বাবা-ছেলের কাছে জিম্মি লক্ষ্মীপুর পূর্বাঞ্চলের মানুষ

Print Friendly, PDF & Email


নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের মানুষ চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা শাকিল ও তার বাবা খোরশেদ আলম এবং তাদের অনুগত বাহিনীর হাতে জিম্মী হয়ে আছে।
ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা শাকিলের বিরুদ্ধে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা চন্দ্রগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে।  বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একাধিক অভিযোগ পেন্ডিং পড়ে আছে।
বসুদুহিতা বটগাছ তলা এলাকার খোরশেদ আলমের পুত্র শাকিল ইতিপূর্বে র‌্যাবের হাতে জাল টাকা ও মাদক সহ আটক হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হানাহানি, মাদক ব্যবসা ও মিথ্যা মামলা সহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। পুত্র ছাত্র না হয়েও ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় তার বাবা খোরশেদ আলমও এলাকায় পুত্রের সহযোগী হয়ে চাঁদাবাজি,মারধর ও মিথ্যা মামলায় নিরিহ মানুষকে জড়িয়ে হয়রানি এবং সালিশ বাণিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, কেউ জমি জমা বিক্রি, দালান, দোকান নির্মাণ করলে বা কোথাও  কারো বিয়ে শাদী হলে শাকিল ও তার বাবাকে চাহিদামত চাঁদাদিতে হয়। চাঁদা না দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা ও বিশৃংখলা করে থাকে।
মঙ্গলবার সকালে লক্ষ্মীপুর শহরে একটি স্থানিয় পত্রিকার কার্যালয়ে এসে শাকিল ও তার বাবা খোরশেদ আলমের চাঁদাবাজি, হামলা মামলার শিকার ভুক্তভোগী বসুদুহিতা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান গাজী ও সিরাজ মিয়া ও তার স্ত্রী সহ কয়েকজন ভুক্তভোগী  সাংবাদিকদের নিকট শাকিল ও তার বাবা খোরশেদ আলমের চাঁদাবাজি, মামলা হামালার চিত্র তুলে ধরে বলেন, শাকিল ছাত্র না হয়েও ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
গত কিছুদিন আগে সিরাজ মিয়ার মেয়ে নীলার বিয়ে হলে শাকিলের বাবা খোরশেদ আলম তাদের বাড়িতে তার অনুগত দলবল নিয়ে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। তারা চাঁদাদিতে অস্বীকার করলে খোরশেদ আলম ও তার অনুগতরা তার মেয়ের জামাই ও বাড়ির নারীদের মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা তাকে চাঁদাদিতে বাধ্য হয়। সিরাজ মিয়ার সাথে তার বড় ছেলে সিএনজি অটোরিক্সা চালক শরীফের পারিবারিক ভাবে মত বিরোধ দেখা দিলে খোরশেদ আলম শরীফকে ডেকে নিয়ে তার বিরোধ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবী করে। সে উক্ত টাকা দিতে রাজি না হলে তাকে বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি ও হুমকী ধমকী দেয়। পিতা খোরশেদ আলমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শাকিল রাতের আধারে দল বল নিয়ে শরীফকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। তাদের উপস্থিতি টেরপেয়ে শরীফ ঘর থেকে পালিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষাপায়।
এ দিকে বার বার হুমকী ধমকী দিয়েও চাঁদা দিতে রাজি করাতে না পারায় উপরন্তু খোরশেদ আলম ও তার অনুগতদের চাঁদা দাবি সম্বলিত বক্তব্য মোবাইলে রেকর্ড করে রাখায় গত ৬ এপ্রিল সকালে সিএনজি অটো রিক্সা নিয়ে বের হওয়ার পথে শরীফকে তুলে নিয়ে শাকিল ও তার বাবা খোরশেদ আলম হত্যার চেষ্টা চালায়। স্থানীয় লোকজন শরীফকে উদ্ধার করে প্রথমে চন্দ্রগঞ্জ রয়েল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে শরীফের স্ত্রী আমেনা বেগম আদালতে শাকিল ও তার বাবা খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি  মামলা দায়ের করে। এ মামলা দায়েরের পর তাদেরকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকী ধমকী ও পাল্টা আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একটি কাল্পনিক মামলা দায়ের করে হয়রানির চেষ্টা করে যাচ্ছে।
অপর দিকে আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান গাজী জানান, তিনি মাটির ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। শাকিল ও তার লোকজন চাঁদার দাবীতে বাব বার তার গাড়ী আটক ও লেবারদের মারধর করে। এ ব্যাপারে তিনি চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দিলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় এনে পরবর্তীতে একটি মহলের তদবীরের কারণে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।  শাকিল ও তার বাবার চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও হামলা মামলার বিরোধিতা করলে তাদের উপর নির্মম নির্যাতন নেমে আসে। শাকিল ও তার বাবা খোরশেদ আলম হাজির পাড়া গ্রামের কল মেস্তুরী চাঁদমিয়ার ছেলে আবুল কালামকে আটক করে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। শিবপুর গ্রামের রহিমের ছেলের বিয়েতে চাঁদা দাবী করে না পেয়ে বিয়েতে বাধা প্রদান করে। তাদের পিতা পুত্রের অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ করে এ পর্যন্ত নির্যাতনে শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মী রাজু, অন্তর, যুবলীগ নেতা ফিরোজ যুবলীগ নেতা খলিল, খোকন  হোসেন, মুরাদ সহ আরো অনেকেই।
এলাকাবাসী জানায় শাকিল ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে যাবতীয় অপকর্ম করলেও আসলে সে কোন ছাত্র নয়। তার বাবরও কোন পেশা নেই। এক সময় টাইলস মেস্তুরীর কাজ করলেও এখন তিনি সব ছেড়ে পুত্রের দাফটে এবং পুত্রের নামে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও ব্লাক মেইলিং করা।
সাগর নামে তার আরো একটি পুত্র আছে। পিতা পুত্র তিনজনের কোন দৃশ্যমান পেশা বা আয় রোজগার নেই। তাদের কাজ নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজি। এলাকাবাসী শাকিল ও তার বাবা খোরশেদ আলমের অত্যাচার নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন।