লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে রোগী দুর্ভোগ চরমে : জনবল সংকট

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নানা সমস্যায় জর্জরিত ১শ’ শর্য্যা বিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতাল।  কয়েক বছর ধরে চিকিৎসক ও জনবল সংকট এবং সঠিক নজরদারির অভাবে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা  শতশত রোগীদের। দৈনিক আউটডোর-ইনডোরে রোগীর বাড়তি চাপ থাকায় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। এতে সেবা দানে ব্যহত হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।  দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সদর হাসপাতালের ভোগান্তি আরো চরম আকার ধারণ করবে।


জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলার ১৭ লাখ মানুষের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র হচ্ছে জেলা সদর হাসপাতাল। জেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৮০ সালে প্রথম লক্ষ্মীপুর চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করা হয়। যা পরবর্তী ১৯৮৪ সালে এটিকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০০৩ সালে লক্ষ্মীপুরসহ সারাদেশের ১৮টি হাসপাতালকে ১শ’ শয্যায় উন্নিত করেন তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাবের সিনিয়র সচিব মোঃ জাবেদ আলী। সদর হাসপাতালকে ১শ’ শষ্যা উন্নিত করা হলেও ৫০ শষ্যা হাসপাতালেরও জনবল নেই এ হাসপাতালটিতে। ১শ’ ২৫টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ৭৪জন। এতে সেবাদানে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে রোগী ও স্বাজনদের।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লক্ষ্মীপুরের এক জনসভায় এসে ১০টি উন্নয়ণ প্রকল্পের সাথে জেলা সদর হাসপাতালটিকে ২শ’ ৫০ শয্যায় জেনারেল হাসপাতালে ঘোষণা করেন। শয্যা বাড়লেও বাড়ে না লোকবল।

প্রতিদিন সকালে আউটডোরে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালের টিকেট কাউন্টারের সামনে গাদাগাদি করে নারী-পুরুষ অপেক্ষা করে টিকেটের জন্য।


টিকেট নিয়ে রোগী ও স্বজনরা ভিড় জমান নির্দিষ্ট রোগের ডাক্তারদের করে সামনে। দীর্ঘণ অপেক্ষা পর অনেকে সাক্ষাৎ পান অনেকে আবার সাক্ষাৎ না পেয়ে ফিরে যেতে হয় বাড়িতে। কেউ সঠিক সময় চিকিৎসা পেয়ে ভেজাই খুশি। কেউ আবার চিকিৎসা না পেয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

রোগী ও স্বজনরা শীর্ষ সংবাদকে জানান, হাসপাতালের ৩য় তলায় গাইনী ও শিশু ওয়ার্ডে সারা বছরই রোগীদের ভিড় থাকে। এতে চরম দুর্ভোগে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। স্থান সংকুলন না হওয়ায় এক বেটে তিন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হয়। অনেকে আবার বিছানা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝেতে থাকতে হয়। ফলে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক ও নার্সদের।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন শীর্ষ সংবাদকে বলেন, একদিকে জনবল সংকট অন্যদিকে চক্ষু ও কার্টিওলজি বিভাগের ডাক্তার না থাকায়  হিমশিম খেতে হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা খালেদ শীর্ষ সংবাদকে বলেন, এ হাসপাতালে রোগীর চাপ অত্যান্ত বেশি। সে তুলনায় জনবল সংকট রয়েছে। এতে সেবা দানে ডাক্তারদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও মান সম্মত সেব দেওয়ার চেষ্টা করছি। জনবল নিয়োগের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

দেখুন ভিডিও…