পেঁয়াজ সবজিতে স্বস্তি বেড়েছে আদা চিনির দাম

Print Friendly, PDF & Email
পেঁয়াজ সবজিতে স্বস্তি বেড়েছে আদা চিনির দাম

গত নভেম্বরের পর থেকে অস্বস্তিদায়ক পেঁয়াজের ঝাঁজ কমেছে। আর সরবরাহ ভালো থাকায় সবজির দামও বেশ কম। তবে বাজারে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে বেড়েছে আদা ও চিনির দাম। প্রতিকেজি আদা ২০ টাকা ও চিনির দাম ২ টাকা বেড়েছে।

যদিও চিনির দাম বাড়া এ সপ্তাহে নতুন নয়। গত তিন সপ্তাহ থেকেই খোলাবাজারে পণ্যটির দাম বাড়ছে। এক মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৬ টাকা বর্ধিত দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি। শুক্রবার (১৬ মার্চ) খোলাবাজারে প্রতিকেজি চিনি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা আগে ৫৪ টাকা ছিল।

এদিকে বাজারে আগের চড়া দামেই রয়েছে চাল। রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে চালের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা না দেখা গেলেও দুই সপ্তাহের আগের বাড়তি দাম কমেনি বলে জানান বিক্রেতারা।

খিলগাঁও তালতলাবাজারে আল্লার দান রাইস এজেন্সির একরামুল হক বলেন, দুই সপ্তাহ আগে চালের দাম বেড়েছিল। সেটা আর কমেনি। এখন প্রতিকেজি ভালোমানের মিনিকেট ৬৪-৬৬ টাকা, বিআর আটাশ ৫০-৫২ টাকা, মোটা চাল (স্বর্ণা) ৪৪-৪৬ টাকা দরে বিক্রি করছি।

অপরদিকে বাজারে পেঁয়াজ এখন খুচরায় ৩৫-৪০ টাকার মধ্যে মিলছে, যা গত সপ্তাহেও ৫০-৬০ টাকা ছিল। তবে গত নভেম্বরে এই পেঁয়াজের কেজি ১৪০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।

গতকাল কারওয়ানবাজারের পাইকারিতে পাঁচ কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
তবে ওই বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, গত কয়েক দিন টানা দাম কমলেও আবারো পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। কারণ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজের আমদানি কমে গেছে। সেখানেও পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে।

আমদানি সঙ্কটের কথা বলে বাজারে বেড়েছে আদার দামও। গত সপ্তাহে প্রতিকেজি আদা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। তবে স্থিতিশীল রয়েছে রসুনের দাম।

এ বছর ভরা শীতে সবজির দাম চড়া থাকলেও বর্তমানে সবজির দাম অনেক কমেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে টমেটোর দাম। গতকাল বাজারে বিভিন্ন মানের টমেটো প্রতিকেজি ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ শীতের অন্যান্য সবজিও বিক্রি হয় প্রতিকেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে।

পেঁয়াজের মতো গত নভেম্বরে শীতকালীন টমেটো বাজারে আসার পর প্রতিকেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে সময় অন্যান্য কোনো সবজিও ৬০ টাকার নিচে মেলেনি। কারণ গত বছর এপ্রিলে প্রথম দফা ও এরপর জুলাই-আগস্টে দ্বিতীয় দফা বন্যায় উত্তরাঞ্চলের সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সে পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার পর গত দুই মাস থেকেই সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।