শিয়ালের মুরগী অভিযান

Print Friendly, PDF & Email
প্রতিদিন রাত ১২টার পর শিয়াল কল্যাণ সংস্থায় একটি সভা বসে। কে কিভাবে শিকার করল এবং কিভাবে আরো সহজ পদ্ধতিতে শিকার করা যাবে তা নিয়ে ঐ সভায় আলোচনা হয়। তো যথারীতি কালকেও শিয়াল কল্যাণ সংস্থায় সভা বসল। শিয়াল পন্ডিতের সাথে সবাই কুশল বিনিময় করে সভা শুরু করল। শিয়াল পন্ডিত জানতে চাইল কে কিভাবে আজ শিকার করেছে। 
প্রথমে বলল শিয়াল কাটকা শিং: 
অনেকদিন ধরেই আমি আমাদের পাশের বাড়ির মুরগীটাকে লক্ষ করছিলাম। সে আমার সামনেই ছোট থেকে বড় হলো। প্রতিদিন তাকে ভাগে আনতে চেষ্ঠা করি কিন্তু সে আমাকে ফাকি দিয়ে চলে যায়। তো আজ সে স্কুলে যাওয়ার সময় তাকে রাস্তায় একা পেয়ে যাই। সে একা দেখে আমি তাকে শিশ দেই এবং সে রাগে আমাকে মারতে আসে আর আমি এই সুযোগে তাকে শিকার করে আমার আহার কার্য সম্পাদন করি। 

শিয়াল পন্ডিতঃ 
না এটা তুমি ঠিক করনি। এটা হ্যানটিজিং হয়ে গেছে। শিয়াল হয়ে হ্যানটিজিং জাতি মেনে নিবে না। তুমি অন্য কোন পদ্ধতি চেষ্ঠা করো। 


তারপর বলল শিয়াল ঝন্টু রামঃ 
আজ আমি পার্কে ঘুরছিলাম। সেখানে দেখি একটি মোরগ ও একটি মুরগী ডেটিং করছে। হঠাৎ মুরগটি মুরগীটিকে একা রেখে বাদাম কিনে আনতে গেল আর আমি আস্তে আস্তে মুরগীর পিছনে গিয়ে ওর গলাটা আমার মুখের ভিতর ঢুকিয়ে ভু দৌড়। 

শিয়াল পন্ডিতঃ 
এটাও ঠিক হয়নি। অন্যের প্রেমিকাকে খুন ও গুম করার অপরাধে তুমি অপরাধী। কিছুদিন পালিয়ে থাকো নাহালে যেকোন সময় তোমাকে পুলিশে ধরতে পারে। 

তারপর বলতে শুরু করল কালাহাড়ঃ 
“কালা মুরগীর সাদা হাড়, খাইতে বড়ই চমৎকার।” তার চিরাচরিত এই ডায়লগ দিয়ে সে তার শিকারে কাহিনী বর্ণনা করতে লাগল। আজ সারাদিন আমি কোন কালা মুরগী পাইনাই। সন্ধ্যায় বাড়িতে এসে দেখি আমার বউ ঝাড়ু হাত দাড়িয়ে আছে মুরগী না আনতে পারলে অবস্থা খারাপ করে দিবে।  তাই বাধ্য হয়ে আবার বের হলাম এবং রাস্তায় পেয়ে গেলাম আমার কাংখিত কালা মুরগী  তারা দল বেধে পানি নিয়ে বাড়িতে ফিরছিল। আমি তাদের বললাম আমি অনেক ক্লান্ত চলতে পারছি না।  একটু পানি দিবেন। যে সব মুরগী বোকা ছিল তাড়া শিয়ালের ভয়ে পালিয়ে গেল কিন্তু একটি চালাক মুরগী আমার কাছে আসল এবং আমাকে বলল সে পানি আমার হাতে দিবে এবং হাত দিয়ে পানি খেতে হবে। কিন্তু সে ভুলে গেল আমি শিকার করি মুখ দিয়ে।  তাই সে যখন আমার হাতে পানি ঢালছিল আমি তখন তার ঘাড়ে আস্ত কামড় বসিয়ে দিলাম ছুট।  

