পর্ব ৩ : লক্ষ্মীপুরে চেয়ারম্যান ছৈয়ালের তান্ডব : সরকারি বরাদ্ধ লন্ডবন্ড

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে ইউছুফ সৈয়াল নামের এক ইউপি চেয়ারম্যানের তান্ডবে লন্ডবন্ড হয়ে গেছে একটি প্রকল্পের প্রায় দেড় কোটি টাকা।  নানান দুর্নীতি অনিয়মের মধ্য দিয়ে জান্নাতুল মাওয়া আশ্রয়ন প্রকল্পটির নাম মাত্র কাজ দেখিয়ে তুলে নিয়েছে সরকারি মুল বরাদ্ধের অধিকাংশ অর্থ।  এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানিয়রা।

জানা যায়, বাড়ি নির্মাণ সহ আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভুমিহীন অস্বচ্ছ মানুষের কল্যাণে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার  চররমনী মোহন এলাকায় একটি  চরে আশ্রয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার।  প্রকল্পটির আয়তন ২ লক্ষ ১৭ হাজার ৮০০ বর্গফুট।   এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে।  আশ্রয়ন প্রকল্পটিতে সরকারি মূল বরাদ্ধ ধরা হয় ১ কোটি ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫শ ৯৯ টাকা অথবা ৪৯৪.৩৩৩ মেট্টিক টন গম।  এতে প্রকল্পের সভাপতি করা হয় ওই ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ সৈয়ালকে।  কাজের মেয়াদকাল শুরু হয় ১৬ জানুয়ারী শেষ হওয়ার কথা ৩০ মার্চ।  অথচ নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও মূল আশ্রয়ন প্রকল্পের অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি প্রকল্পটির সভাপতি।  কিন্তু এ পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়েছে ১৮৭.৫০ মেট্টিক টন গম।  এদিকে প্রতি টন উত্তোলনে ১শ’ ২৫ জন শ্রমিক মজুরি দেখানো হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই চেয়ারম্যান নিজস্ব অনুসারি দিয়ে পুরো প্রকল্প এলাকা ঘিরে রাখে।  স্থানিয় কাউকে প্রকল্প এলাকায় ডুকতে দেয়না তারা।  তবে কোন অপরিচিত মানুষ দেখলেই চেয়ারম্যানের বাহিনী এসে বিভিন্ন ভাবে প্রশ্ন করতে থাকে।  প্রকল্পটি নিয়ে কথা উঠলেই চেয়ারম্যানে গুণগান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তারা।  কেউ কেউ চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলেও জানায়।

অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানের অনুসারিদের ভয়ে স্থানিয় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।  তবে নাম প্রকাশে অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করার কারনে অল্প দিনেই এ চরটি বিলিন হয়ে যেতে পারে।  এছাড়াও বেকো ম্যাশিন দিয়ে কাজ করানোর কারনে স্থানিয় অনেক যুবক ও কর্মঠ লোক বেকার হয়ে পড়ছে।

আশ্রয়ন প্রকল্পের বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, শুধু প্রয়োজন আশ্রয়ন প্রকল্পটি নির্মাণ করা, যেমন ইচ্ছা তেমন কাজ করা যাবে।

প্রকল্প সভাপতি ও স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল শীর্ষ সংবাদকে বলেন, বিভিন্ন যায়গায় বরাদ্ধ দিতে দিতে যা রয়েছে তা থেকে শ্রমিক দিয়ে কাজ করে পৌসবে না।  তাই বাধ্য হয়েই ড্রেজার ও বেকো দিয়েই ভরাট করছি।  মাটি ভরাট করতেই নিজের থেকে টাকা লাগবে আবার চারপাশে রিং বাধ ও ঘাস বসানোর টাকা কোথায় পাবো।  তবে নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন ও শ্রমিক দিয়ে কাজ না করানো অন্যায় বলে স্বীকার করেন তিনি।

প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।