বাঘ খেকো শিয়ালের ছানা

Print Friendly, PDF & Email
ছোট বেলায় আমরা অনেক মজার মজার গল্প পড়ছি, এখনো হয়তো অনেক গল্পের কাহীনি একটু একটু মনেথাকতে পারে। কিছু গল্প ছোট ক্লাসে পাঠ্য ছিলো কিছু গল্প হয়তো ছোট বেলায় আমরা বড়দের মুখথেকে শুনছি ।

ছোট বেলার কিছু গল্পের ধারাবাহিক নিয়ে আবার আমার আগমন । সাইটের দুরাবস্থার কারনে অনেক দিন আসা হয়নি । ছোটবেলার গল্পগুলোর রচয়ীতাদের আমরা হয়তো ভূলেই গেছি । তাই এমন ই একজন লেখকের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে শিরোনামের গল্পটি শুরু করবো ।

এক শিয়াল আর এক শিয়ালিনী ছিল। তাদের তিনটি ছানা ছিল, কিন্ত থাকবার জায়গা ছিল না।

তারা ভাবলে, ‘ছানাগুলোকে এখন কোথায় রাখি? একটা গর্ত না হলে তো এরা বৃষ্টিতে ভিজে মারা যাবে।’ তখন তারা অনেক খুঁজে একটা গর্ত বার করলে, কিন্ত গর্তের চারধারে দেখলে, খালি বাঘের পায়ের দাগ! তা দেখে শিয়ালিনী বললে, ‘ওগো এটা যে বাঘের গর্ত। এর ভিতরে কি করে থাকবে।?’

শিয়াল বলল, ‘এত খুঁজেও তো আর গর্ত পাওয়া গেল না। এখানেই থাকতে হবে।’

শিয়ালিনী বললে, ‘বাঘ যদি আসে, তখন কি হবে?’

শিয়াল বললে, ‘তখন তুমি খুব করে ছানাগুলির গায়ে চিমটি কাটবে। তাতে তারা চেঁচাবে, আর আমি জিজ্ঞেস করব-ওরা কাঁদছে কেন? তখন তুমি বলবে-‘ওরা বাঘ খেতে চায়।’

তা শুনে শিয়ালিনী বললে, ‘বুঝেছি। আচ্ছা, বেশ!’ বলেই সে খুব খুশি হয়ে গর্তের ভিতরে ঢুকল। তখন থেকে তারা সেই গর্তের ভিতরেই থাকে।

এমনি করে দিন কতক যায়, শেষে একদিন তারা দেখলে যে, ঐ বাঘ আসছে। অমনি শিয়ালিনী তার ছানাগুলোকে ধরে খুব চিমটি কাটতে লাগল। তখন ছানাগুলি যে চেঁচাল, তা কি বলব!

শিয়াল তখন খুব মোটা আর বিশ্রী গলার সুর করে জিগগেস করলে, ‘খোকারা কাঁদছে কেন?’

শিয়ালিনী তেমনি বিশ্রী সুরে বললে, ‘ওরা বাঘ খেতে চায়, তাই কাঁদছে।’

বাঘ তার গর্তের দিকে আসছিল। এর মধ্যে ‘ওরা বাঘ খেতে চায়’ শুনে সে থমকে দাঁড়াল। সে ভাবলে, ‘বাবা! আমার গর্তের ভিতর না জানি ওগুলো কি ঢুকে রয়েছে। নিশ্চয়ই ভয়ানক রাক্ষস হবে, নইলে কি ওদের খোকারা বাঘ খেতে চায়!’

তখুনি শিয়াল বললে, ‘আরে বাঘ কোথায় পাব? যা ছিল, সবই তো ধরে এনে ওদের খাইয়েছি!’

তাতে শিয়ালিনী বললে, ‘তা বললে কি হবে? যেমন করে পার একটা ধরে আনো, নইলে খোকারা থামছে না।’ বলে সে ছানাগুলোকে আরো বেশী করে চিমটি কাটতে লাগল।

তখন শিয়াল বললে, ‘আচ্ছা, রোস রোস। ঐ যে একটা বাঘ আসছে। আমার ঝপাংটা দাও, এখুনি ওকে ভতাং করছি।’

ঝপাং বলেও কিচ্ছু নেই, ভতাং বলেও কিচ্ছু নেই-সবই শিয়ালের চালাকি। বাঘের কিন্ত সেই ঝপাং ও ভাতাং শুনেই প্রান উড়ে গেল। সে ভাবলে, ‘মাগো, এই বেলা পালাই, নইলে না জানি কি দিয়ে কি করবে এসে! বলে সে আর সেখানে একটুও দাঁড়াল না। শিয়াল চেয়ে দেখল যে, লম্বা লম্বা লাফ দিয়ে ঝোপ জঙ্গল ডিঙ্গিয়ে ছুটে পালাচ্ছে! তখন শিয়াল আর শিয়ালিনী লম্বা নিঃশ্বাস ছেড়ে বললে, যাক, ‘আপদ কেটে গেছে!’

বাঘ তখনো এমনি ছুটছে যে তেমন আর সে কখনো ছোটেনি।

একটা বানর গাছের উপর থেকে তাকে ছুটতে দেখে ভারি আশ্চর্য হয়ে ভাবলে, ‘তাই তো, বাঘ এমনি ছুটছে, এ তো সহজ কথা নয়! নিশ্চয় একটা ভয়ানক কিছু হয়েছে!’ এই ভেবে সে বাঘকে ডেকে জিগগেস করলে, ‘বাঘ ভাই, বাঘ ভাই, কি হয়েছে? তুমি যে অমন করে ছুটে পালাচ্ছ?’

