২৬ টাকায় ধান কিনবে সরকার, সন্তুষ্টির সঙ্গে শঙ্কা!

Print Friendly, PDF & Email
২৬ টাকায় ধান কিনবে সরকার, সন্তুষ্টির সঙ্গে শঙ্কা!

ঢাকা: চলতি মৌসুমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনবে সরকার। দরও নির্ধারণ হয়েছে কেজিতে দুই টাকা বাড়িয়ে ২৬ টাকা। উত্তরের কৃষকেরা এতে খুশি হলেও অবৈধ মজুদদারি সিন্ডিকেট নিয়ে শঙ্কা আছে অনেকের।

কৃষকরা বলছেন, ঘোষিত রেটে কিছুটা হলেও এবার লাভ থাকবে। ২৬ টাকা কেজি দরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনলে সরাসরি এর সুফল পাবে কৃষক। আর মিলারদের কাছ থেকে ৩৮ টাকা রেটে চাল নিলে পরোক্ষ সুফল পাবে উৎপাদক অর্থাৎ এই কৃষকেরাই।

নতুন ধান ওঠার সময় পুরনো মজুদ বাজারে ছেড়ে দরপতনের ফায়দা নেয় সিন্ডিকেট। পানির দামে কেনা বিশাল মজুদ ঘরে রেখে সংকটের কথা বলে আরেক রকম সুযোগ নেয় তারা। এই সিন্ডিকেট না ভাঙলে কোনো উদ্যোগ কাজে আসবে না বলে ধারণা অনেকের।

জাতীয় কৃষক সমিতির সমন্বয়কারী (রংপুর বিভাগ) নজরুল ইসলাম হাক্কানী বলেন, সরকারের ঘোষিত যে টার্গেট সে অনুযায়ী সরকার কিনলো কিন্তু বর্ধিত যে ধানটা থাকবে সেক্ষেত্রে সরকার কি ভূমিকা রাখবে বা কি ধরণের মনিটরিং করবে সেটা দেখার বিষয়। এখানে যদি ভালোভাবে নজরদারী করতে না পারে তাহলে কিন্তু সিন্ডিকেট বেড়ে যাবে।

সরকারের নানান পরিকল্পনা কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে বলে দাবি রংপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহজাহান ভূঁইয়ার।

তিনি বলেন, কৃষককে তার ন্যায্য মূল্য দেয়ার জন্যই এই সংগ্রহ ক্রয় অভিযান। এটা একদিকে সরকারের আপদকালীন সময়ের জন্য সংগ্রহ অন্যদিকে কৃষকের ন্যায্যমূল্য দেয়ার জন্য ব্যালেন্স রাখা।

এদিকে সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলগুলোতে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা উৎসব। এ বছর এখনো আবহাওয়া ভালো থাকায় ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। ফলন ভালো হওয়ায় গতবারের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

সুনামগঞ্জে এ বছর বোরোর আবাদ হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ২৯৪ হেক্টর জমিতে। বোরো চাষ করছেন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ চাষী পরিবার। হাওরের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এখন সবুজ ও সোনালী ধানের সমারোহ। এরই মধ্যে জেলার সবক’টি হাওরেই বিচ্ছিন্নভাবে সোনালি ফসল ঘরে তুলতে শুরু করেছেন কৃষকরা।

গেলো বার বন্যায় ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হলেও, আবহাওয়া এখনো ভালো থাকায় দেখাচ্ছে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। বোরোর ফলন এবার ভালো লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলেও শুরু হয়েছে ধানকাটা। এ জেলায় এবার বোরোর আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে। আর চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬শ’ মেট্রিক টন। ফলন ভালো হলেও দাম কম থাকায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা।

এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরোর ফলন আশানুরূপ হয়েছে বলে জানান এই জেলা কৃষি কর্মকর্তা। ফসল ঘরে তোলার এই কয়েকদিন আবহাওয়া যেনো অনুকুলে থাকে সেই প্রত্যাশা কৃষকের।