লক্ষ্মীপুরে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সয়াবিনের হাসি

Print Friendly, PDF & Email


নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সয়াবিনের গাছ আর গাছ। মাঠ জুড়ে সয়াবিনের গাছগুলো বেড়ে উঠায়, ফাঁকা জমি চোখে পড়ে না। এ যেন ফসলের মাঠ নয়, সবুজে ঘেঁরা চাদর। জেলার সর্বত্র গ্রামের পর গ্রামগুলো সবুজের চোখজুড়ানো মনরাঙানো বিস্তার। যেন সবখানে বসে গেছে সবুজের হাসি।
চাষিদের এখন কোন স্বস্তি নেই। বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় সারাদিন চলছে সয়াবিন খেতের পরিচর্যা । করছেন সার ও কীটনাশক প্রয়োগ। আর এভাবেই একটু একটু করেই বেড়ে উঠছে সয়াবিন গাছ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে
বাড়ছে কৃষকের স্বপ্ন।
জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সয়াবিনের রাজধানী হিসাবে খ্যাত উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর। অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর মাটির কারণে এ অঞ্চলে সয়াবিনের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। দেশের উৎপাদিত প্রায় ৮০ ভাগ সয়াবিন এ জেলায় উৎপাদিত হয়। এখন রবি মৌসুম। তাই সয়াবিন আবাদ করেছে কৃষকরা।
চলতি মৌসুমে সয়াবিন আবাদের সময় জমি স্যাঁতসেঁতে থাকায় চাষিরা কাঙ্খিত আবাদ করতে পারেনি। ফলে এবার জেলার সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরন হয়নি। জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলনগর, রামগতি ও লক্ষ্মীপুর সদর
উপজেলার চাষিরা আমন ধান কাটার পরই সয়াবিন আবাদের প্রস্তুতি নেন। ফেব্রুয়ারি মাসেই চলতি মৌসুমে সয়াবিনের বীজ বোনা শেষ হয়েছে। এখন গাছ বেড়ে উঠছে, চলছে পরিচর্যা। এখানকার চাষিরা ভালো ফলন ঘরে
তুলতে সারাদিন অবিরাম কাজ করছে মাঠে।
জানা যায়, জেলার রায়পুর উপজেলার চরলক্ষ্মী, চর আবাবিল, চর বংশি, রামগতি উপজেলার চর আবদুল্লাহ, চরগাজি, চর লক্ষ্মী, চর আলেকজান্ডার, চর বাদাম, কমলনগর উপজেলার চর ফলকন, চর জাঙ্গালিয়া, চন কালকিনি, চর মার্টিন, চন লরেন্স, সদর উপজেলার চর রমণীমোহন, চর মনসা, টুমচর সহ জেলার প্রায় সর্বত্র সয়াবিনের আবাদ হয়েছে।
জেলার সয়াবিন চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টির কারনে বীজ বপনের সময় জমি স্যাঁতসেঁতে ছিল। তাই অধিকাংশ জমিতে আবাদ করতে পারেনি সয়াবিন। এছাড়াও গত কয়েকবছরের লোকসানের ফলেও অনেক চাষি সয়াবিন আবাদ করেনি।

তারপরেও ধানের চেয়ে সয়াবিনের বেমি দাম পাওয়া যায় বলে চাষ করেন সয়াবিন। বর্তমানে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মাঠে সয়াবিন খেত পরিচর্যা করছে ভালো ফলনের প্রত্যাশায়। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে
অন্যান্যো বছরের কিছুটা ক্ষতি পুসিয়ে নিতে পারবেন। লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেলাল হোসেন খান বলেন, এবার সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০,৫০৫ হেক্টর।
তার মধ্যে অর্জন হয়েছে ৪১,২৭০ হেক্টর। লক্ষ্য অর্জন না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বীজ বপনের সময় বৃষ্টি হয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন জমি স্যাঁতসেঁতে ছিল। তাই চাষিরা অধিকাংশ জমিতে সয়াবিন আবাদ করতে পারেনি। যার ফলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।