সিংহ ও ইঁদুরের গল্প

Print Friendly, PDF & Email

এক যে ছিল সিংহ, মনে করি তার নাম তরুণরাজ, সে এক দুপুরে শিকার করে ভরপেট খানাদানা শেষে ঘুমিয়ে ছিল। এমন সময় এক ইঁদুর সে পথ দিয়ে যাচ্ছিল। সিংহ ঘুমিয়ে আছে দেখে সে ভাবল, একটু এডভেঞ্চার করা যাক। সে সিংহের শরীরের ওপর উঠে গেল, তারপর ঘুমন্ত সিংহের নাকের কাছে গিয়ে মোবাইল বের করে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে লিখল, হ্যাশট্যাগ থাগ লাইফ। মুহূর্তের মধ্যে সেই ছবিতে লাইকের বন্যা। বাপরে বাপ। ইঁদুরের সাহস কত্ত বড়! সিংহের নাকের ডগায় বসে সেলফি! ইঁদুর তার জীবনে কোনো পোস্টে এত লাইক পায়নি, সে আনন্দে দিগ্বিদিক হারিয়ে ঢুকে গেল সিংহের নাকের ভিতর। যেই সিংহের নাকে ঢুকেছে অমনি সুড়সুড়িতে সিংহের ঘুম গেল ভেঙে। সিংহ ভীষণ রেগে হুঙ্কার দিয়ে উঠল। সে তত্ক্ষণাৎ ফেসবুক লাইভে গিয়ে ইঁদুরকে হত্যা করতে চাইল। ইঁদুর বেচারা প্রাণ ভয়ে বলল, ‘মহারাজ, আমি না বুঝে অপরাধ করে ফেলেছি। আমায় ক্ষমা করুন। আপনি পশুর রাজা, আপনি মহান। আমার মতো ক্ষুদ্র ইঁদুরকে হত্যা করলে তা হবে আপনার জন্য কলঙ্কের। সিংহ মুচকি হেসে ইঁদুরকে ছেড়ে দিল। কিছুদিন পর সিংহকে এক শহরের চিড়িয়াখানা নানান লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখানে নিয়ে যাওয়ার অফার দিল। সিংহ ভেবে দেখল, বনে বাঁদাড়ে তো অনেক ঘুরাফেরা হলো, এবার শহরে যাওয়া যাক। সে শুনেছে শহরে অনেক মজা হয়। তাছাড়া এই জঙ্গলে শিকার ধরাও নানান ঝক্কি ঝামেলার কাজ। তার চেয়ে চিড়িয়াখানায় ভরপেট ফ্রি খানাদানা, সেবাযত্ন। দুবেলা কেবল দর্শনার্থীদের সামনে একটু হাঁটাহাঁটি। হাঁটাহাঁটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। একই সঙ্গে চিড়িয়াখানায় গেলে সবাই তার ছবি তুলে ইন্সটাগ্রামে আপ দিবে, সে ফেমাস হয়ে যাবে। সিংহ নাচতে নাচতে শহরের চিড়িয়াখানায় চলে গেল। কিন্তু চিড়িয়াখানায় এসে দেখল, তাকে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতিই মিথ্যা। সিংহের জন্য বরাদ্দ খাবারকে বা কারা যেন নিজেরাই খেয়ে সাবাড় করে দিচ্ছে। বন্দী খাঁচায় দিনের পর দিন সিংহকে থাকতে হচ্ছে অনাহারে। না খেতে পেরে সিংহ দেখতে হয়ে গেল কঙ্কালের মতো। কেউ তার ছবি তুলে না উল্টা মেনিবিড়াল বলে উপহাস করে। ক্ষুধার জ্বালায় সিংহ চিৎকার করে কাঁদতেও পারে না। সেই এনার্জিটুকু তার অবশিষ্ট নেই। সিংহ যখন প্রায় মৃতপ্রায় সেই সময় এলো ওই ইঁদুর। সিংহ ইঁদুরকে অনুরোধ করল, তার দুরবস্থার কথা সবাইকে জানাতে। সিংহের কথা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তাকে উদ্ধারের জন্য সবাই ছুটে আসে। সিংহ প্রাণে বেঁচে যায়।

উপদেশ এক : কারও উপকার করলে, তা বৃথা যায় না।

উপদেশ দুই : ভাবিয়া চিড়িয়াখানায় যাইয়ো, গিয়া মরিয়ো না।