চেয়ারম্যানই সব; উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম কৃষকদের মারধর

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরভূতা হাতেম আলীতে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নামে প্রায় কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম ও কৃষকদের স্বার্থবিরোধী কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি। অনিয়মে বাধা দেয়ায় কয়েকজন কৃষককে মারধর করে জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ক্ষুদ্র পানিসম্পদ প্রকল্প হাতে নেয়। এর আওতায় চরভূতা হাতেম আলী উপপ্রকল্পের জন্য ২০১৫ সালে ৯০ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সমিতির কার্যালয় নির্মাণ, ছয় কিলোমিটার খাল খনন, নয়টি ড্রেন (দেড় কিলোমিটার) নির্মাণ ও কৃষকদের ক্ষতিপূরণের জন্য ৮ লাখ টাকা দেয়ার কথা রয়েছে। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইনসাফ ব্রাদার্স কাজটি পায়। কিন্তু পরে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি নিজেই ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে কাজটি নেন। তবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান প্রকল্পের মেয়াদ আগামী মার্চ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে ভবানীগঞ্জ বাজারে সমিতির কার্যালয় নির্মাণ শেষ হয়েছে। যদিও ৪০–২৫ ফুটের একটি টিনশেড ঘর করতে কীভাবে ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হলো, তা বুঝতে পারছে না এলাকাবাসী।

এদিকে প্রকল্পের কাজে অনিময়-দুর্নীতির অভিযোগ এনে গ্রামবাসীর পক্ষে এক কৃষক প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার চরভূতার ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বিক্ষোভ করে। খাল খননের কাজ বন্ধ করে দেয় তারা। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান তার অনুসারীদের নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচ কৃষককে পিটিয়ে জখম করেন।

চরভূতা গ্রামের কৃষকরা জানান, পানিপ্রবাহের জন্য যথেষ্ট প্রশস্ততা ও গভীরতা থাকার পরও জিয়ার খাল খনন করা হচ্ছে। আরো খুঁড়লে দুপাড় ভেঙে যাবে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষকের বাড়িঘর ও ফসলি জমির ক্ষতি হতে পারে। পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থা থাকলেও ফসলি জমি নষ্ট করে ড্রেন নির্মাণ করার চেষ্টাও করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিপূণের ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তা পাচ্ছেন না তারা।

হাতেম আলী পোলের নুরুল করিম ও মাসুদ জানান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যেই এ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। অথচ গ্রামের বেকারদের কাজে না লাগিয়ে দুটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে খননের কাজ করা হচ্ছে। সালেহ আহমদ নামে এক ব্যক্তি প্রতিবাদ করায় ইউপি চেয়ারম্যান তাকে মারধর করেছেন বলেও জানান তারা।

তবে চরভূতা হাতেম আলী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাকছুদের দাবি, সেচ ড্রেন নির্মাণ ও খাল খনন কৃষকদের স্বার্থেই করা হচ্ছে। সব অভিযোগ অস্বীকার করে ভবানীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান ও সমিতির সদস্য সাইফুল হাসান রনি বলেন, কৃষকদের স্বার্থ বিঘ্নিত হয় এমন কিছু করা হবে না। ছয় কিলোমিটার খালের মধ্যে আধাকিলোমিটার নিয়ে এলাকার কৃষকরা আপত্তি তুলছেন। এ সুযোগে একটি মহল উসকানি দিচ্ছে।

কৃষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, অনিয়মের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম রশিদ আহমেদ জানান, প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।