শুটিং রেঞ্জের টার্গেট আমি

অনলাইন ডেস্ক :

শুটিং রেঞ্জের টার্গেট আমি। আমাকে অভিনেতা বানানোর ব্যাপক পায়তারায় মত্ত প্রিয় ডিরেক্টররা। ‘যেমন খুশী তেমন সাজাও’ ছবির শুটিং চলছে। একমাসে লুক বদলের নামে চুল কাটালাম চারবার। মাথার মধ্যে টাক পড়েছে, এটার উপর দেয় কালো কালি। আমি মাথায় নারিকেল তেল দেয়া পার্টি, শরীরে সরিষার তেল। আর এখন মাথায় তেল দিবো কিনা শুটিংয়ের আগে অনুমতি নিয়ে হয়। সারাজীবনের এলার্জী হেয়ার জেল আর স্প্রে মাথায় দিতেই থাকে আর মেক-আপের নামে তিন ইঞ্চি প্লাস্টার তো আছেই। মেয়েরা বুদ্ধি দেয় এটা করেন ওটা করেন স্কিন ভালো থাকবে। আমি শুধু আম্মাকে স্মরণ করি, হে আম্মা আপনি কিভাবে বড় করলেন, আমি কোথায় এসে পড়লাম। মাথায় চুল আছে সর্বসাকুল্যে সাড়ে তিনশো, এগুলোকে নিয়েই হচ্ছে গবেষণা, চুলের নিরাপত্তা হুমকীর মুখে।

মেক-আপ দেয়া এবং তোলা নারীদের করেছে, মহীয়সী আমাকে বানিয়েছে ভেড়া। আগে জিদ করতাম, বেশীর ভাগ শুটিং হয়েছে মেক-আপ ছাড়া, আর এখন আমি বন্দী কারাগারে। অতীতে যেসব মেক-আপ আর্টিস্টদের মেক ওভার করার সুযোগ দেইনি, তারা এখন মুখ টিপে হাসে, আমার গা জ্বলে যায়। চুপচাপ মক্কেলের মত বসে মেক-আপ নেই। মাঝে মধ্যে মনে আগ্নেয়গিরির জ্বালা মুখে ইজি চেয়ার নিয়ে বসে আছি। আমার অসহায়ত্ব সবার কাছে বিনোদনের কারন। হে বিদ্রুপকারীরা তোমরা ঈশপের ব্যাঙের গল্পটা পড়ে নিও।

মেক-আপের তোড়ে আমার মুখমন্ডলে কালো দাগ পড়ে গেছে, এটাকে ঢাকার জন্য উপরে আরো ভারী মেক-আপ দেয়া হচ্ছে, বহুত ছোটভাই এখন ঢাকাই ছবির হিরো, তাদের বুদ্ধি নিলাম। আরো হতাশ হলাম, পোলাপাইন উল্টো বুদ্ধি দিয়ে বললো–ভাইয়া আপনার পার্সোনাল মেক-আপ ইকুপমেন্ট রাখা জরুরি। আমি তাদের বললাম- সারাজীবন নিজেকে বাঘ-সিংহ পুরুষ ভাবতাম, এখন মেক-আপ কিনতে হবে! আমার জীবনে এর চেয়ে বড় পরাজয় আর কি হতে পারে! কিনবোনা, তবে নায়িকাদের গায়িকাদের মেক-আপ ব্যবহার করছি, এগুলো ভালো কোয়ালিটির! শুধু কিছু ব্রাশ আর পাফ কিনবো, তবু মেকাপ সামগ্রী কিনবোনা। পরিস্থিতি যাই হোক, এটা আমার সম্ভ্রমের ব্যাপার। আপনাদের দোয়া থাকলে এই যুদ্ধেও আমি বরাবরের মত জয়ী হবো। সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ্য থাকুন, সুন্দর থাকুন। ভালবাসা অবিরাম।