী কাজে মোটর সাইকেল নিয়ে যাচ্ছেন চন্দ্রগঞ্জ পথিমধ্যে চরচামিতা বাজারের পূর্ব পাশের্^ সংস্কারের নামে কেটে রাখা গর্তে পড়ে তার মোটর সাইকেলটি দূর্ঘটনায় পড়ে মারাত্বক ভাবে আহত হন তিনি। দূর্ঘটনায় ডাঃ ফেরদৌসের ডান হাতটির একটি হাড় ভেঙ্গে যায় এবং কব্জির জয়েন্ট লড়েযায়। এ ছাড়া হাটু সহ সারা শরীরে সড়কের পাথর ও কংকরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ধুমড়ে মুছড়ে যায় তার মোটর সাইকেলটিও। সড়ক বিভাগের উদাসীনতা ও ঠিকাদারের গাফলতিতে ডাঃ ফেরদৌস আজ পঙ্গু জীবন যাপন করছেন। শুধু ডাঃ ফেরদৌস নয় প্রতিনিয়ত এই সড়কে চলছে সড়ক দূর্ঘটনা।পঙ্গুত্ব রবণ করছে পথচারিরা। গর্তে পড়ে যান বাহন ও মালামাল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পথচারিরা প্রতিনিয়ত দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে।সড়ক বিভাগের কর্তা ব্যক্তিদের উদাসীনতা আর ঠিকাদারের অবহেলা আর ডিমেতালে কাজ কারার কারণে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী থেকে বর্তমানে চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার বাধের গোড়া পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সড়কই যেন আজ মরণ ফাঁদে পরিণত হয়ে আছে। এ নিয়ে পত্র পত্রিকায় বার বার সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লীষ্টদের কুম্বকর্ণের ঘুম যেন ভাংছেইনা। পুরো সড়কটি জুড়ে করে রাখা হয়েছে খাদা খন্দক। দুই পাশের্^ করে রাখা হয়েছে গভীর নালা। আবার কোথাও কোথাও সড়কের উপর আরসিসি ঢালাই করে রাখা হলেও সেই আর সিসি ঢালাইয়ের গোড়ায় সড়কের সাথে ১০/১৫ ইঞ্চি উচ্চতার ফারাক হয়ে থাকায় যান বাহন সহজে উঠা নামা করতে পারছেনা। 
বৃষ্টিতে সড়কের উপর কোথাও অথৈ পানি জমে যায়। আবার কোথাও কাদায় ভরে যায়। অপর দিকে পুরো সড়ক এখন খাদা খন্দকে পরিণত হয়ে যান চলাচল অনুপযোগী হয়ে আছে। গর্ত খোড়ার পর মাসের পর মাস ধরে পড়ে আছে এই গুরুত্বপূর্ন সড়কের গর্তগুলো। 
জানাযায়, এই সড়কের সংস্কার কাজ রানা বিল্ডার্স নামের একটি নির্মাণ ঠিকাদারের নামে হলেও এই কাজের নেপথ্যে রয়েছে লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিএনপি পন্থী আজিজুল করিম বাচ্চু সহ আরো দুই স্থানীয় ঠিকাদার। 
নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই এই সড়কের নির্মাণ কাজের মান নিয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। জেলা উন্নয়ণ ও সমন্বয় সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহ অন্যরা তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। তথ্য অনুসন্ধানে জানাযায়, বর্তমানে খুলনা মংলা ভোলা বরিশাল সহ দেশের ২৩টি জেলার যান বাহন চলাচলের একটি মাত্র সড়ক ও আঞ্চলিক মহা সড়কটির কাজ চলছে খুভই ডিমেতালে। প্রতিদিন যেখানে শত শত শ্রমিক কাজ করার কথা সেখানে কাজ করছে ৭ থেকে ১০জন শ্রমিক। তাও আবার একদিন কাজ করলে দুই দিন বন্ধ হয়ে থাকে। যার কারণে জন দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। বর্তমানে এই ১৮ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে যানবাহন চালকদের লেগে যায় ১ঘন্টারও বেশী সময়। যেখানে সময় লাগার কথা ছিল সর্বোচ্চ আধা ঘন্টা। 
আসছে ঈদে ও ঈদ পরবর্তী বর্ষায় এই সড়কটি যানবাহন চালক ও যাত্রীদের জন্য এক মরণ ফাঁদে রুপ নিবে বলে আশংকা করছেন সচেতন মহল। 
সড়কটির কাজের সার্বিক অবস্থা জানতে জেলা সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে ফোন করেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানাযায়নি। এ দিকে ফেইজবুক সহ বিভিন্ন স্যোসাল মিডিয়ায় অনেকেই মন্তব্য করতে দেখা গেছে এই কাজের ঠিকাদার বিএনপি পন্থী হওয়ায় সরকারের দূর্নাম রটাতেই তারা কাজ করছেন ডিমেতালে। আর এতে জনগনের সব রাগ ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে সরকারের উপর। আর বিএনপি পন্থী এই ঠিকাদারদের সহায়তা করছে খোদ নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম। ভুক্তভোগী যাত্রী ও যানবাহন মালিকরা এ ব্যাপারে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সহায়তা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
সম্পাদক
দৈনিক লক্ষ্মীপুর কন্ঠ