লক্ষ্মীপুরে সামছুল আলম ভূঁইয়ার প্রতারণার শিকার ৩ কর্মচারি

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের ভুমি অধিগ্রহন  (এল এ) শাখার  অফিস সহকারি সামছুল আলম ভূঁইয়ার প্রতারণার শিকার হয়ে ধারে ধারে ঘুরছেন ভুমি অফিসে কর্মরত তিন কর্মচারি।
এই সামছুল আলম ভূঁইয়া ২০১১ইং সালের ৩মে এই তিন কর্মচারি গোলাম রহমান, সিরাজুল ইসলাম ও বরুন চন্দ্র দাসকে সহকারি তহশিলদার পদে পদোন্নতি করে দেওয়ার নাম করে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে নিয়েছেন।
এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযুক্ত সামছুল আলম ভূঁইয়া-পিয়ন হারাধন সহ অন্যান্যদের উপস্থিতিতে উক্ত টাকা গ্রহন করার কথা স্বীকার করেছেন এবং সমঝোতার মাধ্যমে তিনি এ টাকা সহসা ফেরৎ দিবেন বলেও জানিয়েছেন।
সামছুল আলম ভূঁইয়া জানান, এ টাকা গ্রহন করার পর তিনি উল্লেখিত ৩ জনের নামে চট্রগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে যথারীতি প্রস্তাবও প্রেরণ করেছেন। কিন্তু প্রস্তাবে ভুল ও অসম্পূর্নতা থাকায় সে প্রস্তাব ফিরে আসে।
এদিকে নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রস্তাব ফেরৎ আসার পর পরবর্তীতে তিনি উক্ত প্রস্তাব সংশোধন করে প্রেরণ না করে অন্য কর্মচারিদেরকে লোভ দেখিয়ে আরো তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা তার ফাঁদে পা দেননি। টাকা প্রদানকারিদের মধ্যে সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মান্দারী ইউনিয়ন ভুমি অফিসের পিয়ন  সিরাজুল ইসলাম প্রায় এক বছর আগে মৃত্যু বরণ করেছেন।
অপর দিকে  শারিরিক ভাবে অসুস্থ গোলাম রহমান তার প্রদত্ত টাকা ফেরৎ পেতে বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারির দুয়ারে ঘুরে ঘুরেও টাকা ফেরৎ না পেয়ে অবশেষে আইনী প্রদক্ষেপ গ্রহনের দিকে অগ্রসর হয়েছেন। ইতিমধ্যে টাকা ফেরৎ দেওয়ার জন্য গোলাম রহমান লক্ষ্মীপুর জজ কের্টের আইনজীবি বেলাল হোসেনের মাধ্যমে  গত (৬ মে) ডাকযোগে সামছুল আলম ভূঁইয়াকে উকিল নোটিশ প্রদান করেছেন বলে জানাগেছে।
গোলাম রহমান জানান, টাকা ফেরৎ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সামছুল আলম ভূঁইয়া তাকে আজকাল করে বছরের পর বছর ঘুরিয়েছেন। এ টাকা লেনদেনের কথা তাকে গোপন রাখার জন্য নানা ভাবে প্রলুব্ধ ও হুমকী ধমকীও দিয়েছেন এই সামছুল আলম। সামছুল আলম ও টাকা লেনদেনে সহায়তাকারি অফিস পিয়ন হারাধন এ প্রতিবেদকের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি টাকা নিয়ে কাজ করার জন্য কিছুটাকা খরচ করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশতঃ তিনি কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি নিজেদের মধ্যে সমজোতা বৈঠক করে তাদের টাকা ফেরৎ দিবেন। এর পর তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করে নানা তাল বাহানা করতে থাকেন।
এ দিকে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১১ সালের (৩ মে) সন্ধায় জেলা কালেকটরেটস্থ তার অফিসে সামছুল আলম ভূঁইয়া জেলা প্রশাসকের সিও পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় গোলাম রহমান, সিরাজুল ইসলাম ও বরুণ চন্দ্রদাসকে ডেকে তার অফিসে এনে তাদের সহকারি তহশীলদার পদে প্রমেশন করিয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে তিন লাখ টাকা ঘুষ নেয়। সে সময় তিনি একটি প্রস্তাবও বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। কিন্তু ভুল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় প্রস্তাবটি ফেরৎ আসে। এ দিকে সে উক্ত টাকা দিয়ে লক্ষ্মীপুর পৌর সভার ১২ নং ওয়ার্ড মজুপুরে পলেটেকনিক্যাল কলেজ সড়কের পাশ্বের গ্রামের মোল্লা বাড়ির ইউছুফ থেকে নিজ নামে  ৪শতাংশ জমিন খরিদ করে।  যার প্রতি শতাংশের মুল্য ছিল ৮০ হাজার টাকা। টাকার প্রয়োজনেই সে এই প্রতারণার আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে সে ভুমি অফিসের আরো অনেক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারিকে একই ভাবে প্রলুব্ধ করে। এদের মধ্যে একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি টাকা দিতে রাজি হলেও গোলাম রহমান গংদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা তার জানা থাকায় তিনি তাদের টাকা ফেরৎ দেওয়ার শর্তে রাজি হন এবং এ টাকা জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি এম আলাউদ্দিনের মধ্যস্থতায় দিতে শর্তদেন। এ কারণে সামছুল আলম ভূঁইয়া টাকা নিতে পরবর্তীতে রাজি হননি। এ দিকে পরবর্তীতে মামলা জটিলতার কারণে এই পদোন্নতির সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে টাকা গ্রহনে সহায়তাকারি পিয়ন হারাধনও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্যার টাকা নিয়েছেন। সেই মোতাবেক কিছু কাজও করেছেন। কিন্তু ভাগ্য সবারই খারাপ।
এ দিকে সামছুল আলম ভূঁইয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)এর সিও এর দায়িত্ব পালন কালে ও পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙ্গিয়ে লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। সে টাকায় সে প্রচুর পরিমাণ জমি ও বহুতল বাড়ি, মার্কেট করেছেন। তিনি বেশ কিছু জমি নামে বেনামে কিনেছেন বলে জানাগেছে।  তথ্য অনুসন্ধানে জানাযায়, সিরাজুল ইসলামের বর্তমানে একটি ছেলেও একটি মেয়ে বাক প্রতিবন্ধী। সিরাজের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার পরিজন চরম অর্থ কষ্টে জীবন যাপন করছেন। বরুণ চন্দ্র দাস বর্তমানে কমল নগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়ন ভুমি অফিসে এবং গোলাম রহমান বর্তমানে বামনী ইউনিয়ন ভুমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন।
এ দিকে লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের এডভোকেট বেলাল হোসেন জানান, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সামছুল আলম ভূঁইয়া তার মোয়াক্কেলকে কোন টাকা দেননি। এমনকি প্রেরিত উকিল নোটিশেরও কোন জবাব দেননি। যার কারণে তার মোয়াক্কেল মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।