শিয়াল পন্ডিতঃ 
এটা ঠিক আছে বেশী চালাকের সাথেই চালাকি করতে হয়।


পরের দিন:
প্রতিরাতের মত কাল রাতেও শিয়াল কল্যাণ সংস্থায় সভা বসেছিল। শিয়াল পন্ডিতের সাথে সবাই কুশল বিনিময় করে সভা শুরু করল।

প্রথমেই বলতে লাগল শিয়াল ঘড়ঘড় খাঁন। ঘড়ঘড় খাঁন একটি সরকারি অফিসে চাকরী করেন।
ঘড়ঘড় খাঁনঃ আজ একটা মোরগ খাইলাম। আমার অফিসে সে অনেকদিন যাবত ঘুরে বেড়াচ্ছিল তার পেনশনের টাকার জন্য। ফাইলটা ছিল আমার কাছে। আমি তাকে কিছু মাল  আনতে বললাম সে আনল না। তাকে বললাম আগে আন মাল পড়ে পাবে ফাইল। বেচারা কান্না কাটি শুরু করল। আমি আবার কারো কান্না সহ্য করতে পারিনা। তাই তাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে  কান্না থামিয়ে দিলাম।

শিয়াল পন্ডিতঃ কাজটা মোটেও ভাল হল না। বেচারা হয়ত অনেক গরীব ছিল। তোমার মনে রাখতে হবে ঘুষ খাওয়া অন্যায় তুমি গরীব লোকটার কাছে ঘুষ চেয়ে আরো বেশী অন্যায় করেছ। তুমি শিয়ালদের কলঙ্ক কালকের সভায় তুমি আসতে পারবেনা।

তারপর বলল শিয়াল মুখনা। সে মুরগী খায়না, মাছ আর ফলমুল খায়। মুরগীতে তার এলার্জি আছে। সভার সবচেয়ে ভদ্র শিয়াল হিসেবে তাকে সবাই চিনে।

শিয়াল মুখনাঃ আমি আজ মাছ খেলাম। নদীর ধার দিয়ে যাচ্ছিলাম যাওয়ার সময় দেখলাম একজন লোক নদীতে বড়শি ফেলে মাছ ধরছে তার ঝুড়িতে ছিল অনেকগুলো মাছ। আমি সেখানে গিয়ে তার সাথে কথা বললাম বেচারা খুব অসহায় তাকে রেখে তার বউ চলে গেছে তাই সে এখন মনের দুঃখে বড়শি দিয়ে মাছ ধরে। আমি চলে আসার সময় সে আমাকে কিছু মাছ দিয়ে দেয়।

শিয়াল মুখনা তার কথা শেষ করতে না করতে শেখানে হন্তদন্ত হয়ে উপস্থিত হল শিয়াল ঝন্টু রামের ছোট ভাই মুনী রাম। সে সেখানে কেদে কেদে বলতে লাগল তার ভাই শিয়াল ঝন্টু রামকে RAB মুরগী খুন ও গুম করার অপরাধে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ার করে মেরে ফেলেছে।

শিয়াল পন্ডিতঃ ওকে আমি আগেই সাবধান করেছিলাম, বলেছিলাম পালিয়ে থাকতে কিন্তু এখন জীবন দিল। কিন্তু সে কিভাবে ক্রশফায়ারে পরবে? সে তো কোন মাফিয়া দলের সদস্য ছিলনা।

মুনী রামঃ RAB বলছে তারা নাকি ভাই ঝন্টু রামকে নিয়ে মুরগী উদ্ধার করতে আসছিল। রাস্তায় অনেকগুলো শিয়াল তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে মুরগীর ডিম ও পাথর ছুড়তে থাকে। ঝন্টু রাম তখন পালিয়ে যেতে চাইলে সে মারা যায়।

শিয়াল পন্ডিতঃ আমার এলাকায় এতবড় ঘটনা ঘটবে RABএর উপড় হামলা হবে আর এটা আমি জানবনা এটা হতে পারে না। এটা নিশ্চয় শিয়ালদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত, ওরা মিথ্যাকে সত্য করে জনগনকে করে বিভ্রান্ত।