রাশিয়ায় বিমান দুর্ঘটনাস্থলে চিরুনি অভিযান

Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক : মস্কোর কাছে রোববারের বিমান দুর্ঘটনাস্থলে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে রাশিয়ার তদন্তকারীরা । যাত্রীবাহী বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ার কারণ কি তা জানতে ক্লু খুঁজছেন তারা।

রাশিয়ার অভ্যন্তরীন রুটে চলাচল করা এএন-১৪৮ উড়োজাহাজটি মস্কোর ডোমোডেডোভো বিমানবন্দর থেকে পাহাড়ি অঞ্চল উরালসের ওলস্ক শহর যাচ্ছিল। উড়াল দেওয়ার ১০ মিনিটের মাথায় মস্কো থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে রামেনস্কাই জেলার কাছে সেটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।

জেলার আরগুনোভো গ্রামের বাসিন্দারা জানান, তারা আকাশ থেকে উড়োজাহাজের জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখেছেন। বিমানটিতে থাকা ৭১ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

খারাপ আবহাওয়া, মনুষ্য সৃষ্ট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। তবে সন্ত্রাসের সম্ভাবনার বিষয়টি তারা উল্লেখ করেননি।

বরফাচ্ছাদিত দুর্ঘটনাস্থলে ৭শ’র বেশি মানুষ অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ওই প্রত্যন্ত এলাকায় স্নোমোবাইল এবং ৯ টি ড্রোনের সাহায্যে উদ্ধার অভিযান চলছে।

রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, নিহতদের উদ্ধার কাজ শেষ করতে প্রায় এক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।

দুর্ঘটনাস্থলে মৃত আরোহীদের দেহাবশেষ উদ্ধারের কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। সেগুলো প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত ২শ’র বেশি দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে।

সোমবার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির দ্বিতীয় ‘ব্ল্যাকবক্স’ খুঁজে পাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞরা সেটি পরীক্ষা করে দেখছেন।

নিহতদের পরিচয় সনাক্ত করতে দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছরের একটি শিশুও আছে।

উড়োজাহাজটির যাত্রীদের যে তালিকা পাওয়া গেছে সেখানে বেশিরভাগই রাশিয়ার নাগরিক। শুধু একজন সুইজারল্যান্ডের এবং একজন আজারবাইজানের নাগরিক আছেন।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি থেকে কোনো বিপদ সংকেত পাঠানো হয়নি বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। উড়োজাহাজটি ২০১০ সালে বানানো।

২০১৫ সালে সারাতভ এয়ারলাইন্সের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচলনার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

পরে নীতি বদলানোর প্রতিশ্রুতিতে ২০১৬ সালে আবারও এয়ারলাইনটি সীমিত আকারে তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করে।

কোম্পানিটির বেশিরভাগ ফ্লাইট রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করে। এছাড়া আর্মেনিয়া ও জর্জিয়াতেও সারাতভ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালু আছে।