শয়তানি শক্তি থেকে বাঁচতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা

Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :

৯৮. যখন কোরআন পাঠ করবে, তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবে। [সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৮ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : এ আয়াতে কোরআন পাঠের আগে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে। শয়তান শব্দের অর্থ দুরাচারী ও পাপাচারী। বেশির ভাগ শয়তান পাপের স্থান, ময়লা-আবর্জনার জায়গা যেমন—পায়খানা, গোসলখানায় অবস্থান করে। এ কারণে মহানবী (সা.) এসব স্থানে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি পায়খানায় প্রবেশ করার আগে নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

শয়তান শুধু জিনদের মধ্য থেকেই হয় না, বরং মানুষের মধ্যেও শয়তান থাকে। এরা মানবরূপী শয়তান।

মানুষদের মধ্যে যারা অন্যায় কাজ করে, অন্যকে অন্যায়ের আদেশ দেয়, অন্যায় কাজে উৎসাহিত করে, তারাই মানবরূপী শয়তান।

মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরানোর জন্য শয়তান সদা তৎপর। সাধারণ মানুষের পক্ষে শয়তানের প্রবঞ্চনা থেকে রেহাই পাওয়া খুবই কঠিন। বহু ক্ষেত্রে শয়তানি শক্তির সামনে হার মেনে যেতে হয়। মানবীয় দুর্বলতা তখন সর্বোতভাবে অনুভব হয়। সেই সময় আল্লাহর কাছে আত্মনিবেদন ছাড়া কিছুই করার থাকে না। তখনই ঈমানের পরীক্ষা হয়ে যায়। নিজের অসহায়ত্ব ও অন্যের অধীনতার কথা মনে পড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘শয়তানের কুমন্ত্রণা যদি তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে তুমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ২০০)

শয়তান দৃষ্টির আড়ালে থাকে। তাই সবার চোখে শয়তানের রূপ ধরা পড়ে না। কিন্তু শয়তানকে দেখা না গেলেও সবার পক্ষে তার অনিষ্ট এড়ানো সম্ভব নয়। তাই কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন স্থানে শয়তানের অবস্থানস্থল চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে যাওয়ার আগে নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পিত করতে বলা হয়েছে। আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাদিস শরিফে এসেছে, মহানবী (সা.) প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণে আগে এ দোয়া পাঠ করতেন : ‘বিসমিল্লাহি আল্লা-হুম্মা ইন্নি আ‘ঊজুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবা-ইছ।’ অর্থ : ‘আল্লাহর নামে প্রবেশ করছি। হে আল্লাহ! আমি পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গের জিন থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৯৭)

মানুষ ঘুমিয়ে পড়লে শয়তান স্বপ্নযোগে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। তাই মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সৎ ও ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। কাজেই তোমাদের কেউ যখন ভীতিকর খারাপ স্বপ্ন দেখে, সে যেন তার বাম দিকে থুতু ফেলে ও শয়তানের ক্ষতি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়। তাহলে এমন স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বুখারি, হাদিস : ৩২৯২)

স্বামী ও স্ত্রীর দৈহিক সম্পর্কের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সন্তানের প্রত্যাশা। কিন্তু শয়তান সূচনাতেই এই সন্তানের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে তৎপর। তাই মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন স্ত্রীর কাছে আসে, সে যেন বলে : ‘বিসমিল্লাহি আল্লা-হুম্মা জান্নিবনা শায়তানা ও জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাকতানা।’ অর্থাৎ ‘বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! আমাদের শয়তানের প্রভাব থেকে দূরে রাখুন। আর আমাদের যে সন্তান দান করবেন, তাকেও শয়তানের প্রভাব থেকে হেফাজত করুন।’ এরপর তাদের যে সন্তান দেওয়া হয়, শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না। (বুখারি, হাদিস : ৩২৭১)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