লক্ষ্মীপুরে ভেজানো সুপারির গন্ধে দূষণ হচ্ছে পরিবেশ

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দেদারছে জেলার বিভিন্ন স্থানে জলাশয়গুলোতে ভেজানো হচ্ছে পাকা সুপারি। ভিজা সুপারীর দূর্গন্ধে ব্যাপকভাবে দূষণ হচ্ছে পরিবেশ আর ধ্বংস হচ্ছে জলজ প্রাণি। অন্যদিকে বেশি লাভের আশায় পচা সুপারিতে রং ও বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা ।

এসব সুপারি থেকে মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানালেন চিকিৎসকরা। তবে এজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দায় করলেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, লক্ষ্মীপুরের প্রধান অর্থকরী ফসল সুপারি। দেশের উৎপাদিত সুপারির বেশির ভাগই উৎপাদন হয় এ জেলায়। এবার প্রায় সাড়ে ১২ হাজার টন সুপারির ফলন হয়েছে। যার বাজার মুল্য সাড়ে ৩শ’ কোটি টাকা। এখানকার উপাৎদিত সুপারির বেশির ভাগই খাল, ডোবা-পুকুর, নালায় ভিজেয়ে রেখে পরে বিক্রী করেন ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, সুপারি পাকা হাউসে ভেজানোর নিয়ম থাকলেও বেশী লাভের আশায় তা মানছেননা কেউ। এদিকে স্থানীয় চররুহিতা ও দালাল বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে সুপারির পাকা রং ধরে রাখতে ভিজা সুপারিতে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রং। ফলে ক্যান্সারসহ মানবদেহে বাড়ছে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও। তবে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকির অভাবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকছেন এসব ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে সদর উপজেলার জকসিন, মান্দারী, দালালবাজারের ইছাহাজি তেমুহনী, পালের হাট, চররুহিতা, লাহারকান্দিসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, পুকুর-ডোবা নালায় পচানো হচ্ছে সুপারি। চলতি বছর ভেজা সুপারির ব্যবসায় সাথে জড়িত রয়েছে জেলার অন্তত দুই শতাধিক ব্যবসায়ী। তবে কিছু কিছু জায়গায় গিয়ে দেখা যায় ভেজা সুপারী বিক্রীকালে সুপারিতে মেশানো হচ্ছে রং ও বিষাক্ত কেমিক্যাল। স্থানীয়দের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় হাউজে না করে উম্মুক্ত জলাশয়ে সুপারি ভেজানোর ফলে পানি ব্যবহার করতে পারছেনা তারা। পাশাপািশ পঁচা সুপারির দুর্গন্ধে আশ পাশে চলাচল করতে দূর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছে মানুষ। ব্যবসায়ীরা পাকা সুপারির রং ধরে রাখতে সুপারিতে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল। যা শরিরের জন্য ক্ষতিকারক।

শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা সুপারিতে রং মেশানোর কথা স্বীকার করে বলেন, ভালো দামের আশায় ও জেলার বাইরে বাজারজাত করতে রং মেশানো হয় বলে জানায় তারা। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মো: আনোয়ার হোসেন জানান, সুপারির রং পরিবর্তন বা সুপারি সুস্বাদু করার জন্য যে সব রং বা কেমিক্যাল দেওয়া হচ্ছে তাতে মানবদেহে বিভিন্ন রোগসহ ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

পরিবেশ ইউএস (পরিবেশবাদী সংগঠন) বাংলাদেশ সভাপতি অহিদুল হক বাবলু জানান, সুপারি প্রধান এলাকা লক্ষ্মীপুরে এক শ্রেনির অসাধু ব্যবসায়ীরা সুপারি উম্মুক্ত জলাশয়ে ভিজিয়ে পচানো ফলে জল উদ্ভিত ধংস হয়ে অক্সিজেন কমে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। তবে প্রশাসনের সহায়তা এসব করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন সচেতন হলে এ অবৈধ কাজ বন্ধ করা সম্ভব বলে জানান পরিবেশবাদী সংগঠনের এ নেতা।