পদবঞ্চিতের ফেসবুক স্ট্যাটাস, চেক জালিয়াতির অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক :  চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলন সফল করার পূর্বে অনেক কাকুতি মিনতি করেছ। সম্মেলন সফল করার জন্য। অনেকবার আশ্বস্ত করেছ পুনরায় আমাকে সভাপতি করবে। শুধু আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকেও এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছ। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও এ বিষয়ে  জানতেন। গত ২৮ জানুয়ারি, ২০১৮ইং তারিখে অনুষ্ঠিত সম্মেলন সফল করেছি। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) রাত ৮ টা ২৮ মিনিটে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব ইমতিয়াজকে অভিযুক্ত করে এসব কথা লিখে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন পদবঞ্চিত নিজাম উদ্দিন রাশেদ ওরফে রাশেদ নিজাম। তিনি চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদ্য মেয়াদ উত্তীর্ণ এডহক কমিটির আহ্বায়ক পদে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

তিনি ফেসবুকের এ স্ট্যাটাসে অভিযুক্ত নেতাকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, ছোট ভাই মাহবুব ইমতিয়াজ, তোমার অভিনয় সিনেমার স্যুটিংয়ের মতো। উল্লেখ রয়েছে, মাহবুব ইমতিয়াজ নাকি রাশেদ নিজামকে সভাপতি করতে বারণ করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে। উল্লেখ্য, এ সম্মেলনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এম আলাউদ্দিনকে সভাপতি এবং বাবুল আনসারীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

রাশেদ নিজাম একই স্ট্যাটাসে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ার একটি লিগ্যাল নোটিশের তিন কপি ছবি ও সাড়ে ৪ লাখ টাকার একটি চেক সংযুক্ত করে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত লিগ্যাল নোটিশ এন.আই এ্যাক্ট ১৮৮১ সনের এবং ২০০৬ সালের (সংশোধিত) এর ১৩৮ ধারা মতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভাস্থ ২নং ওয়ার্ডের আবু ছিদ্দিকের ছেলে মাহবুব ইমতিয়াজ বরাবর প্রেরণের কথা উল্লেখ রয়েছে। রাশেদ নিজাম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রতনেরখীল গ্রামের ফজলুল করিমের ছেলে।

এ স্ট্যাটাসের পর সদর পূর্ব যুবলীগের সদর গিয়াস উদ্দিন সোহাগ কমেন্ট করেন, মিঃ রাশেদ নিজাম  আপনি আগেও কমিটিতে আসছেন টাকার বিনিময়ে লোকমুখে শোনা কথা। এবার না হয় একজনকে দিয়েছেন আপনার লেখনিতে বুঝতে পারলাম। আগেরবার কাকে দিয়েছেন একটু  বলবেন কি?

আবার রেদোয়ানুর রহমান জাবেদ নামে একজন লিখেছেন, টাকার বিনিময়ে কমিটি বিক্রয়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এদিকে মামুন পাটোয়ারী কমেন্ট করে বলেন, রাশেদ নিজামকে প্রথমে এতো বড় পদ দেওয়া উচিত হয় নি। কোথায় থেকে আবির্ভাব হলো রাশেদ নিজাম? এছাড়াও নেতাকর্মীদের মধ্যে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনা হয় এ স্ট্যাটাসের পর। তবে অনেকেই দলের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার পরামর্শ দিয়ে কমেন্ট করেছেন।

এ স্ট্যাটাসে রাশেদ নিজাম আরো লিখেছেন, ভবিষ্যতে দলের কোনো নেতাকর্মী যাতে এভাবে প্রতারণার শিকার না হন সেজন্য সকলকে সতর্ক করে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি প্রকাশ করেছেন।

তবে পদবঞ্চিত হয়ে এ ধরণের প্রচারণায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও এতে সুযোগ নিচ্ছে বলে  ধারণা করছেন নেতাকর্মীদের অনেকে। তবে রাশেদ নিজাম প্রেরিত লিগ্যাল নোটিশে মাত্র ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে নোটিশ গ্রহীতাকে।