টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের : লক্ষ্মীপুরে শ্রমিকের মজুরি গিলেছে এক্সক্যাভেটর

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের চর রমনি মোহন ইউনিয়নে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে জান্নাতুল মাওয়া নামে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাটি বরাট কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।  এই নিয়ে বারবার পত্রিকায় খবর প্রকাশের পরও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের।  প্রকল্পটির কাজ করছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউসুফ ছৈয়াল। অবৈধ পন্থায় মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন এবং মজুরি ভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ না করে এক্সক্যাভেটর মেশিন দিয়ে মাটি বরাটের কাজ করছেন তিনি। এতে কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ওই ইউনিয়নের হতদরিদ্র ও বেকার যুবকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চরাঞ্চলের হতদরিদ্রদের জন্য কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় এসব বরাদ্ধ দেয় সরকার। অথচ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করে ইউপি চেয়ারম্যান নিজের ইচ্ছে মত অনিয়ম-দূর্নীতির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। এনিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয় শ্রমিকরা।
সদর উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ণ-২ প্রকল্প বাস্তবায়নে-দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় চর রমনি মোহন জান্নাতুল মাওয়া আশ্রায়ণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ২ লক্ষ ১৭ হাজার ৮০০ বর্গফুট আয়তনে মাটির কাজের জন্য ৪৯৪.৩৩৩ মেট্টিক টন গম বরাদ্ধ হয়। যার সরকারি মূল্য ১ কোটি ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫৯৯ টাকা। এর মধ্যে মূল মাটির কাজে ১৮৮.৬৫৬ এবং সর্দার সুপারভাইজারসহ আনুসাঙ্গিক কাজের জন্য ৩০৫.৬৭৮ মেট্রিক টন গম ধার্য করা হয়। প্রতি ঘনমিটার মাটির কাজে ৩.২৭৬ হারে (গম) মজুরি ভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ করার কথা রয়েছে। প্রকল্পের কাজের সময় নির্ধারণ করা হয় ২২ জানুয়ারী থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজের ৫০ ভাগই শেষ করতে পারেনি। আরো জানা যায়, এ পর্যন্ত ১৮৭.৫০ মেট্টিক টন গম উত্তোলন করা হয়েছে। প্রতি টন উত্তোলনে ১২৫ জন শ্রমিক মজুরি দেখানো হয়েছে।
অথচ সরেজমিনে ওই ইউনিয়নের আশ্রায়ণ প্রকল্পে  গিয়ে দেখা যায়, চর রমনি মোহন ইউনিয়নের মেঘনা নদীর দীপ এলাকায় অবস্থিত আশ্রায়ণ প্রকল্পটি। প্রকল্পে মাটির কাজে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কোন শ্রমিকই নিয়োগ করা হয়নি। দু’টি এক্সক্যাভেটর মেশিন দিয়ে মাটির কাজ করা হচ্ছে। সরকারের কোন নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ ছৈয়াল। করছে নিজের খাম খেয়ালি মত কাজ। পাশের মেঘনা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে প্রকল্পের কাজে যানান দিচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মাঠে তেমন কাজ নেই। তারা বেকার সময়ই কাটাচ্ছেন। তাদের কাজের খুবই অভাব। কিন্তু আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মাণে কাজ করতে পারলে তারা তাদের পরিবার নিয়ে কয়েকটা দিন চলতে পারতো। কিন্তু ড্রেজার ও মেশিন দিয়ে মাটি কাটার কারনে স্থানীয়রা কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা আরো জানান, এ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গরীব ও অসহায়দের জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু সেখানে শ্রমিকরাই কাজ করতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজসে ইউপি চেয়ারম্যান শ্রমিকদের নামে প্রকল্পের (গম) টাকা আত্মসাত করছেন বলে তাদের অভিযোগ।
ওই ইউনিয়ণ আওয়ামীলীগের এক নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে দেশের উন্নয়ন করে বিশ্ব দরবারে রোল মডেল হিসাবে বাংলাদেশকে দাঁড় করাচ্ছেন। অথচ একটি বিশেষ সুযোগ সন্ধানী মহল তা ম্লান করে দিতে অপচেষ্টা করছে।


অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে প্রকল্প সভাপতি ও স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল অনিয়মের বিষয় স্বীকার করে বলেন, বিভিন্ন টেবিলে ভাগ দিয়ে যে বরাদ্ধ থেকে শ্রমিক দিয়ে কাজ করলে পৌসবে না। বাধ্য হয়েই ড্রেজার ও বেকো মেশিন দিয়ে মাটির কাজ করা হচ্ছে। মাটি ভরাট করতেই নিজের থেকে টাকা লাগবে আবার চারপাশে রিং বাধ ও ঘাস বসানোর টাকা কোথায় পাবো।
এ ব্যাপরে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, কাজ শ্রমিক দিয়েই করানো হচ্ছে এবং বরাদ্ধের গম শ্রমিকের পারিশ্রমিক হিসাবেই উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ও বেকো দিয়ে কেন্দ্র বরাটের ভিডিও দেখানো হলে কথাগুলো পাল্টে ফেলেন এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, শুধু প্রয়োজন নির্মাণ করা, যেমন ইচ্ছা তেমন করা যাবে।