বাঘ হাঁপাতে হাঁপাতে বললে, ‘সাধে কি পালাচ্ছি? নইলে এক্ষুনি আমাকে ধরে খেত!’ 

বানর বললে, ‘তোমাকে ধরে খায়, এমন কোনো জানোয়ারের কথা তো আমি জানিনে। ও কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না!’

বাঘ বললে, ‘যদি সেখানে থাকতে বাপু, তবে দেখতুম! দূর থেকে অমনি করে সকলেই বলতে পারে!’

বানর বললে, ‘আমি যদি সেখানে থাকতুম, তবে তোমাকে বুঝিয়ে দিতুম যে সেখানে কিছু নেই। তুমি বোকা, তাই মিছামিছি অত ভয় পেয়েছ!’ এ কথায় বাঘের ভারি রাগ হল।

সে বললে, ‘বটে! আমি বোকা? আর তোমার বুছি ঢের বুদ্ধি! চল তো একবার সেখানে যাই!’

বানর বললে, ‘যাব বইকি, যদি আমাকে পিঠে করে নিয়ে যাও।’

বাঘ বললে, ‘তাই সই! আমার পিঠে বসেই চল।’ এই বলে সে বানরকে পিঠে করে আবার গর্তের দিকে ফিরে চলল।

শিয়াল আর শিয়ালিনী সবে ছানাদের শান্ত করে একটু বসেছে, আর অমনি দেখে, বানরকে পিঠে করে বাঘ আবার আসছে। তখন শিয়ালনী তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে আবার ছানাগুলোকে চিমটি কাটতে লাগল, ছানাগুলিও ভূতের মতো চ্যাঁচাতে শুরু করল।

তখন শিয়াল আবার সেই রকম সুর করে বললে, ‘আরে থামো, থামো! অত চেঁচিও না-অসুখ করবে।’ শিয়ালনী বললে, ‘আমি বলছি, যতক্ষণ না একটা বাঘ এনে ওদের খেতে দেবে, ততক্ষণ এরা কিছুতেই থামবে না।’

শিয়াল বললে, ‘আমি যে ওদের মামাকে বাঘ আনতে পাঠিয়েছি। এখুনি সে বাঘ নিয়ে আসবে, তোমরা থামো!’

তারপর একটু চুপ করেই সে আবার বললে, ‘ঐ,ঐ! ঐ যে তোদের বাঁদর মামা একটা বাঘ ধরে এনেছে! আর কাঁদিসনে; শিগগির ঝপাংটা দে, ভতাং করি!’

বানরের এতক্ষণ খুব সাহস ছিল। কিন্ত ঝপাং আর ভতাঙের কথা শুনে আর সে বসে থাকতে পারল না। সে এক লাফে একটা গাছে উঠে, দেখতে দেখতে কোথায় পালিয়ে গেল।

আর বাঘের কথা কি আর বলব! সে যে সেইখান থেকে ছুট দিলে, দুদিনের মধ্যে আর দাঁড়ালই না।

তারপর থেকে আর শিয়ালদের কোন কষ্ট হয়নি। তারা মনের সুখে সেই গর্তে থেকে দিন কাটাতে লাগল।
লেখকের অনেক গুলো গল্পই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, বর্তমানে বিদেশী গল্পের ভিড়ে শিশুদের জন্য দেশী গল্প গুলো হারিয়ে যাচছে । লেখকে অন্যান্য গল্প গুলোর আংশিক বর্ননাঃ

টুনাটুনির বইঃ

টুনটুনি আর বিড়ালের কথা
টুনটুনি আর নাপিতের কথা
টুনটুনি আর রাজার কথা
নরহরি দাস
বাঘ মামা আর শিয়াল ভাগ্নে
বোকা জোলা আর শিয়ালের কথা
কুঁজো বুড়ির কথা
উকুনে বুড়ির কথা
পান্তাবুড়ির কথা
চড়াই আর কাকের কথা
চড়াই আর বাঘের কথা
দুষ্ট বাঘ
বাঘ-বর
বাঘের উপর টাগ
বাঘের পালকি চড়া
বুদ্ধুর বাপ
বোকা বাঘ
বাঘের রাঁধুনি
বোকা কুমিরের কথা
শিয়াল পণ্ডিত
সাক্ষী শিয়াল
বাঘখেকো শিয়ালের ছানা
আখের ফল
হাতির ভিতরে শিয়াল
মজন্তালী সরকার
পিঁপড়ে আর হাতি আর বামুনের চাকর
পিঁপড়ে আর পিঁপড়ীর কথা

গল্প মালাঃ

সহজে কি বড়লোক হওয়া যায়?
বড়লোক কিসে হয়?
বানর রাজপুত্র
পাকা ফলার
দুঃখীরাম
ঠাকুরদা
নরওয়ে দেশের পুরান
ঠানদিদির বিক্রম
ঘ্যাঁঘাসুর
বুদ্ধিমান চাকর
বেচারাম কেনারাম (নাটক)
ঝানু চোর চানু
ছোট ভাই
কাজির বিচার
সাতমার পালোয়ান
কুঁজো আর ভূত
জাপানী দেবতা
তিনটি বর
গুপি গাইন ও বাঘা বাইন
লাল সূতো আর নীল সূতো
দুষ্ট দানব
গল্প নয় সত্য ঘটনা
জেলা আর সাত ভুত
বুদ্ধিমান চাকর
ফিঙে আর কুঁকড়ো
পণ্ডিতের কথা
গল্প-সল্প
তারপর?
ভুতো আর ঘোঁতো
গিল্‌ফয় সাহেবের অদ্ভুত সমুদ্র-যাত্রা
খুঁত ধরা ছেলে
নুতন গল্প
ভূতের গল্প
সাগর কেন লোনা?
ভীতু কামা (জুলু দেশের গল্প)