লক্ষ্মীপুরে ভেজাল ঘির ছড়াছড়ি

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন হাট-বাজারে নকল ভেজাল ঘির ছড়াছড়ি। বিএসটিআই এর ভুয়া লোগো ও নামি-দামি কোম্পনাীর নাম ব্যবহার করে বাজারজাত করা হচ্ছে ভেজাল ঘি। এ দিকে রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজারে ভেজাল ঘি বিক্রির মূল হোতা মেসার্স অণিল বণিক এন্ড সন্স এর মালিক পিযুষ বণিক, রাকিব হোসেন নাহিদ ফুড প্রোডাক্টস উত্তর মধ্যম হালিশহর চট্রগ্রাম এর বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর চীফ জুডিশয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করে বিএসটিআই। ২০১৫ সালের ২৮ নভেম্বর এ মামলা দায়ের করেন বিএসটিআই চট্রগ্রাম এ ফিল্ড অফিসার রিয়াজ হোসেন মোল্লা। এর ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী পিযুষ বণিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করে আদালত। একই বছরে ১৬ ফেব্রুয়ারী পিযুষ বণিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২১ দিন কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে আবারও শুরু করেন ভেজাল ঘির ব্যবসা। সোনাপুর বাজারের বি-সাহার সত্ত্বাধিকারী অপু সাহার ইন্ধনে এসব ঘি বাজারজাত করা হয়। অপু সাহা নিজে নকল ঘি তৈরি করে বাজারজাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যেমন রামগঞ্জ ও সমিতিরহাটসহ আশপাশের এলাকায় হোয়াইট কাউ গোল্ড ঘি, প্রিমিয়াম ও পিউর গাওয়া ঘি, রায়পুরে এসএ ঘি, মাদার ল্যান্ড ও হোয়াইট স্পেশাল, সদর উপজেলার পোদ্দার বাজার, মান্দারী খিলপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় বিশুদ্ধ ও এসএ ঘি নামে নাহিদ ফুড প্রোডাক্টস উৎপাদিতএসব ঘি নামি-দামি কোম্পনারী মনোগ্রাম ব্যবহার করে এবং লেভেল লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘির মূল্যে নেয়া হচ্ছে ৫০০/৫৫০শত টাকা। যার কোনটির নেই বিএসটিআইর অনুমোদন। এসব ঘি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুকির্পূন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সাধারণ মানুষ জানায়, একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে বেশি লাভের আশায় এসব ভেজাল ঘি প্রকাশ্যে বিক্রি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। নামী-দামী কোম্পানীর প্যাকেটের ওপর নিজস্ব তৈরিকৃত ভেজাল ঘির মনোগ্রাম লাগিয়ে ঢাকা-চট্রগ্রামের ভূয়া ঠিকানা দিয়ে এজেন্টদের মাধ্যমে তা বাজারজাত করছে তারা। মাঝে মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন নামেমাত্র অভিযান চালিয়ে দুই/একজনকে গ্রেপ্তার, জেলজরিমানা ও মামলা করা হয়। আবার জেল থেকে বের হয়ে পুরাদমে ফিরে যায় এ নকল ঘি ব্যবসায়। একই অবস্থায় জেলাসদরসহ অন্য উপজেলার প্রতিটি হাট-বাজারের চিত্রও।প্রশাসন দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ মালিক ও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে ভেজাল ঘি বিত্রিু বন্ধ করে প্রতারনার হাত থেকে রক্ষা করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন জেলাবাসী।
এ দিকে নাম না প্রকাশ করা সর্ত্বে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বি-সাহার মালিক অপু সাহা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব ঘি তৈরি করে বাজারজাত করছেন। যার কোনটির বিএসটিআইর অনুমোদন নেই। তবে অপু সাহার দাবী, কোন ভেজাল ঘি বিক্রি করেন না তিনি। ঘি দোকানে ওপন বিক্রি করেন। তার বিক্রিকৃত সকল ঘিয়ের বিএসটিআইর অনুমোদন রয়েছে। প্রয়োজনে তার ঘি ল্যাবেটরীতে পাঠিয়ে যাচাই-বাছাই করার দাবী জানান তিনি। অপরদিকে পিযুষ বণিক তার বিরুদ্ধে বিএসটিআইর মামলা ও কারাভোগের কথা স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে বলেন, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়ে এসব ঘি বাজারজাত করছেন। তবে প্রয়োজনে তার সাথে দেখা করার অনুরোধও করেন তিনি।
পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।