‘প্রমাণ হয়েছে, আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না’

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা : স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হওয়ার মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, বাংলার মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছর বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হওয়ার মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হয়েছে, আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশের যোগ্যতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।

তিনি বলেন, এ স্বীকৃতি অর্জনের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নপূরণে আরও একধাপ এগিয়েছে দেশ। যারা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা মেনে নিতে পারেনি, তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। জাতির পিতা বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন, আমরা সেখান থেকে ১ ধাপ উন্নতি করেছি। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে যেটা ১০ বছরে হতো, সেটা করতে আমাদের অনেক বছর লেগে গেল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো, কেন অন্যের কাছে হাত পাতব? দেশে উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, সেটাকে অব্যাহত রাখতে হবে। এটা যেন থেমে না যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ নানা কারণে রাজনীতি করে। কেউ রাজনীতি করে নিজের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য, নিজের সমৃদ্ধ জীবনের জন্য। আমি রাজনীতি শিখেছি বাবার কাছ থেকে, জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন করতে। নিজের ভাগ্য উন্নয়ন করতে নয়।

বাংলাদেশের এ যোগ্যতা অর্জনে আওয়ামী লীগ ও এর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠনের পর বেশি গুরুত্ব দিই গ্রামের দিকে। তৃণমূল পর্যায়ে আমরা উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করি। এর পাশাপাশি খাদ্য কর্মসূচি, বাসস্থানের জন্য গুচ্ছগ্রাম, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা করি। পাশাপাশি ঢাকার বস্তিগুলোর দিকেও নজর দেই। বস্তির মানুষগুলোকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ব্যবস্থা করে দিই। তাদের জীবনযাত্রার উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিই।

তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে আজ স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করার অঙ্গীকার আজ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। বিদ্যুতের উন্নতির জন্য বেসরকারি খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম।

বাংলাদেশের এই অর্জনের জন্য সব শ্রেণিপেশার মানুষকে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ অর্জনের জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই সারাদেশের মানুষকে। আমরা সরকারে থেকে পথ প্রদর্শক হিসেবে পথ দেখিয়েছি। কিন্তু কৃষক, পেশাজীবী, মেহনতি মানুষ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সারাদেশের মানুষ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন বলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। সবাই মিলে কাজ করেছেন বলেই আজ আমরা ৭.২৮ ভাগে প্রবৃদ্ধি উন্নীত করতে পেরেছি, জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করেছে, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলো এগিয়ে এসেছে আমাদের উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পেরেছি। সে জন্য প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরুর পর উন্নয়নের এ স্তরে উত্তরণ এবং জাতিসংঘের সুপারিশপত্র হস্তান্তর করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এর আগে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে ১০ টাকা মূল্যের স্বারক ডাকটিকিট ও ৭০ টাকার একটি স্মারক নোট অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অনুন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।