শিয়ালের ইচ্ছে…

Print Friendly, PDF & Email

এক দেশে গভীর বন ছিল। বনে ছিল অনেক ধরনের পশুপাখি। এদের পাশাপাশি সেই বনে বাস করত এক বুড়ি। বুড়ি জাদু জানত। তার একটা জাদুর কাঠি ও আয়না ছিল। বনের পশুপাখিদের সঙ্গে বুড়ির খুব ভাব ছিল। কারও কোনো সমস্যা হলে সবাই বুড়ির কাছে আসত। বুড়িও তাদের সাহায্য করতে খুব ভালোবাসতো। বুড়ি মিথ্যা কথা খুব ঘৃণা করত। এই মিথ্যা কথা বলার জন্য কত জন যে শাস্তি পেয়েছে তা আর বলার নয়।
একদিন এক শিয়াল এসে বলল, ‘বুড়িমা, একটা কথা বলব?’ বুড়ি মাথা দুলিয়ে সায় দিল। শিয়াল বলল, ‘তুমি তো সবার উপকার করো। আমাকে একটু উপকার করবে?’ বুড়ি বলল, ‘পারি এক শর্তে। তুমি কখনো মিথ্যা কথা বলতে পারবে না। যারা মিথ্যা বলে আমি তাদের উপকার করি না। মনে রেখ, মিথ্যা বললে ক্ষতি হয়। তুমি যদি বলো তোমারও ক্ষতি হবে।’
শিয়াল বলল, ‘আচ্ছা ঠিক আছে। আমি সত্যি কথাই সব সময় বলব।’
‘তাহলে তুমি আমাকে কথা দিলে?’
‘দিলাম।’
বুড়িমা বলল, ‘ঠিক আছে। এবার বলো, তুমি কী চাও?’
শিয়াল কাঁচুমাচু করে বলল, ‘আমি বাঘ মামার বউ হতে চাই। সবাইকে খেয়ে ফেলে বলে বাঘমামাকে বড্ড ভয় লাগে। তাই বাঘ মামার বউ হলে আমাকে আর খাবে না।’
শুনে বুড়িমা ফোকলা দাঁতে হাসল। একটা জাদুর মন্ত্র বলতে বলতে জাদুর কাঠি ঘুরাতে লাগল। অমনি শিয়াল বাঘের বউ হয়ে গেল। শিয়াল নিজেকে খুঁজে পেল বাঘ মামার পাশে পালকিতে লাল টুকটুকে শাড়ি পরে বসে আছে সে। আশপাশে পশুপাখিরা হইচই করছে।
ভারি চমৎকার বাঘমামার বাড়ি। চারিদিকে বড় বড় গাছ। বাড়ির পাশে একটা বিরাট খোঁয়ার। খোঁয়ারে অনেক পশুপাখি আটকানো আছে। বাঘমামা একদিনে এদের খাবে না। দিনে দিনে বেলায় বেলায় খাবে। বন্দী পশুদের পাহারা দেয় এক গাধা। 
বাঘমামার বাড়িতে শুধু মাংস আর মাংস। কিন্তু শিয়াল (বাঘের বউ) শিয়ালের মাংস খেত না। একদিন বাঘমামা জিজ্ঞেস করল, কেন সে শিয়ালের মাংস খায় না? শিয়াল (বাঘের বউ) পড়ল বিপদে। সত্য বললে বাঘ ঘাড় মটকাবে। মিথ্যে বললে বুড়ির অভিশাপ লাগবে। একসময় সে মাথা ঘুরে পড়েই গেল।
জ্ঞান ফিরলে সে বলল, সে বাঘ নয়। ছদ্মবেশে আছে। সে আসলে একটা শিয়াল। বাঘমামা তো বিশ্বাসই করতে চায় না। প্রমাণের জন্য সে বলল বুড়ি মাকে নিয়ে আসতে।
শিয়াল পড়ল মহাবিপদে। সে বুড়িমাকে স্মরণ করতে লাগল। বুড়িমা জাদুর আয়নায় সব দেখছিল। সে বাঘের বউকে আবার শিয়াল বানিয়ে দিল। বাঘ খুশি হলো যে সে মিথ্যা বলেনি। কিন্তু তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে শিয়ালকে সে খোয়ারে আটকে রাখল। এরপর অনেক দিন কেটে গেল। বন্দী শিয়াল মনে মনে বুড়িমাকে দোষ দিতে লাগল। 
একদিন বুড়িমা ছদ্মবেশে সিংহ সেজে বাঘের সঙ্গে দেখা করতে এল। বলল, ‘বনের রাজা আমি। শুনলাম তুমি নাকি বিয়ে করেছ। আর আমাকে দাওয়াত দিলে না? তোমার ওপর আমি ভীষণ রেগে আছি।
বাঘ চিন্তায় পড়ল। ভাবলো, বিয়ে করেছি বললে বউ দেখতে চাইবে। তার চেয়ে বলে দিল, ‘মহারাজ, আমি তো বিয়েই করিনি।’ সঙ্গে সঙ্গে সিংহ বুড়িমা হয়ে গেল। বলল, ‘মিথ্যে বললে কেন?’ বুড়িমা জাদু দিয়ে বাঘকে ইঁদুর বানিয়ে দিল। তারপর শিয়ালকে খোয়ার থেকে বের করে আনল। সবাই আনন্দে বলতে লাগলে, ‘সত্যের জয় হোক, মিথ্যের ক্ষয় হোক।