মায়ের ভাষায় মাকে চিঠি লিখছে লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীরা

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক :
“আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, তারপর ইংরেজী শিখার পত্তন” এ শ্লোগানে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারীতে লক্ষ্মীপুরে শুরু হয়েছে “মায়ের ভাষায় মাকে লিখি” চিঠি লেখা প্রতিযোগিতা। বাংলা ভাষা চর্চা এবং চিঠি লেখার মাধ্যমে মায়ের প্রতি আবেগ অনুভুতি প্রকাশের জন্য এ আয়োজন করেছে ভাষার প্রদীপ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
সোমবার সকালে লক্ষ্মীপুর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এ প্রতিযোগিতার কার্যক্রম শুরু হয়। মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে লক্ষ্মীপুর জেলা জুড়ে ৩য় বারের মতো এ আয়োজনটি চলবে মাসব্যাপি। ২১টি বিদ্যালয়ে এ আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যেকটি বিদ্যালয় থেকে ৩জন করে প্রতিযোগি বাছাই করে চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে বলে আয়োজকরা জানান।
শিক্ষার্থীরা এমন আয়োজনে খুবই খুশি। তারা বলেন, ভাষার প্রদীপের মায়ের ভাষায় মাকে লিখি আয়োজনটি ভালো লেগেছে। আমরা চিঠি লিখি না বা চর্চা করি না। এ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা মাকে চিঠি লেখার মাধ্যমে মায়ের প্রতি আবেগ অনুভুতি প্রকাশ করতে পেরেছি।


ভাষার প্রদীপের সমন্বয়কারী ফাহাদ বিন বেলায়েত বলেন, বাংলা ভাষার প্রতি আমরা অতটা শ্রদ্ধাশীল হতে পারিনি। বিদেশী সংস্কৃতি আমাদের মাঝে প্রবেশ করেছে। আমরা বিদেশী সংস্কৃতির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিন্দি ভাষা কথা বলতে পারলে আমরা খুশি। এটা আমাদের জন্য শুভ নয়। আমরা যদি আমাদের বাংলা ভাষা সম্পর্কে পুরোপুরি না জানি তা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা কি উপহার দিবো। বর্তমানে দেশে টেলিভিশনের মাধ্যমে হিন্দি সিরিয়াল দেখা বা বিদের্শী ভাষা চর্চা করতে দেখা যায়, যা আমাদের জন্য খারাপ লণ। এতে ভবিষ্যতে কবি, সাহিত্যিক খুঁজে পাওয়া আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠবে। তবে তিনি আরো বলেন, আমাদের আয়োজনে পর্যান্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আছে। ভালো পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ কার্যক্রম সাফল্যমন্ডিত হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, লক্ষ্মীপুর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রনজিত কুমার পাল, ভাষার প্রদীপের সমন্বয়ক ফাহাদ বিন বেলায়েত, সদস্য রাজীব হোসেন রাজু, নিরব অধিকারী, রিযাদ হোসেন, ইসমাইল খান সুজন, ওসমান শুভ, সোলেমান হোসেন শাকিল, ফুহাদ হাসান প্রমূখ।
এ আয়োজনে সহযোগিতায় আছেন, পুর্বিতা, লক্ষ্মীপুর উপজেলা প্রশাসন, বিডি ফুড, গ্রামীন কন্ঠ, নবপত্র, লক্ষ্মীপুর সমাচার, পত্রিকা ২৪ ডটকম, শূন্য, পদ্মবতী মাল্টিমিডিয়া, যমুনা সাউন্ড ও ইভেন্টম্যানেজমেন্ট, এফএনএফ কম্পিউটার, আপন ঘর ও লক্ষ্মীপুর জেলার সাংস্কৃতি এবং সামাজিক সংগঠন।