সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে উদ্যোগ

Print Friendly, PDF & Email
সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে উদ্যোগ

ঢাকা : বিপুল অর্থ ব্যয় করে সড়ক নির্মাণ করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জনগণের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বহু দিনের। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বেগ প্রকাশ করায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। গত রোববার এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এ সময় সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, মুহিবুর রহমান মানিক, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে নিজ কার্যালয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী এলাকার বৈশিষ্ট্য মেনে রাস্তা সংস্কার করা হবে। রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারে বিদেশি অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তি কাজে লাগাতে একটি কমিটি গঠন করা হবে। সড়ক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে দুজন করে সদস্য কমিটিতে থাকবে। এই কমিটি ১৫ দিনের মধ্যে বিদেশ সফর করে এসে প্রতিবেদন দাখিল করবে। তারপরই সিদ্ধান্ত হবে কংক্রিট ও বিটুমিন- যেখানে যেটি প্রয়োজন সেখানে সেটি ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া উপকূলীয় ও হাওর অঞ্চলের জন্য ভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশ এখন উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। দেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নত দেশের মতো হওয়া উচিত। পাকিস্তান আমলে সড়ক তৈরি হতো রিজিট পেভমেন্ট (কংক্রিটের)। স্বাধীনতার পর ফ্লেক্সিবল পেভমেন্টে (বিটুমিন) রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। আগে গ্রামাঞ্চলের সড়কগুলোয় ভারী যানবাহন চলত না। এখন প্রত্যন্ত গ্রামেও ৩০ টন পর্যন্ত মালবাহী ট্রাক যাচ্ছে। ফলে ওই রাস্তাগুলো টেকসই হচ্ছে না। এজন্য রাস্তাঘাট তৈরির পদ্ধতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন।’ গ্রামীণ সড়কগুলো প্রশস্ত ও মজবুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে জরুরি ভিত্তিতে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সারা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত সংস্কার, রাস্তার পাশে পুকুর থাকলে রিটেইনিং ওয়াল এবং গাইড ওয়াল নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি রাস্তার কাছে পুকুর খননে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আজাদ বলেন, ‘দুবছর আগে মালয়েশিয়ার আদলে সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত নির্দেশনাটি বাস্তবায়িত হয়নি। গ্রামে গেলে নবম-দশম শ্রেণির ছেলেমেয়েরা পর্যন্ত সড়ক টেকসই না হওয়ার কারণ জানতে চায়।’

কমিটির সদস্য মহিবুর রহমান মানিক বলেন, ‘প্রকৌশলীরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। জনগণের প্রতিনিধিরা যেভাবে রাস্তা করতে বলবে, প্রকৌশলীরা সেভাবেই করবেন।’