নোয়াখাল থেকে আমাদের নোয়াখালী

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক :

১৬৬০ সালে খননকৃত একটি বিশাল খাল। যা নোয়াখাল নামে পরিচিতি ছিল। আর এই নোয়াখাল থেকে আমাদের নোয়াখালী। যা বৃহত্তর নোয়াখালী নামে এখনো সু-পরিচিত।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, একবার ত্রিপুরার পাহাড় থেকে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর পানিতে ভুলুয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভয়াবহভাবে প্লাবিত হয় ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসাবে একটি বিশাল খাল খনন করা হয়। যা পানি প্রবাহকে ডাকাতিয়া নদী হতে রামগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চৌমুহনী হয়ে মেঘনা এবং ফেনী নদীর দিকে প্রবাহিত করে।

১৮৬৮ সালে ভুলুয়া জেলার নামকরণ করা হয় নোয়াখালী জেলা। সেই থেকে নোয়াখালী জেলার প্রাচীন নাম ভুলুয়া। নোয়াখালী জেলার মোট আয়তন ৪২০২ বর্গ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম বিভাগের অধীনে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী একত্রে বৃহত্তর নোয়াখালী নামে বেশ পরিচিত। তবে ১৯৮৪ সালে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হলে লক্ষ্মীপুর ও ফেনী আলাদা জেলা হয়ে যায়।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, সার্জেন্ট জহুরুল হক, আব্দুল মালেক উকিল, আনিসুল হক, জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, মুনীর চৌধুরী, কবির চৌধুরীসহ আরো বহু গুণীজন আছেন, যাদের জন্মস্থান নোয়াখালী এবং তাদের নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

নোয়াখালী জেলার প্রধান নদী মেঘনা। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য নদ-নদীর মাঝে ছোট ফেনী, ডাকাতিয়া অন্যতম। এছাড়াও নোয়াখালীতে বহু খাল রয়েছে যার মধ্যে নোয়াখালী খাল, মধুখালি খাল, রহমতখালি খাল, আতিয়াবাড়ি খাল, কালির খাল, পেটকাটা খাল, কথাকলি খাল, গোয়ালখালি খাল, আত্রা খাল, হুরা খাল, গাহজাতলি খাল, ভবানিগঞ্জ খাল, মহেন্দ্রক খাল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

নোয়াখালী জেলায় ৯টি উপজেলা, ৮টি পৌরসভা, ৭২টি ওয়ার্ড. ১৫৩টি মহল্লা, ৯১টি ইউনিয়ন, ৮৮২টি মৌজা এবং ৯৬৭টি গ্রাম রয়েছে। এ জেলার উপজেলা গুলোর নাম হলো, নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ, চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জ, হাতিয়া, সেনবাগ, সুবর্ণচর, সোনাইমুড়ী, কবিরহাট।

পূর্ব থেকে নোয়াখালীর অর্থনীতি কৃষি নির্ভর হলেও বর্তমানে সবখাতে এর প্রসারতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা, পর্যটন কেন্দ্র, সমুদ্র বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে একটি সম্ভাবনাময় উন্নত নগরী গড়া এখন সময়ের দাবী। চলবে…

প্রতিবেদক : রাকিব হোসেন আপ্র