লক্ষ্মীপুরে জেলেদের চাল বিতরণেও সেই চেয়ারম্যানের চালবাজি

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনীমোহন ইউনিয়নে জেলেদের চাল বিতরণেও সেই চেয়ারম্যান ইউসুফ সৈয়ালের চালবাজির অভিযোগ উঠেছে।  জাটকা সংরক্ষণ প্রকল্পের ভিজিএফ চাল প্রতি জেলেকে ৪০ কেজি করে দেওয়ার কথা থাকলেও চেয়ানম্যানের নির্দেশে ২৮-৩০ কেজি করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জেলেরা।  গেল সোমবার (১৪ মে) ওই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের চাল বিতরণ কালে জেলেরা এ অভিযোগ করেন।

জানা যায়, জাটকা সংরক্ষণ প্রকল্পে জেলেদের ভিজিএফ ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ৮/১২ কেজি করে কম দেওয়া হচ্ছে।  এছাড়া চাল বিতরণের সময় মৎস্য অফিসের প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধি উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও কাউকে দেখা যায়নি।

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকার জাটকা সংরক্ষণের জন্য প্রতিবছর ফেব্রুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত ৪ মাস উপকূলীয় এলাকার জেলেদের প্রতিমাসে ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ করে থাকে। প্রতিবারের ন্যায় এবারও উপজেলার ২০নং চররমনিমোহন ইউনিয়নে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ শুরু হয়।

জেলেদের অভিযোগ, প্রতি মাসে জেলে জন প্রতি ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ রয়েছে।  কিন্তু সেখানে দেওয়া হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ কেজি করে।  উপকারভোগী মো. আজগর আলী, তোফায়েল আহম্মেদ, মনির সর্দার, নুর আলমসহ বেশ কয়েকজনের চাল পরিমাপ করা হলে তার প্রমাণ মেলে। তবে জেলে তালিকা থেকে বাদ পড়ার ভয়ে চাল কম পেয়েও অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা বলে জানা গেছে। গেলো বছরও একই অভিযোগ উঠেছে ওই ইউপি চেয়াম্যানের বিরুদ্ধে।  প্রশাসন নিরব থাকায় একের পর এক দিব্বি অনিয়ম করে যাচ্ছেন তিনি।

এব্যাপারে চররমনিমোহন ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল চাল কম দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, পরিবহন ও লেবার খরচের জন্য প্রতিমাসে ২-৩ কেজি করে কম দেয়া হচ্ছে। ১০/১২ কেজি করে কম দেওয়ার বিষয় এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে চলে এসেছি, হয়তো আমি আসার পরে কম দেওয়া হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা মৎস্য অফিসার আবুল কাশেম বলেন, আমি অসুস্থ থাকার কারণে যেতে পারিনি। চাল ৩৮ কেজি করে দেওয়ার কথা। যদি কম দিয়ে থাকে তাহলে এক্ষুণি চাল বিতরণ বন্ধ করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে বলবো।

এ ব্যাপারে জানতে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহিব উল্যা’র মুঠোফোনে বার বার কল করলে তিনি ফোন রিসিভড করেননি।

এর আগে লক্ষ্মীপুরের চর রমনি মোহন ইউনিয়নে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে জান্নাতুল মাওয়া নামে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাটি বরাট কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে চেয়ারম্যান আবু ইসুফের বিরুদ্ধে।  যার ধারাবাহিক রিপোর্ট চলছে শীর্ষ সংবাদ ডটকমে।